এবারের সরকারি হজ প্যাকেজের ব্যয় নজিরবিহীন

0
5

ডেস্ক নিউজঃ সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে গত বছরের তুলনায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা বেশি খরচ করতে হবে হজ গমনেচ্ছুদের। সর্বশেষ ২০২০ সালে হজ প্যাকেজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন খরচ ছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের খরচ ঘোষণা করা হয়েছে ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা।

এতে ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বেশি ব্যয় করতে হবে। যা হজের খরচ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন ঘটনা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগের বছরগুলোতে প্রতি বছর ১৫ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো প্যাকেজের দাম বাড়লেও এবার সেটা এক লাফে দেড় লাখে উঠেছে।

চলতি বছর হজে যেতে সরকারিভাবে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির বৈঠকে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সাংবাদিকের হজ প্যাকেজ সম্পর্কে ব্রিফ করেন। আজ বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের প্যাকেজ ঘোষণা করবে হজ এজেন্সির মালিকদের সংগঠন ‘হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’।

সরকারের নতুন হজ প্যাকেজ সম্পর্কে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারিভাবে হজে যেতে প্যাকেজ-১ এ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৪০ এবং প্যাকেজ-২ এ ৪ লাখ ৬২ হাজার ১৫০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে একটি প্যাকেজে খরচ ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৩০ টাকা।

২০২০ সালে প্যাকেজ ঘোষণা হলেও করোনার কারণে বাংলাদেশ থেকে কেউ হজে যেতে পারেননি। তখন হজ পালনে প্যাকেজ-১ এ ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ খরচ ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। প্যাকেজ-৩ এর খরচ ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর জন্য ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৫৩০ টাকার প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ এজেন্সিরা সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ ও প্যাকেজ-২ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৮ জুলাই সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি মোতাবেক বাংলাদেশ থেকে এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫৩ হাজার ৫৮৫ জনসহ মোট ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পাবেন।

খরচের যে যুক্তি দিল মন্ত্রণালয় : এবার হজের খরচ বাড়ার কারণগুলো উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান সাংবাদিকদের বলেন, ২০২০ সালে সৌদি রিয়ালের বিনিময় হার ছিল ২৩ টাকা। আজ এই হারের পরিমাণ ২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এটিও প্যাকেজ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এছাড়া সৌদি আরব পর্বে সব খাতের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, সার্ভিস চার্জ, কর যোগ হয়েছে।

মোয়াচ্ছাছার খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। বাড়ি ভাড়া বেড়েছে। প্যাকেজ মূল্যবৃদ্ধির জন্য এ কারণগুলো দায়ী। এ বছর তৃতীয় প্যাকেজ রাখা হয়নি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীরা পবিত্র মসজিদুল হারাম চত্বরের সীমানা থেকে সর্বোচ্চ ১০০০ মিটারের মধ্যে এবং প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীরা সর্বোচ্চ ১৫০০ মিটারের মধ্যে অবস্থান করবেন। বিমানের টিকিট বাবদ নেওয়া অর্থ এজেন্সি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারবে না।

হজযাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী সরাসরি পে-অর্ডারে মাধ্যমে এয়ারলাইন্সকে ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও পরিবহণ বাবদ গৃহীত অর্থ আইবিএসএনের (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার) মাধ্যমে সৌদি আরবে পাঠানো ছাড়া এজেন্সি উত্তোলন করতে পারবে না।

প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন করে গাইড নিয়োগ করা হবে জানিয়ে ফরিদুল হক খান বলেন, হজযাত্রীদের কুরবানি বাবদ ব্যয়ের অর্থ সৌদি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা সৌদি সরকার অনুমোদিত এ ধরনের অন্য ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার জন্য সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এজন্য হজযাত্রীকে প্যাকেজ মূল্যের অতিরিক্ত ৮১০ রিয়াল সমপরিমাণ ১৯ হাজার ৬৮৩ টাকা সঙ্গে নিতে হবে।

এদিকে হাব সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেছেন, বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত হোটেল ভিক্টরিতে হাবের কার্যালয়ে বেলা ১১টায় বেসরকারি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে।