যশোরের আকাশজুড়ে উড়ছে রং-বেরঙের ঘুড়ি

0
95
যশোরের আকাশজুড়ে উড়ছে রং-বেরঙের ঘুড়ি

ইমরান হোসেন পিংকু
দূরদিগন্ত পাড়ি দিয়েছে কালো মেঘের দল। ধূসর মেঘের আড়ালে পশ্চিম আকাশে সূর্যটা ছড়াচ্ছে শেষ আভা। আকাশজুড়ে উড়ছে রং- বেরঙের ঘুড়ি। সবার নজর অসীম আকাশে। লাল, নীল, সাদা, হলুদ রাঙাকাগজের ঘুড়ি উড়ছে সেখানে দুলে দুলে। এমনই এক দৃশ্য দেখা যাচ্ছে যশোরের আকাশে। করোনাভাইরাসে পরিবারপরিজন নিয়ে অলস সময় পার করছে যশোরবাসী। তাই তো পরিবারকে আনন্দ দিতে বিকেল হলেই পরিবারের ছোট-বড়রা মিলে বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। অন্যদিকে করোনার কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় পর্যাপ্ত কাগজ, সুতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় ঘুড়ি উৎপাদন হচ্ছে কম এবং দাম আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ঘুড়ি কারিগররা।

জানা যায়, ঘুড়ি উড়ানো এদেশে ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। মুঘল আমল থেকে খোলা মাঠে ঘুড়ি উড়ানো হত। কিন্তু ব্যস্ততার যাতাকলে পিষ্ট নাগরিক জীবনে ঘুড়ি উড়ানোর প্রবণতা কমেছে। ফলে কালের বিবর্তনে প্রাচীন এ ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে। কিন্তু বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতিতে মানুষ ঘরে অলস সময় পার করছে। তাইতো শহরে মানুষ একটু অন্যরকম বিনোদনের খোরাক হিসেবে বিকাল বেলায় ছাদে ঘুড়ি উড়াচ্ছেন। দোকান থেকে ক্রেতারা ঘুড়ি কিনতে না পারায় অনেকে বাড়িতে ঘুড়ি তৈরি করছে পাতলা কাগজ বা পলিথিন দিয়ে। ছোটরা পলিথিনের ব্যাগ কেটে নারকেল পাতার শলাকা দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করছে। আর বড়দের জন্য ঘুড়ি ব্যবসায়ীরা পাতলা কাগজ ও বাঁশের পাতলা চটা দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করে। তবে ঘুড়ির বাহারি নাম রয়েছে। যেমন চোখদ্বার, মালাদ্বার, পঙ্খীরাজ, চশমাদ্বার, কাউঠাদ্বার, চাপালিশ, চানদ্বার, একরঙা ইত্যাদি নামের ঘুড়ি।
এমনকি জাতীয় পতাকার রঙেও ঘুড়ি তৈরি করা হয়। তবে ঘুড়ির চেয়েও চোখ ধাঁধানো হয় এর লেজ। ঘুড়ি অনেক আকৃতির ও রং-বেরঙের হয়ে থাকে। এর সঙ্গে ঘুড়ি উড়ানোর লাটাইয়ের নামও বেশ মজাদার। যথা বার্টিওয়ালা, মুখবান্ধা, মুখছাড়া ইত্যাদি। পাতলা ঘুড়ি ভালো হলেও লাটাই যত ভারী হবে উড়াতে তত ভালো বলে জানা যায়।

যশোর শহর ঘুরে দেখা গেছে, পালবাড়ি, ধর্মতলা, ওয়াপদা, উপশহর, রেলস্টেশন, মণিহার এলাকার বাড়ির ছাদে ঘুড়ি উড়ানোর দৃশ্য। দোকানিরা বলছে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় ঘুড়ি উৎপাদন হচ্ছে কম। ফলে শহরে ঘুড়ি কিছুটা সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক ক্রেতা ঘুড়ি কিনতে এসে দোকান থেকে ফিরে যাচ্ছেন।

কারবালা এলাকায় কথা হয় শিক্ষক পলাশ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলায় গ্রামে বন্ধুদের সাথে মাঠে ঘুড়ি উড়াতাম। কিন্তু প্রযুক্তির দাপটে এখন ঘুড়ি উড়ানোর চলন নেই বললেই চলে। ফলে ছেলেমেয়েরা ঘরের মধ্যে ভিডিও গেমস খেলে সময় পার করে। অনেকদিন পরে ছেলে-মেয়েদের সাথে ঘুড়ি উড়াচ্ছি। সেই ছোটবেলার অনেক পুরানো স্মৃতি মনে পড়ছে। তবে অলস সময়ে ছেলেমেয়েদের সাথে ঘুড়ি উড়ানো উপভোগ করছি এবং সময়টাও ভালো যাচ্ছে।’

বারান্দী মাঠপাড়ার ঘুড়ি কারিগর ফয়সাল ইসলাম বলেন, ‘যশোরে ঘুড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু বাজারে পর্যপ্ত কাগজ ও সুতা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন হচ্ছে কম। অন্যদিকে যে পরিমাণ কাগজ ও সুতা পাওয়া যাচ্ছে তার দামও অনেক। ফলে আগে যেখানে বিক্রয় হত ৩০০ টাকা ‘শ’। সেখানে বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা ‘শ’। তারপরেও পর্যাপ্ত কাগজ ও সুতা পাওয়া যাচ্ছে না।’