সান্তাহার আজমেরী গ্ররুপ আবারোও ভারত থেকে নিম্নমানের গম আমদানী

0
84

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার সান্তাহার শহরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আজমেরী গ্ররুপের বিরুদ্ধে আবারো ভারত থেকে নি¤œমানের ও বস্তায় চারা গজানো গম আমদানী করার অভিযোগ উঠেছে।

এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভারত থেকে মেয়াদ উত্তীর্ন ও পোকা খাওয়া গম আমদানির অভিযোগ উঠেছিল। রেলপথে আনা ভারতীয় এ সকল গম বগুড়ার সান্তাহার জংশন ষ্টেশনে খালাস পয়েন্টে গত তিন দিন ধরে ওই গমগুলো খালাস করা হচ্ছে। বিষযটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক হইচয় পরেছে।

জানাযায় , সান্তাহার শহরের আজমেরী গ্ররুপ নামের ওই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ দিন থেকে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া গম দিয়ে আটা, ময়দা, সুজি ও ভুসি উৎপাদন করে আসছে। বর্তমানে দেশীয় গমের দাম চড়া এবং প্রয়োজনীয় পরিমান না মেলার কারনে ভারত থেকে পোকা খাওয়া নি¤œমানের ও গমের বস্তায় চারা গজানো গম আমদানী করছে প্রতিষ্ঠানটি।

আমদানী করা ভারতীয় গম ভারতের রেলওয়ে ওয়াগনের মাধ্যমে আসছে বগুড়ার সান্তাহার ষ্টেশনের মারগুদাম ও কলেজ রোডের খালাস পয়েন্টে গত তিনদিন ধরে খালাস করা হচ্ছে গমগুলো। সেখানে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় গম গুলোর অধিকাংশ নি¤œমানের এবং বস্তায় ফুটো করে গজিয়েছে গমের চারা। অনেক বস্তায় গম পচে বস্তাসহ নষ্ট গেছে।

আজমেরী গ্ররুপ গত ফেব্রয়ারি মাসে ভারত থেকে নিয়ে আসে পোকা খাওয়া ও মেয়াদ উত্তীর্ন প্রায় আড়াই হাজার মেট্টিক টন গম। এবারও ৪২টি গম বোঝাই ভারতীয় ওয়াগনে প্রায় আড়াই হাজার মেট্রিক টন গম আনা হয়েছে। সেগুলো খুব দ্ররুত গতিতে ও তড়িঘড়ি করে ওয়াগান থেকে খালাস করে ট্রাকযোগে ওই প্রতিষ্ঠানের মিল ও গুদামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সান্তাহার শহরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যবসায়ি বলেন,আমরা আজমেরী গ্রুপের আজমেরী আটা,ময়দা ও সুজি বিকি করে আসছি দীর্ঘ দিন থেকে। কিন্তু শহরের মানুষের মুখে পোকা খাওয়া গম আমদানির কথা শুনে ওই প্রতিষ্ঠানের পন্য বিক্রি করা নিয়ে আমরা আতংকিত।

এ বিষয়ে খালাস এলাকায় থাকা আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আকরাম হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে ভেজার কারনে কিছু গমের বস্তায় চারা গজিয়েছে বাঁিক সব গম ভাল। তিনি জানান, আজমেরী গ্ররুপের মালিক অপরিচিত কারো ফোন ধরেন না বা কথা বলেন না। আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে পাওয়া গম আমদানী সংক্রান্ত কাগজপত্র অনুসন্ধান করে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই) এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মান নির্ধারণ সংক্রান্ত কোন কাগজপত্র মেলেনি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম রব্বানী বলেন, আমদানী করা গম বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই, এটি বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের বিষয়। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউটের (বিএসটিআই) বগুড়া কার্যালয়ের পরিদর্শক জুলফিকার আলী বলেন, গম থেকে উৎপাদিত খাদ্য আমরা পরীক্ষা করে সনদ দেই। গম দেকভালের দায়িত্ব জাতীয় ভোক্ত অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বগুড়া কার্যালয়ের সহকারী পরিাচালকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের মালিক রাকেশ সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেন নি। তিনি বলেন, দ্ররুত বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সীমা শারমিন বলেন, এটি দেকভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কৃর্তপক্ষকে বিষয়টি অবগত করবেন । ###