বিএডিসির গুদাম থেকে সার উধাও

0
64

ডেস্ক নিউজঃ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)র গুদাম থেকে সার উধাও হয়ে গেছে। সিলেটের গুদামে মজুত ৪ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন টিএসপি ও এক দশমিক ৫ মেট্রিক টন ডিএপি সারের হদিস মিলছে না। এছাড়া নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও লুটপাট চলছে। সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে এসব অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে গতকাল শুক্রবার বিএডিসি’র চেয়ারম্যান ড. অমিতাভ সরকার ইনকিলাবকে ফোনে বলেন, আসলে আমি নতুন এসেছি। করোনার মধ্যে যোগদান করেছি। মাঠ পর্যায়ের অফিসের বিষয়গুলোয় এখনো হাত দিতে পারিনি।

তারপরও ফসলের গুদাম থেকে সার উধাও হওয়ার বিষয়টি অডিট প্রতিবেদনে এসেছে। তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে বিএডিসির সদস্য পরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা) ড. এ কে এম মুনিরুল হক এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)-এর সিলেট গুদাম থেকে উধাও হয়েছে মজুত রাখা সার। ৪ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন টিএসপি ও এক দশমিক ৫ মেট্রিক টন ডিএপি সারের হিসেব মিলছে না।

তদন্তকারীদের অনুসন্ধানে সিলেট বিএডিসির কদমতলী অফিসের যুগ্ম-পরিচালকের (সার) ২০১৬-১৯ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা করা হয়। এতে ৪ দশমিক ৬৫ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ডিএপি সারের ঘাটতি ধরা পড়ে। যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা।
২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত এ তদন্ত করে সরকারের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। তাদের তদন্তে সার উধাও হওয়ার ঘটনা বের হয়েছে আসে। তিনটি বিক্রয়কেন্দ্রে সারের গরমিল ধরা পড়ে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছেÑ সিলেট, শায়েস্তাগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ। সিলেট সার গুদামে ১ দশমিক ৯ মেট্রিক টন টিএসপি, শায়েস্তাগঞ্জ গুদামে দশমিক ৫ মেট্রিক টন ডিএপি ও সুনামগঞ্জ গুদামে দশমিক ৭৫০ মে. টন টিএসপি, লাউয়াই সার গুদামে ২ মেট্রিক টন টিএসপি এবং সিলেট প্রি-ফেব্রিকেটেড সার গুদামে দশমিক ৫৫০ মেট্রিক টন ডিএপি সারের ঘাটতি পাওয়া যায়।

সরবরাহকারী বা পরিবহনকারী ঠিকাদারের কাছ থেকে এ সার আদায়যোগ্য বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। সারগুলো বিএডিসিকে সরবরাহ করা হয়েছে কিনা তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে সারের মূল্য পরিশোধ সংক্রান্ত বিল ও ভাউচার চট্টগ্রাম বিএডিসির যুগ্ম পরিচালকের (সার) অফিসে রক্ষিত আছে।

এ অবস্থায় বিএডিসির সংশ্লিষ্ট অডিট প্রতিষ্ঠান বলছে, বিএডিসি চট্টগ্রামের দফতরগুলো থেকে সারের ঘাটতি মূল্য সংগ্রহ করে জানানো হবে। এছাড়া ৭৮ হাজার ৫০৮টি প্যাকেটের জন্য সমপরিমাণ লিফলেটের প্রয়োজন হলেও কেনা হয়েছে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৫টি।

বিএডিসি নিয়ন্ত্রণাধীন নরসিংদীর ডাল ও তৈল বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটেছে। তা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের হিসাব নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়কালে প্রক্রিয়াজাত করা বীজের চালানপত্র, বিল-ভাউচার, ক্যাশ বই, ব্যাংক বিবরণী নিরীক্ষা করে অতিরিক্ত লিফলেট ক্রয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির ৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি প্যাকেটে ১ কেজি ধরে ৭৮ হাজার ৫০৮ কেজি সরিষা বীজ প্রক্রিয়াজাত করতে সমপরিমাণ প্যাকেটের দরকার। প্রতিটি প্যাকেটে ১টি করে লিফলেট লাগানো হলেও সমপরিমাণ লিফলেটের প্রয়োজন।

কিন্তু দুটি বিলের মাধ্যমে ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৮৬৫টি লিফলেট কেনা হয়। প্রতিটি লিফলেটের দাম ৬০ পয়সা করে অতিরিক্ত ৫ লাখ ৭৪ হাজার ৪১৪টি লিফলেট কেনা হয়েছে। অতিরিক্ত লিফলেট ক্রয়ে জড়িতদের দায় নির্ধারণ করে আপত্তিকৃত টাকা আদায় করে প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করতে বিএডিসিকে বলা হয়েছে।