মহেশপুরের স্কুল ছাত্র রাতুলকে ফোনে ডেকে হত্যা করে দুলাভাই

1
110

মহেশপুর প্রতিনিধিঃ- যশোরের চৌগাছায় পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কচস্টেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার এসএসসি পরীক্ষার্থী এহতেশাম মাহমুদ রাতুলকে হত্যা করে তার আপন দুলাভাই (বোন জামাই) শিশির আহাম্মেদ (১৯)। শিশির কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে।

শ্বশুরের করা অপমানের প্রতিশোধ নিতেই শ্যালককে হত্যা করে সে যশোর ডিবি পুলিশকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১০টায় যশোর ডিবি পুলিশের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামে সিএমপি বন্দর থানা এলাকা থেকে যশোর ডিবি পুলিশের একটি দল হত্যাকান্ডের একমাত্র আসামী শিশিরকে আটক করে।

শুক্রবার রাতেই তাকে চৌগাছার লস্কারপুর শ্মশান মাঠে মৃতদেহ উদ্ধারের স্থলে নেয়া হয়। সেখানে শিশিরের স্বীকারোক্তি মোতাবেক রাত সাড়ে নয়টায় মৃতদেহ উদ্ধার হওয়া পাটক্ষেতের পাশ্ববর্তী আরেকটি পাটক্ষেত থেকে হত্যার শিকার রাতুলের গায়ের গেঞ্জি, মুখ বাধার স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ ও হ্যান্ড গ্লোভস এবং রাতে শিশিরের বাড়ি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কাশিপুর গ্রাম থেকে নিহত রাতুলের ব্যবহৃত মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়।

লিখিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোর পুলিশ সুপারের পক্ষে ডিএসবির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম জানান গত ১২ জুলাই (সোমবার) চৌগাছা উপজেলার লস্কারপুর শ্মশান মাঠের একটি পাটক্ষেত থেকে মুখে স্কচটেপ বাধা অবস্থায় ১৮ বছর বয়সী অজ্ঞাত যুবকের মৃতদেহ উদ্ধার করে চৌগাছা থানা পুলিশ।

পরবর্তীতে মৃতের আত্মীয়-স্বজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে ও ছবি দেখে মৃতের মৃতদেহ সনাক্ত করে উদ্ধারকৃত লাশের নাম এহতেশাম মাহমুদ রাতুল (১৮)। রাতুল ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বাজিপোতা গ্রামের মাঃ মহিউদ্দীনের ছেলে এবং মহেশপুর থানার সামবাজার এম.পি.বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্র।

নিহতের পরিবার পুলিশকে জানান ১১ জুলাই (রোববার) আড়াইটায় বাড়ী থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যা ৭টায় মুঠোফোনে পিতার সাথে যোগাযোগ হয়। এরপর হতে সে নিখোঁজ ছিল। এ ঘটনায় নিহত রাতুলের পিতা ১৩ জুলাই অজ্ঞাত আসামীদের নামে চৌগাছা থানায় মামলা করেন। যার নং-০৮।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয় মামলাটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস হওয়ায় যশোরের পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম (বার) পিপিএম মামলার তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) দেন। দায়িত্ব পেয়ে জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রূপন কুমার সরকার এর নেতৃত্বে ১৬ জুলাই (শুক্রবার) দুপুর ১.৩০ মিনিটে মামলার কর্মকর্তা ডিবি’র উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ শামীম হোসেনসহ ডিবি পুলিশের একটি দল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালায়।

সেখান থেকে মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামী ও মূল হত্যাকারী ভিকটিমের ভগ্নিপতি শিশির আহম্মেদকে(১৯) গ্রেফতার করে। তার স্বীকারোক্তি মতে একই দিন রাত ০৯.৩০ ঘটিকার সময় চৌগাছা থানা লস্করপুর শ্মশান মাঠে মামলা ঘটনাস্থলের অদূরে একটি পাটক্ষেত থেকে ভিকটিমের পরিহিত বস্ত্র ও হত্যা কাজে ব্যবহৃত স্কচটেপ ও হ্যান্ড গ্লোভস এবং একই তারিখ ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর থানাধীন কাশিপুর গ্রামের শিশিরের বাড়ী থেতে নিহত রাতুলের ব্যবহৃত মুঠো ফোন সেট উদ্ধার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশির ডিবি পুলিশকে জানিয়েছে, শ্বশুর একদিন বাড়ীতে ডেকে এনে অপমান অপদস্থ করে। রাগে-ক্ষোভে সেই থেকে তার একমাত্র ছেলেকে (রাতুল) মেরে ফেলার পরিকল্পনা করতে থাকে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক শিশিরকে তার ভগ্নিপতি শিশির আহাম্মেদ মোবাইল ফোনে (নিহত রাতুলের বোনের ফোন দিয়ে) ডেকে নিয়ে মামলার ঘটনাস্থলে গিয়ে গাঁজা সেবন ও কোমল পানীয় মজো এর মধ্যে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে ভিকটিমকে খাওয়ায়।

এতে রাতুল অজ্ঞান হয়ে গেলে আসামী শিশির নাক মুখে স্কচ টেপ দিয়ে মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর ঘটনাস্থলে লাশ গুম করার জন্য ফেলে রাখে এবং রাতুলের গায়ের গেঞ্জি, স্কচ টেপের বাকি অংশ ও হ্যান্ড গ্লোভস খুলে ঘটনাস্থলের পাশে আরেকটি পাট ক্ষেতে ফেলে রাখে। এছাড়া রাতুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন সেটটি সিম খুলে শিশিরের গ্রামের বাড়ি নিজের কক্ষে ইটের নীচে পুতে রাখে।

মোবাইল ফোনে নিহত এহতেশাম মাহমুদ রাতুলের পিতা শামবাজার এমপিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি ও বাজিপোতা গ্রামের মহিউদ্দিন জানান, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তার বড় মেয়ের ইচ্ছায় শিশিরের সাথে তার বিয়ে হয়। সন্ত্রাসী প্রকৃতির হওয়ায় এ বিয়েতে তার মত ছিল না। তবুও মেয়ের ইচ্ছার কারনে তিনি মেনে নেন।

সে সময় তিনি মেয়েকে বলেন তোমার লাইফ পার্টনারের সাথে তুমি থাকো। বিয়ের পর থেকেই তাদের সাথে সম্পর্ক ছিল না। মেয়ে-জামাই ঢাকায় থাকতো। একমাস আগেই তারা নিজেদের গ্রামের বাড়িতে এসে আমার ছেলেকে (রাতুল) হত্যার পরিকল্পনা করতে থাকে। এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডেকে নিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। তিনি বলেন ‘আমি আমার ছেলে হত্যার সুষ্ঠ বিচার চাই। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’

1 COMMENT