সুজনকে হারিয়ে তানোর পৌরবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

0
99
আলিফ হোসেন, তানোর প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীর তানোর পৌর নির্বাচনে  আওয়ামী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী, বিশিস্ট সমাজ সেবক, আদর্শিক ও তরুন নেতৃত্ব আলহাজ্ব আবুল বাসার সুজন। পৌরবাসীর অভিমত দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার সকল যোগ্যতা থাকার পরেও কেবল মাত্র মনোনয়ন প্রাপ্তির অশুভ প্রতিযোগীতার কারণে সুজনকে মনোনয়ন বঞ্চিত করা হয়েছে।
এতে পৌরবাসীর হৃদয়ে হচ্ছে রক্তক্ষরণ। কারণ পৌরবাসী দীর্ঘদিন ধরে সুজনকে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে মনোনয়ন দেবার দাবী করে আসছেন। পৌরসভার নেতারা রাজনীতি করে যেখানে পৌঁচ্ছাতে চাই, সেখান থেকে নেমে এসে সুজনের রাজনীতির শুরু। স্থানীয় সাংসদের আহবানে সাড়া দিয়ে সুজন মাঠে নেমেছেন তিনি কখানোই চাওয়া-পাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব বা মুল স্রোতের বিপরীতে অবস্থান নেননি, কোনো লোভ-লালসার স্রোতে গা ভাসিয়ে দেননি।
এছাড়াও তানোর পৌরসভা থেকে সুজনের নেবার কিছু নাই তবে দেবার অনেক আছে। পৌরসভায় বছরে যে বাজেট হয় আয়কর, জাকাত, দান-অনুদান ইত্যাদির মাধ্যমে তার থেকে বেশী অর্থ সুজনের পরিবার প্রতিবছর ব্যয় করে। সুজন তার কাজের মাধ্যমে সেটার প্রমাণও দিয়েছে। গত তিন বছরে পৌর এলাকার মসজিদ-মন্দির-গীর্জা-রাস্তা-ঘাট অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, কর্মহীন মানুষের খাদ্য সহায়তা ইত্যাদি কর্মসুচিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন। যেটা মেয়র ও পৌরসভার রাজনৈতিক নেতারা করতে পারেনি। অথচ এরাই আবার সুজনের বিরুদ্ধে বিষোদাগার করে, এরা নিজেরা মানুষের কল্যানে কিছু করতে পারে না, আবার অন্যরা করলে সেটা তারা সহ্য করতে পারে না।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণের অভিমত, তানোর পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে নেতার যে ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক পরিচিতি, আর্থিক স্বচ্ছলতা, নেতৃত্বগুন এবং কর্মী বাহিনী প্রয়োজন তার সবগুলো সুজনের মাঝে বিদ্যমান রয়েছে।
স্থানীয়রা বলছে, সুজন মেয়র হলে পৌরসভায় একটি পশুহাট স্থাপন করা হতো,এটি হলে পৌরসভার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতো যেখানে শত শত মানুষের কর্ম সংস্থানের সুযোগ ছিল, সেটা থেকে পৌরবাসী বঞ্চিত হলো। এছাড়াও রাজনৈতিক কর্মসুচি সফল করতে নেতাদের যে ধরনের আর্থিক স্বচ্ছলতা প্রয়োজন সেটা অধিকাংশ নেতার নাই। এখানে এখানো কোনো কর্মসুচি হলে নেতারা এমপির দিকে চেয়ে থাকেন কখন এমপি টাকা দিবে তখন কর্মসুচি হবে। তবে সুজন সভাপতি হলে এই সমস্যা থাকবে না। এসব বিবেচনায় পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে সুজনের কোনো বিকল্প নাই।
এদিকে পৌরবাসীর মধ্যে এই বোধদয় সৃস্টির পর রাজনীতিতে নয়ামেরুকরণের সুচনা হয়েছে। পৌরবাসী সুজনকে আগামী দিনের সম্ভাব্য মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বিবেচনা করেই তাঁর ওপর আস্থাশীল হয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, তানোর পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সভাপতি পদে আসতে চাই সুজন। তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে আশার ইচ্ছে প্রকাশ করে মাঠে নামেন ও নেতাকর্মীদের মাঝে নিজের অবস্থান তুলে ধরে প্রচারণা শুরু করেন। এদিকে তৃণমুলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের আকুন্ঠ সমর্থন সুজনকে আশাবাদী করে তুলেছে। তৃণমুলের ভাষ্য, সুজন সভাপতির দায়িত্ব পেলে ঐক্যবদ্ধ পৌর আওয়ামী লীগ উপহার দিবেন এবং তার সেই সক্ষমতা রয়েছে। সুজন সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন।ইতমধ্যে তিনি তার সেই সক্ষমতার জানান দিয়েছেন। তৃণমুল বলছে  তানোর পৌর আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করতে কখানোই কোনো ভুমিকা রাখতে পারনি বরং এমপির বিরোধীতা করে পৃথক বলয় সৃস্টির নামে জামায়াত-বিএনপির বি-টিম হয়ে নৌকাবিরোধী অবস্থান নিয়ে দলের ক্ষতি করেছে। এসব কারণে পৌর আওয়ামী লীগের তৃণমুল নতুন নেতৃত্ব দিতে স্থানীয় সাংসদ ও জেলার নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ করেছেন। এদিকে তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে আবুল বাসার সুজন মাঠে নেমেছেন। আগামিতে সুজন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। #