দলীয় প্রতিক তৃণমূলে দলের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে

0
41
তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহী অঞ্চলে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সবাই নৌকা পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কোনো মতে নৌকা পেলেই বিজয় এই মানসিকতা সৃস্টির পর নেতারা আর কর্মীদের খেয়াল রাখার প্রয়োজন মনে করছে না।
এতে তৃণমুলে দলের সাংগঠনিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমুলের কর্মী-সমর্থক ও সংগঠনের প্রতি খেয়াল না রেখে তারা হাতে গোনা দু’একজন নেতাকে ম্যানেজ করতে শুরু করেছে মহা
কর্মযজ্ঞ। মাননীয প্রধানমন্ত্রীর অনুগত আওয়ামী লীগের দুর্দীনের পরীক্ষিত-আদর্শিক ও নিবেদিতপ্রাণ  কর্মী-সমর্থকদের দিকে তাদের তাকানোর সময় নেই, দরকারও নেই। কেউ কেউ বলছেএলাকার ও জনগণের কল্যাণে কাজ করা  বোকামী ছাড়া কিছুই নয় এরই মধ্যে তার প্রমাণ তারা পেয়ে গেছে। এলাকায় যতোই জনপ্রিয়তা থাক নেতার সুপারিশ ব্যতিত নৌকা কপালে জুটছে না।
অধিকাংশক্ষেত্রে ভাই-ভাতিজা, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, কর্মচারী এমনকি তল্পীবাহকদের যোগ্যতা কম বা না থাকলেও  বিভিন্ন দলীয় সংগঠনের মূল পদে বসিয়ে ও স্থানীয় বিভিন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়ে যেকোনো কৌশলে নির্বাচিত করে নিয়ে আশা হচ্ছে। এতে আদর্শিক, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ অনেক জনপ্রিয় নেতৃত্ব রাজনীতি থেকে নির্বাসিত হতে বাধ্য হচ্ছে বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।
অথচ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বেগবানসহ দলীয় নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন ও সম্মানিত করতে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে নৌকা প্রতীক দিয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। কিন্ত্ত একশ্রেণীর লোভী মুনাফাখোর রক্ত পিপাসু জননেত্রীর এই মহৎ উদ্যোগকে কলঙ্কিত করে চলছে বলে মনে করছে তৃণমুল।
স্থানীয় সুত্র বলছে, বিভিন্ন সরকারি ভাতা, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ত্রাণের চাল, মানবিক সহায়তা এবং রাস্তাঘাটসহ উন্নয়ন বরাদ্দের বড় অংশই যথাযথভাবে ব্যয় করছেন না এসব নির্বাচিতদের অনেকেই। এতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন অনেকটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে।এসব কারণে উন্নয়ন, সেবা ও সহযোগিতা বঞ্চিত হচ্ছে কম বেশী।
প্রায় প্রতিটি এলাকার জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। জনগণ বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ; দলীয় নেতাকর্মীরাও গুরুত্বহীন ও ক্ষুব্ধ। এই বঞ্চনা ও ক্ষুব্ধতা নৌকা প্রতীক এবং দলীয় হাইকমান্ডের দিকে দিনে দিনে ধাবিত হচ্ছে। গর্বের নৌকা মার্কা হারিয়ে ফেলতে বসেছে তার ওজন ও ঐতিহ্য বলে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।
অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে খুব কম প্রার্থীই আছেন যারা জনকল্যাণে বা নেতাকর্মীদের সেবায় নিয়োজিত থাকার চেষ্টা করেন। কারণ, এখন জনসমর্থন,  উন্নয়ন এবং দলীয় নেতা কর্মীদের পাশে থাকার খুব একটা দরকার নেই; শুধু প্রয়োজন যে কোন কায়দায় নৌকাটা নিজের করে নেয়া। তাই তারা হন্যে হয়ে ছুটছে টাকা কামিয়ে নৌকা হাসিল করতে।
এই প্রতিযোগিতায় বাড়ছে গ্রুপিং কোন্দল এবং রাজনৈতিক অশান্তি; বিনষ্ট হচ্ছে দলীয় ঐক্য ও সংহতি এমনটি অভিমত তৃণমুলের। এভাবে অনেক এলাকাতেই আওয়ামী লীগকে অজনপ্রিয় করে দেয়া হচ্ছে।