স্মার্টফোনে আসক্তির লক্ষণ

1
82
ডেস্ক নিউজঃ একটি স্মার্টফোন মানব জীবনে ব্যাপক গুরুত্ব বহন করতে পারে। কিন্তু স্মার্ট ফোনের ব্যবহার যখন ব্যক্তি জীবনে অনেকটা আসক্তি হয়েদেখা দেয়, যা জীবনের স্বাভাবিক কাজ-কর্ম, বিদ্যালয়ের পাঠ ও ব্যক্তির সাথে ব্যক্তির আন্তঃ সম্পর্ক ব্যহত করে, তাহাছাড়া ব্যক্তি যখন স্যোসাল মিডিয়া অথবা মোবাইল গেমে বেশি সময় ব্যয় করে, যখন ব্যক্তি মোবাইলে আগত টেক্ম, এ্যাপস বা ইমেইল বারবার চেক করতে বাধ্য হয়, যা জীবনে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।

 স্মার্টফোন আসক্তি  কারণ– কোন কিছু যা সংখ্যায় যথেষ্ট, যাতে সহজে প্রবেশযোগ্য, যা কিছু নতুন, দ্রুতগতি সম্পন্ন, যা তথ্য ও প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কযুক্ত- তাহা সকলকে সহজে আকৃষ্ট করে। যখন একটি বাচ্চা দেখতে পায় যে তার পিতা-মাতা, পরিবা রের সদস্যরা, তার চার পাশের লোকজন ফোন ব্যবহার করছে, তখন বাচ্চারা এটাকে প্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে গ্রহণ করে এবং আস্তে আস্তে আসক্তিতে আচ্ছান্ন হয়ে পড়ে।

মোবাইল আসক্তির মনোবৈজ্ঞানিক কারণ : সামাজিক উদ্বিগ্নতা, বিষণœতা, একাকিত্ব, অমনোযোগি তা, ঝোঁক প্রবণতা ইত্যাদি কারণে মোবাইলে আসক্তি তৈরি হয়।
স্মার্টফোনে সংক্রান্ত কারণ : বারবার গান শোনা, মোবাইল গেম খেলা করা, চ্যাটিং করা এবং বন্ধুদের কল করা, সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহার, মোবাইলে সিনেমা/নাটক দেখা, স্মার্ট ফোনে পর্নোগ্রাফির সহজ লভ্যতা, সাইবার বুলিং বা সাইবার ক্রাইমের সুযোগ থাকার কারণে আসক্তি তৈরি হয়।
স্মার্টফোনে আসক্তির লক্ষণ : (১) বিমুগ্ধকারী আচারণ, ঘুমের অভাব দেখা দেওয়া, (২) খাবার টেবিল বা পড়ার টেবিলে স্মার্ট ফোনের ব্যবহার, (৩) বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার প্রাদুর্ভাব, (৪) পিঠে ব্যথা, মাথা ব্যথা, চোখে ব্যথা ইত্যাদি অভিযোগ করতে শোনা যায়, (৫) সামাজিক সম্পর্ক হ্রাস পাওয়া, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় গল্প বাদ দিয়ে স্মার্ট ফোন চালানো, (৬) বিদ্যালয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অবহেলা ও সামাজিক দায়িত্বহীনতা দেখা দেয়, (৭) শারীরিক মুভমেন্ট কমে যায়, (৮) সর্ব কাজে মেজাজের অস্থিরতা, হতাশা, বিরক্তিকর মনোভাব প্রদর্শন করে থাকা।স্মার্ট ফোনের ব্যবহারে ক্ষতিকর প্রভাব : (১) দৃষ্টি সংক্রান্ত সমস্যা : অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার দৃষ্টি শক্তিকে সমস্যাগ্রস্ত করে তোলে। যেমন- চোখ লাল হওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি এবং দৃষ্টিগত সমস্যা দেখা দেয়। (২) ঘুমগত সমস্যা : স্মার্ট ফোন ব্যবহারজনীত কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার দরুণ প্রয়োজনীয় ঘুমকে ত্যাগ করে হোম ওয়ার্ক সম্পন্ন করতে হয়, যে কারণে ছাত্রদের প্রয়োজনীয় ঘুমের ঘাটতি সৃষ্টি হয় ও পাশাপাশি প্রাকৃতিক ঘুম চক্রে বিঘœ সৃষ্টি হয়। (৩) মনোযোগ কেন্দ্রীকরণে সমস্যা : স্মার্ট ফোনে ইন্টারনেটের বিষ্ময়কর পৃথিবী শিক্ষার্থীদের মনকে অবিরত লেখাপড়া হতে বিচ্যুত করছে। তাহা ছাড়া শিক্ষার্থীদের স্মার্ট ফোনে ব্যবহার মনোযোগকে বিঘিœত করে থাকে। (৪) সাইবার ক্রাইম জনিত সমস্যা : সাইবার ক্রাইম বিশেষ করে সাইবার বুলিং বৃদ্ধি পাওয়ার দরুণ শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষণœতা দেখা দেয় যা তাদের পড়াশোনার উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে। (৫) মোবাইলে গেম : গেম আসক্তির কারণে বেশির ভাগ শিশু বিদ্যালয়ে পালিয়ে খেলায় মত্ত হয় ফলে তারা বিদ্যালয় সংক্রান্ত বাড়ির কাজ করতে ব্যর্থ হয়, পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয় । (৬) সামাজিক সম্পর্ক অবনতি : মোবাইলে গেম আসক্তি কারণে বাচ্চাদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আন্তঃসম্পর্ক ক্ষেত্রে এক প্রকার শূন্যতা সৃষ্টি হয়। (৭) অন্যান্য শারীরিক সমস্যা : স্মার্ট ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার, ব্যবহারকারীর মধ্যে করপোরাল ট্যানেল সিনড্রম নামক এক প্রকার রোগ সৃষ্টি করে। তাহা ছাড়া অন্যান্য কিছু শারীরিক সমস্যা যেমন- মাথা ঘোরা, চোখে ব্যথা করা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয় যা শিক্ষার্থীর লেখা পড়ার উপর বিরুপ প্রভাব বিস্তার করে। (৮) অস্থির আচরণ ও আক্রমনাত্মক আচরণ প্রদর্শন : মোবাইল ব্যবহারে বার বার ফিরে আসার জন্য শিশু ব্যস্ত থাকে। যখন মোবাইল ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয় তখন খিট-খিটে মেজাজ, অস্থিরতা এবং আক্রমনাত্মক আচরণ প্রদর্শন করে থাকে। (৯) বিকাশমান ধারা হ্রাস পাওয়া : প্রযুক্তির ব্যবহার কারণে বাচ্চাদের ভাষার বিকাশ ব্যহত হচ্ছে যা শিশুর একাডেমিক কার্যক্রমের উপর নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করছে। (১০) সমাজ বিরোধী ব্যক্তি ত্বের বিকাশ : স্মার্টফোনের অপরাধমূলক বিশেষ দিকগুলোর সহজ লোভ্যতার বিশেষ অপশিক্ষা শিশুদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্য ক্রমের ধারণা প্রদানে সহায়তা করে থাকে। এরূপ অপশিক্ষা শিশুদের অপরাধ প্রবণমূলক ধারায় সম্পক্ত করে।স্মার্ট ফোন ব্যবহার হ্রাসকরণে কতিপয় শক্তিশালী কৌশল : (১) একই ডিভাইসে সবরকম কাজ বন্ধ করা : বর্তমান যুগে বই, নিউজ পেপার, ম্যাগাজিন, ক্যামেরা, এমপি থ্রি, কম্পিউটার ইত্যাদি বিষয় সমূহ অনেকের নিকট এখন মোবাইল ফোন নির্ভর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটা আমাদের অনেক সুবিধা সৃষ্টি করে ছে এটা সত্য। পশ্চাতে এরূপ ব্যবস্থা আমাদের মোবাইলের উপর আসক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে। (২) স্ক্রীন টাইম সংক্ষিপ করা : স্ক্রীন টাইম সংক্ষিপ করার জন্য প্যারেন্ট কন্ট্রোল এ্যাপ এর কিছু কৌশল বড় ধরণের সাপোর্ট হতে পারে। এ প্রকার এ্যাপ এর কৌশল শিক্ষার্থীদের আত্ম- নিয়ন্ত্রণ ও অধিক নিয়ম-শৃঙ্খলী হতে সহায়তা করে। (৩) প্রতিদিন রুটিনে ফোন ফ্রি সময় প্রতিষ্ঠিত করা : এটা আন্তরিক ভাবে মনে রাখা প্রয়োজন যে জীবন ফোনের জন্য নয়, ফোন জীবনের জন্য। দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় (৩-৪) ঘন্টা মোবাইল ফ্রি সময় নির্ধারণ করতে পারা মোবাইল ফ্রি জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়ক। (৪) মোবাইলকে লক করে রাখা : কিছু এ্যাপ আছে যা ফোনকে লক করতে সহায়তা করে। কখন ফোন লক হবে তাহা যেমন শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট করতে পারে, তেমনি আবার তা দিনের নির্দিষ্ট ব্যবহার সময় অতিবাহিত হলেই ফোন স্বয়ংক্রিয় ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে- এমন কিছু কৌশল মোবাইল ব্যবহারকে হ্রাস করতে পারে। (৫) খারাপ অভ্যাস সমূহ প্রতিস্থাপন করা : যখন তুমি বোর ফিল করো বা অলস সময় কাটাতে চাও, তখন মোবাইলের বদলে ভালো লাগার বইয়ের দিক নজর দেওয়া যেতে পারে। আস্তে আস্তে বই পড়ার অভ্যাস তোমাকে মোবইলকে ছাড়তে সহায়তা করবে। (৬) নোটিফিকেসন সমূহ বন্ধ রাখা : যত দূর সমূহ ফোনের নোটিফিকেসন সমূহ বন্ধ রাখার চেষ্টা করবে, এতে মোবাইলের প্রতি মনোযোগ/আসক্তি ক্রমে হ্রাস পাবে। (৭) মোবাইল ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠা করা : কিছু ক্ষেত্র তৈরি করা যেমন- পড়ার ঘর, খাবার টেবিল, পারিবারিক ঘর নিদিষ্ট স্থানের জন্য ফোন নিষিদ্ধ রাখা।
পরিবারের অবিভাবকদের করণীয় : (১) নিজেকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করুন, (২) সন্তানের সাথে ভিডও গেম ব্যাপারে কথা বলুন, (৩) ফোন ব্যবহারের জন্য সন্তানকে নির্দিষ্ট নিয়ম করে দিন এবং তাহা প্রতিপালনে সহায়তা করুন, (৪) সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বের হোন, (৫) পারিবারিক পরিবেশ আবেগীয় ভাবে তৈরি করুন।

1 COMMENT

Comments are closed.