আত্রাইয়ে ঝিনুকে মুক্তা চাষ করে সফল কবির

0
32

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ নওগাঁর আত্রাই উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জগদাশ গ্রামের ২০ উদ্যোমী যুবক তাদের পুকুরেই ঝিনুকে মুক্তা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন।

পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি মুক্তা চাষ ব্যাপক সাড়া ফেলেছে পুরো এলাকা জুরে। জগদাশ গ্রাম এখন মুক্তা গ্রাম বলে পরিচিত লাভ করেছে।

ওই গ্রামের উদ্যোক্তাদের প্রথমে পাগল বললেও তাদের সাফল্য দেখে এখন আগ্রাহী হচ্ছেন অনেক বেকার যুবক। মুক্তা চাষে ঝুঁকি কম ও লাভজনক। উদ্যোক্তারা বলেন, পুকুরের পানিতে তিন ফুট পর পর ভাসছে ফাঁকা প্লাষ্টিকের বোতল।

সেখানে পানির এক ফুট নিচে রয়েছে নেট। সে সব নেটে রয়েছে ২০টি করে জীবন্ত ঝিনুক। এ ঝিনুক থেকেই উৎপাদন হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইনের মুক্তা।

বিল ও জলাশয় থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করে প্রথমে সেই ঝিনুকের এক পাশে টিশু পদ্ধতিতে প্রতিস্থাপন করা হয় নানা আকৃতির প্লাষ্টিকের নিউক্লাস। ৭ থেকে ৮ মাস এসব ঝিনুক থাকে পানিতে। মাঝে মধ্যে এসব ঝিনুক তুলে পরিচর্চা করেন চাষিরা। পরিপক্ক ঝিনুক তুলে সার্জারি পদ্ধতিতে বের করা হয় মুক্তা।

প্রতিটি মুক্তা প্রাথমিক ভাবে ৩/৪শত টাকা মূল্যে বিক্রয় হয়। এখনও বানিজ্যিক ভাবে মুক্তা বিক্রয় শুরু হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়ি বানিজ্যিক ভাবে মুক্তা বিক্রয় শুরু হবে বলে উদ্যোক্তারা জানান। উদ্যোক্তা মুক্তা চাষী কবির হোসেন জানান, করোনা কালিন সময়ে বেকার হয়ে পড়ি। ইউটিউবে চাষ পদ্ধতি দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু করি মুক্তা চাষ। প্রথমে অনেকেই আমাকে পাগল বললেও এখন আমি জেলার মডেল উদ্যোক্তা।

আমার নিজ পুকুরে ১৫ হাজার মুক্তা চাষ করেছি এবং আগামী মাসে আরও ১৫ হাজার মুক্তা চাষ করার আশা আছে। কবিরের সাফল্য দেখে তার সাথে মুক্তা চাষে যোগ দেন গ্রামের আরও ২০ বেকার যুবক। ইতোমধ্যেই গ্রামটি এখন মুক্তা চাষির গ্রাম হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে।

তবে উদ্যোক্তারা বলছেন স্বল্প সুদে সরকারি ঋণ সুবিধা পেলে এটির বিস্তার ঘটবে আরও। নওগাঁ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: আমিমুল এহ্সান বলেন, মুক্তা চাষে ঝুঁকি কম ও লাভজনক।

মানসম্মত মুক্তা চাষ করতে পারলে অধিক লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই মুক্তা চাষে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে। পুকুরে মাছের সাথে মুক্তা চাষ করায় কম খরচে লাভ হচ্ছে বেশি। মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার মুক্তা বিক্রি করছেন উদ্যোক্তারা।