সার্ভেয়ার পুলকের ঘুষ বাণিজ্য ফাঁস

0
35

তানোর(রাজশাহী)প্রতিনিধিঃ রাজশাহীর তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার পুলক কুমারের ঘুষ বাণিজ্য সেবা প্রার্থীরা রীতিমতো দিশেহারা। তিনি ভুমি কর্মকর্তার (সহকারী) কমিশনার) নামে ফাইল প্রতি আনুঃপাতিক হারে ঘুষ বাণিজ্য করছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে। উপজেলা ভুমি অফিসে চেয়ার-টেবিল সবই আছে। তবুও অফিসের পুর্ব পাশে যেখানে মোটরসাইকেলসহ অন্য যানবাহন রাখা হয় (গ্যারেজ) ওই স্থানটি ভীষণ প্রিয় সার্ভেয়ার পুলক কুমারের। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা কৃষকদের সঙ্গে তিনি অফিসে কথা বলতে পচ্ছন্দ করেন না।সেবা গ্রহীতাকে প্রিয় জায়গায় নিয়ে গিয়ে মিটিয়ে নেন অর্থের চুক্তি। ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষ সার্ভেয়ার পুলক কুমারের ঘুষ বাণিজ্যে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি কৃষকের কাছ থেকে সার্ভেয়ার পুলক কুমারের সরাসরি ঘুষ নেয়ার একটি ভিডিও ফাঁস হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, তানোর উপজেলার বিল্লি এলাকার কাছিমুদ্দিন নামে এক বৃদ্ধ কৃষক ভূমি সংক্রান্ত কাজে তানোর ভূমি অফিসে যায়। সার্ভেয়ার পুলক কুমার তাকে নিয়ে যায় অফিসের পুর্ব পাশে যেখানে মোটরসাইকেলসহ অন্য যানবাহন রাখা হয় (গ্যারেজ) সেখানে। সেখানে সার্ভেয়ার পুলক কুমার নিজের কাজের টাকাসহ নাজির ও ভূমি কর্মকর্তার কথা উল্লেখ করে সেবা প্রত্যাশির কাছে ঘুষ নিচ্ছেন। জমি খারিজের জন্য দর কষাকষি করে আট হাজার টাকা নেন তিনি। প্রথমে ছয় হাজার টাকা দেয়া হয়। এতে তিনি সন্তুষ্ট হননি। পরে ধমক দিয়ে আরও দুই হাজার টাকা নেন। ৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ভূমি অফিসের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, টাকা ছাড়া কোন কাজই করেন না সার্ভেয়ার। সেবা প্রত্যাশিরা ভূমি অফিসে গেলে নানান কৌশলে সার্ভেয়ার পলক কুমার তাদের জটিল পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে ঘাবড়িয়ে দেন।আবার জটিল পরিস্থিতি থেকে উদ্ধারের পথও তিনিই বলে দেন তবে অর্থের বিনিময়ে।

সম্প্রতি সময়ে উপজেলার গোল্পাপাড়া হাটে ঘর বরাদ্দ নিয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার পেছনে সার্ভেয়ার পুলক কুমার জড়িত বলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা মনে করেন।

এ বিষয়ে এর আগে রাজশাহী জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি ভূমি মন্ত্রাণালয়ের সচিব, মন্ত্রী, দুদক মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে তানোর উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার পুলক কুমারের সঙ্গে বারবার কথা বলতে চাইলেও তিনি এ নিয়ে কোন কথা বলতেই রাজি হননি। সাংবাদিক শুনে ফোন কেটে দেন।

এবিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মুঠোফোনে কল গ্রহণ না করায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) স্বীকৃতি প্রামানিকের কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।