প্রাচীন কাল থেকেই যশোরের চৌগাছার খেজুরের রস গুড়-পাটালী বিখ্যাত

0

বিশেষ প্রতিবেদক: প্রাচীন কাল থেকে যশোরের খেজুরের রস আর গুড় বিখ্যাত। যার চাহিদা বেড়েই চলেছে। প্রতিবছর শীত মৌসুম আসলেই সেই রস আর গুড় আহরন করতে চৌগাছার গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।

গতকাল যশোরের চৌগাছা উপজেলার যাত্রাপুর মাঠসহ বিস্তৃর্ণ মাঠে তাকালে চোখে পড়ছে খেজুর গাছ তোলা ও পরিচর্যাার দৃশ্য। গাছিরা এখন মাঠে মহা ব্যস্ত সময় কাঁটাচ্ছেন। গাছিরা গাছ পরিষ্কার বা তোলা চাছার জন্য গাছি দা, দড়ি তৈরিসহ ভাড় (মাটির ঠিলে) ক্রয় ও রস জ্বালানো জায়গা ঠিক করাসহ বিভিন্ন কাজে রয়েছেন ব্যতিব্যস্ত।

উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের তোরাব আলী,রবিউল ইসলামসহ উপজেলার পাতিবিলা, মুক্তদাহ গ্রামের অসংখ্য গাছির সাথে কথা বলে জান াগেছে,খেজুর গাছ থেকে রস আহরনের জন্য প্রাথমিকভাবে পরিচর্যার কাজ শুরু করা হয়। আঞ্চলিক ভাষায় এটাকে গাছ তোলা বলা হয়। এর এক সপ্তাহ পরই আবার খেজুর গাছ চাচ দিয়ে নলি,গুজা লাগানো হয়। খেজুর গাছ থেকে রস বের করতে তিন স্তর শেষ করে রস আহরণ শুরু হয়। বাংলা আশি^ন মাস থেকে গাছ তোলার কাজ শুরু হয়। আর পুরা শীত মৌসুম বা চৈত্র মাস পর্যন্ত রস আহরন করা হয়।

এখানকার উৎপাদিত গুড়-পাটালির ইতিহাস অনেক প্রাচীন।এখানকার গুড়-পাটালি ভারত, পাকিস্তান,আমেরিকা,মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে খেজুর রস থেকে চিনি তৈরি করার জন্য যশোরের চৌগাছার কাঠিপাড়ায় ১টি চিনি ফ্যাক্টরি স্থাপিত হয়। যেখানে তৈরি হত উন্নতমানের চিনি।

খেজুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুরের গুড় থেকে ‘ব্রাউন সুগার’ উৎপাদনেরও সুনাম রয়েছে। তৈরি করা হতো রস দিয়ে উন্নতমানের মদ। এ বছর রস জ্বালানো ও গুড়-পাটালি তৈরির উপকরণের মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় গুড়-পাটালির দাম বেশি হতে পারে। খেজুর গাছ ইটের ভাটায় জ¦ালীনি হিসেবে পোড়ানোর কারনে খেজুর গাছের সংখ্য হ্রাস পেয়েছে।

যে কারনে এ অঞ্চলে খেজুরের গুড়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারের বন বিভাগের উদ্যোগে গত কয়েক বছর আগে খেজুর গাছ রোপন করে। বৃহত্তর যশোর জেলার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক পরিবেশ উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় এ অঞ্চলে রোপিত হয়েছে খেজুর গাছের সাড়ে তিন লাখ চারা। দেশী জাতের সাথে পরীক্ষামূলকভাবে আরব দেশীয় খেজুরের চারাও রোপণ করা হয়েছে।

অন্যন্য ফলজ গাছে পরিচর্যা করতে হয়। কিন্তু খেজুর গাছ আন্যন্য গাছের মত রোপন করা বা সার মাটি দিতে হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মেই মাঠে পড়ে থাকা খেজুরের আটি (বিচি) থেকে চারা জন্মায়। সৃষ্টি হয় খেজুরের বাগান। এখন আর আগের মত মাঠভরা খেজুর বাগানও নেই,নেই মাঠে মাঠে রস জ্বালানো বান (চুলো)। যা আছে তা নিতান্তই কম। নলেন গুড়, পাটালি পাওয়া দুষ্কর। গুড়,পাটালির উৎপাদন কমে গেছে। আবহমানকাল থেকে গ্রাম বাংলায় মানুষ নবান্নের উৎসব পালনে খেজুর গুড়ের কদর বেশি।

উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামের মৃত হাবিলের ছেলে জানান, একদশক আগে আমাদের খেজুর গাছ ছিল ৪শত মত হবে ছিল। এখন সেখানে একশত গাছ রয়েছে। এসব গাছ আমরা রসগুড় ও পাটালীর জন্য প্রাথমিক ঝোড়ার কাজ বা প্রস্তুতের কাজ চলতি সপ্তাহ থেকে শুরু করেছি।

যাত্রাপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম, আ্ব্দুল মাজিদ,সেলিম হোসেন জানায়,এ অঞ্চলের মানুষ খেজুরের রস জ্বালিয়ে পিঠা, পায়েস, মুড়ি-মুড়কি ও বিভিন্ন রকমের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়বে। আর রসে ভেজা কাচিপোড়া পিঠার (চিতই পিঠা) স্বাদই আলাদা। গুড়ের আবার প্রকার ভেদ আছে যেমন নলেন গুড়, ঝোলা গুড় ও দানা গুড়। নলেন গুড় পাটালির মধ্যে নারিকেল কোরা, তিল ভাজা মেশালে আরো সুসাদু লাগে।

এ ব্যাপারে চৌগাছা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা তাপস কুমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কর্মকর্তা রহচ উদ্দিন জানায়, যশোরের খেজুর রস,গুড় ও পাটালীর ঐতিহ্য ধরে রাখতে সরকারীভাবে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আর খেজুর গাছা কাটা ও ইটভাটায় জ¦ালানী কাঠ হিসেবে পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here