ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও৷ মেইল ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের মা ও দুই শিশু সন্তানসহ ঝিনাইদহেরমমহেশপুর উপজেলার ৪ জন এবং সদর উপজেলার ১জন প্রাণ হারিয়েছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন বিকাল সাড়ে ৫ টার দিকে মামুন পরিবহনের একটি বাস যশোরের চৌগাছা থেকে ছেড়ে আসে। দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনে ধাক্কা দিয়ে মামুন
পরিবহনের বাসটি এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।
এতে ঘটনাস্থলে ১২ জন মৃত্যু বরন করে এবং এই দুর্ঘট নায় আরও ১৫জন গুরুতর আহত হয়। আহতদের
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। তাদেও মধ্যেও ঝিনাইদহের বেশ কয়েকজন রয়েছে।
দূর্ঘটনার খবর ঝিনাইদহ এবং মহেশপুরে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহেশপুর পৌরসভার পাতিবিলা বিলপাড়ার পিন্টু হোসেনের স্ত্রী লাইজু আক্তার (২৮), তার বড় মেয়ে খাদিজা খাতুন (৬) এবং ছোট মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৪)। এছাড়া এস.বি.কে ইউনিয়নের ভালাইপুর গ্রামের ইনামুল হকের স্ত্রী সোনালী বেগম (৪৫) এবং ঝি নাইদহ সদর উপজেলার হরিশংকরপুর ইউনিয়নের পানা মী গ্রামের মুক্তার হোসেনের ছেলে জেহাদ (২৬) ঘটনা স্থলেইমপ্রাণ হারান। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন রাতে মহেশপুর কলেজ বাস স্ট্যান্ড থেকে পিন্টু হো সেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নোয়াখালীতে নানা বাড়ি
যাওয়ার উদ্দেশ্যে মামুন পরিবহনে তুলে দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে, ভালাইপুর গ্রামের ইনামুল হকও তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে একই বাসে নোয়াখালী
যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় ইনামুল হকসহ পরিবারের আরও ৩ সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়ে ছেন।
এছাড়া পানামীর জেহাদ ঈদেও নামাজ আদায় করে বিকালে নোয়াখালী শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল।
ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন জানান,ঘটনাস্থলেই বাসের ১২ জন যাত্রী নিহত হন।
নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সমন্বয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১২ জনের মরদেহ হাসপাতা লে রাখা হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জন সেখানে চিকিৎসাধীন।
বাকিরা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়ে ছেন। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে ট্রেন চলাচ ল সাময়িক ব্যা হত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে