Home Blog

আত্রাইয়ে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী শতবর্ষী ‘সীতাতলার মেলা’

0

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ ঘন কুয়াশা ও উত্তরের হিমেল হাওয়া উপেক্ষা করে রবিবার কাকডাকা ভোর থেকে নওগাঁর আত্রাইয়ে শুরু হচ্ছে দু’দিন দিনব্যাপী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সীতারাণীর স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক ‘সীতাতলার মেলা’।

নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার সর্ববৃহৎ এ মেলাকে ঘিরে এখন জামগ্রামসহ আশপাশের গ্রাম গুলোতে চলছে উৎসবের আমেজ।আত্রাই উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে নিভৃত পল্লী জামগ্রাম।

আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পার হয়ে ভোঁপাড়া তিলাবদুরী হয়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনে যাওয়া সম্ভব।

এই জামগ্রামেই সেই যুগ যুগ থেকে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে সীতাতলার মেলা। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও রবিবার থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সীতাতলার মেলা।

কথিত আছে, শত শত বছর পূর্বে রামচন্দ্র তার স্ত্রী সীতা রাণীকে নওগাঁর এই আত্রাই উপজেলার গহীন বন জামগ্রামে বনবাস দিয়েছিলেন।

আর সীতা বনবাসের এক পর্যায় জামগ্রামের এ বনে একটি প্রকান্ড বটগাছের নিচে আশ্রয় নেন এবং জীবনের বাঁকি সময় এ বট গাছটির নিচেই তিনি কাটিয়ে দেন।

গাছটির পার্শে রয়েছে এক বিরাট ইন্দারা। সীতা এই ইন্দারার পানিতেই স্নান করতেন। বিশ্বকর্মা এক রাতেই নাকি নির্মাণ করেছিলেন এই ইন্দারা। সেই রেশ ধরেই সীতা রাণীর নামেই মেলার নামকরন করা হয়েছে ‘সীতাতলার মেলা’।
শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সীতাতলার মেলা জমজমাট ভাবে প্রতি বছর হয়ে আসছে।

শুরুর দিকে এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের মেলা থাকলেও বর্তমানে আর তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এখন এ মেলা হিন্দু, মুসলিম সকলের এক মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। মেলাকে ঘিরেনওগাঁসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার লোকের সমাগম হয় এই মেলায়। মূল মেলা তিনদিন হলেও মেলার আগেও পরে কয়েকদিন ব্যাপী চলে মেলার বেচা-কেনা।

মেলাকে ঘিরে উপজেলার জামগ্রামসহ পার্শবর্তী গ্রামগুলোতে এখন সাজসাজ রব পড়ে গেছে। মেলা উপলক্ষে যেন আশপাশের গ্রামগুলোতে উৎসবের ধুম পড়েছে। দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনে ভরে গেছে প্রায় প্রতিটি বাড়ি।

প্রতি বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের মিঠাই মিষ্টান্ন পিঠা ও ভালো খাবারের ব্যাবস্থাও করা হয়েছে। মেলাকে ঘিরে আশপাশের গ্রামে জামাই আদর রেওয়াজে পরিণত হয়েছে।

ঘরে ঘরে শীতের রস- পাটালির নানান পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম। ঈদে না হলেও অন্তত মেলা উপলক্ষে জামাই-মেয়েকে দাওয়াত দেওয়া এ এলাকার রেওয়াজ।

জামাই মেলা থেকে বড় মাছ-মিষ্টি নিয়ে শশুরালয়ে যান। আর শশুর জামাইকেও উপহার দিয়ে থাকেন। তাই জামগ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে এখন জামাই, মেয়ে বিয়াই, বিয়ানসহ আতœীয় স্বজনের পদচারণায় মুখরিত।

ঐতিহাসিক এ মেলাকে কেন্দ্র করে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী
বগুড়া, সান্তাহার, নাটোর, জয়পুরহাট, রাজশাহীসহ বিভিন্ন
এলাকা থেকে প্রচুর লোকজন এই মেলাই বেড়াতে এসে ব্যাপক কেনা-কাটাও করে।

এ মেলাকে নিয়ে জামগ্রাম গ্রামের গৃহবধূ নিশাত আনজুমান
বলেন, মেলা উপলক্ষে আমার পিত্রালয় জয়পুরহাট থেকেও আতœীয় স্বজন এসেছে তারা আনন্দো করবে বলে। আশা করছি মেলাতে আনন্দো ও হবে গত বছরের চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি।

জামগ্রাম গ্রামের ব্যবসায়ী জনি সোনার বলেন, ঈদ উৎসবে
জামাই মেয়ে না এলেও এ মেলার সময় তাদের নিয়ে আসতেই হয়।

এদিকে মূল মেলা তিন দিন হলেও আয়োজন চলছে বেশ কয়েকদিন থেকে এবং শেষ হবারপর অঘোষিতভাবে তা চলে আরও কয়েকদিন।

সীতারাণীর স্মৃতি বিজড়িত সীতাতলার মেলাকে ঘিরে আইন
শৃংঙ্খলার কথা জানালেন আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. তারেকুর রহমান সরকার, তিনি বলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সীতারাণীর স্মৃতি বিজড়িত সীতাতলার এই মেলাটির ঐতিহ্যরক্ষার জন্য গ্রামবাসী প্রতি বছর এই মেলার আয়োজন করে থাকে।

এ মেলাকে ঘিরে নিরাপত্তার জোরদার করা হয়েছে। আনন্দঘন পরিবেশে মেলাই আসা লোকজনের নিরাপত্তার জন্য সেচ্ছাসেবক,গ্রাম পুলিশ ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আশাকরছি প্রতি বছরের ন্যায় এবারও মেলাতে কোন অপৃতিকর ঘটনা ঘটবে না। #

নওগাঁয় শর্ট কোর্স ঐক্য পরিষদের সভা

0

অনুষ্ঠিত মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ নওগাঁয় বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন বিভিন্ন শর্ট কোর্স পরিচালনা কারী প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের নিয়ে গঠিত সংগঠনসমুহের দ্বারা সমন্বিত সংগঠন শর্ট কোর্স ঐক্য পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার শহরের মুক্তির মোড়ের শুভ কম্পিউটারে হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে শর্ট কোর্স ঐক্য পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন ভূঞাউপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসাবে শর্ট কোর্স ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মো. আফসার আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, রফিকুলইসলাম, মনিরুজ্জামান মিন্টু উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শর্টকোর্স পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের মধ্যে নূূর-ই করিম শুভ, হারুনুর রশীদ, সহিদুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন, রিফাত,মিজানুর রহমান রনি, আল ফরিদ, মশিউর রহমান, আব্দুল মতিন,মিছবাহুল আলম, মাসুদ রানা, সোহেল রানা রিপন, মারুফ মুত্তাকিন পলক, সন্তোষ কুমার তনু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শেষে শুভ কম্পিউটার এর পরিচালক নূূর-ই করিম শুভকে সভাপতি ও সাপহার ভোকেশনাল ট্রেইনিং ইন্সটিটিউ এর পরিচালক হারুনুর রশীদকে সাধারণ সম্পাদক করে শর্ট কোর্স ঐক্য পরিষদের নওগাঁ জেলা কমিটি গঠন করা হয়।

সাপাহার উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

1

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ জাল দলিল করে নওগাঁর সাপাহার উপজেলারখেরুন্দা ও তাজপুর মৌজায় একটি পরিবারের ২১ একর জমি দখলেরঅভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ভূমি কর্মকর্তাদের
যোগসাজশে একটি চক্র জাল দলিল করে জমি দখলের চেষ্টা করছে। সাপাহারউপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন ওই চক্রের মূলে রয়েছে।

রোববার বিকেলে নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে বিবাদমান জমির অর্ধেক অংশের মালিকানা দাবি করে মাসিরা চৌধুরী নামে এক নারী সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মাসিরা চৌধুরী বলেন, তিনি পরিবারনিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকেন।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার খেরুন্দা ফুটকইল গ্রামে তাঁর বাবার বাড়ি। তাঁর বাবা মকসুদাল হক চৌধুরী মারা যাওয়ার সময় ২২ একর সম্পত্তি রেখে যান। বড় বোন মুনিরা চৌধুরী কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

তাঁদের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তির ওয়ারিশ তিনি ও তাঁর বড় বোনসহতাঁর বড় ভাই মাকসুমুল হক চৌধুরী ও ও মা মৃত নার্গিস মুর্শিদা।বাবার রেখে যাওয়া বাড়ী, আবাদি জমি, পুকুরসহ অন্যান্য সম্পত্তিরকোনো বাটোয়ারা দলিল হয়নি।

বড় ভাই মাকসুমুল হক তাঁর দুই বোন ওমায়ের স্বাক্ষর জাল করে ২০১৮ সালে তৎকালীন ভূমি কর্মকর্তাদেরযোগসাজশে জাল হেবানামা বা দানপত্র দলিল করে ১০ দশমিক ৭৩ শতাংশলিখে নেন।

জাল হেবানামা দলিল সূত্রে মাসিরা ও তাঁর বোনকে বঞ্চিতকরে মাকসুমুল হক জুলফিকার আলী নামে এক ব্যক্তির কাছে বায়না দলিল করে নেন। পরবর্তীতে

এ বিষয়ে জানতে পেরে ২০২০ সালে ৯ মার্চ ঢাকারমুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে একটি মামলা করেন। সেই মামলারশুনানি নিয়ে আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকেনির্দেশন দেন।

সিআইডির তদন্তে জাল হেবানামার বিষয়টি প্রমাণিতহয়। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর সিআইডি পুলিশের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর শরীফ আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে আদালত মাকসুমুলহক, জমির বায়না দলিল গ্রহীতা জুলফিকার আলীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও ২০২১সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন সাপাহারের সাব-রেজিস্টার মুক্তি আরাখাতুনের যোগসাজশে জাল হেবানামা দলিল করা ১০ একর সম্পত্তিসহ ২১ একর সম্পত্তি তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে ছয়টি বিক্রয় দলিল ও একটি বায়না দলিল রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেন।

জমি ক্রেতাদের মধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেনসহ ১৯ জন ব্যক্তি রয়েছে। উপজেলার তাজপুর ও খেরুন্দা মৌজায় থাকা বিবদমান ২১ একর সম্পত্তির ওপর বর্তমানে হাইকোর্টের স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও নি¤œ আদালতের ১৪৪ জারি রয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, জমি দখলকারী এই চক্রের মূলে রয়েছে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন।

উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজের নামে নেওয়া ৩৩ শতক কৃষি জমি সাব-রেজিস্ট্র ওবসতবাড়ির ৩৩ শতক জমি বায়না দলিল করে নেওয়া ছাড়া বাকি দলিলগুলোতে তিনি ১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে রয়েছেন।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি, জুলফিকারসহ অন্য আরও ১৭ ব্যক্তির নামে যেসব জমি কিনেছেন তাঁরা সবাই শাহজাহান হোসেনের লোক।

ওই সব ব্যক্তির নামে জমি দখল করে নিয়ে পরবর্তীতে ওই সব দখল করবেন শাহজাহান। বেশ কিছু দিন ধরে তাঁর লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা খেরুন্দা ও তাজপুর মৌজায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্যনহুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে মাকসুমুল হক চৌধুরী বলেন, ‘১৯৮৩ সালে বাবা আমার ও মায়ের নামে হেবা দলিল করে দিয়ে গেছেন। বাকি যেসব জমি আছে সেগুলো সম্পত্তি বাটোয়ারা হয়ে গেছে।

জাল হেবা দলিল করার অভিযোগের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার বড় বোন কয়েক দিন আগে সাপাহারে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার কাছে গিয়ে আমার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন।’

জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজাহান হোসেন বলেন, ‘আমি যে জমি কেনার জন্য বায়না করেছি এবং অন্যরা মাকসুমুল হক চৌধুরীর কাছ থেকে যেসব জমি কিনেছেন সেগুলো নিষ্কণ্ঠক জেনেই আমরা কিনেছি।

জমি নিয়ে বিতর্ক থাকলে কি ভূমি কর্মকর্তারা রেজিস্ট্রি করে দিতেন? আমি অন্যায় প্রক্রিয়ায় জমি কিনে নাই কিংবা দখলের চেষ্টা করি নাই।

বরং মাসিরা চৌধুরী আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে জমির দখল নিতে বাধার সৃষ্টিকরছেন। আইনিভাবেই আমরা সেসব মামলা মোকাবিলা করব বলে জানান
তিনি।#

 

সরকার ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আরো বৃদ্ধি করবে — খাদ্যমন্ত্রী

0

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ খাদ‍্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি বলেছেন সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর ক্ষেত্র বাড়িয়েছে । সব কর্মসূচীর আওতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এখন ৬/৭ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ভাবে সরকারি সুবিধা ভোগ করছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকার আরো বাড়াবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি রবিবার বেলা ১১টায় নওগাঁর পোরশাউপজেলার গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল হতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন ।উল্লেখ্য এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ামতপুর-পোরশা- সাপাহার উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে ১০ হাজার কম্বল,৫ হাজার চাদর ও ১ হাজার সোয়েটার শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে।খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে এমন কোন পরিবার নাই যে পরিবারে বর্তমান সরকারের অনুদান পৌঁছে নাই। সব ক্ষেত্রে ব‍্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে । উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় রাখতে হবে। রীব অসহায় মানুষের পাশে সরকার সব সময় ছিলো, একখনও আছে, ভবিষতেও থাকবে উলে-খ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শীতার্ত মানুষের জন্য এ কম্বল দিয়েছেন।প্রতিটি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা শীতার্ত মানুষের কাছে এ শীতবস্ত্র পৌঁছে দিবে।এসময় তিনি সমাজের বিত্তবানদের শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানান। তিনি আরো বলেন,গরীব মানুষ খাদ্য বান্ধব কর্মসূচিতে বিনামূল্যে চাল পাচ্ছে, ওএমএসে স্বল্পমুল্যে চাল আটা পাচ্ছে।কৃষকও এখন ফসলের নায্য মূল্য পাচ্ছে। শেখ হাসিনা আছে বলেই কৃষিতে আমরা অনেক উন্নতি করেছি। ধু ধু মাঠে এখন ফসল হয়, আমের বাগানে আম হয়। জমিতে সেচ ও সারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছেদেওয়া হয়েছে। মানুষকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা উন্নয়নের পক্ষে থাকবে নাকি আগুন সন্ত্রাসের পক্ষে যাবে।শীতবস্ত্র বিতরণকালে পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিরহোসেন, উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী,উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জ্বল হোসেন, ত্রিশুলেরসভাপতি ও খাদ্যমন্ত্রীর কনিষ্ঠ কন্যা তৃণা মজুমদার ও গাঙ্গুরিয়া ইউপিচেয়ারম্যান আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।#

শৈলকুপায় ভেজাল বীজে ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষিদের ক্ষোভ

0

মফিজুল ইসলাম,শৈলকুপা(ঝিনাইদহ) পেঁয়াজ চাষী ইসলাম সর্দ্দার।

প্রতিবছরের মত এবারও লাগিয়েছেন পেঁয়াজ। তবে এবারের অভিজ্ঞতাটা একটু ভিন্ন।

পেঁয়াজ লাগাতে এনজিও থেকে নিয়েছেন লোন,বিক্রি করেছেন গোয়ালের গরু, রেখেছেন জমি বন্দক। যার সমস্ত টাকা দিয়ে কিনেছেন লাল তীর কিং নামে পেঁয়াজের বীজ।

১০ কেজি বীজ কিনতে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। সবই ঠিক ছিল। বীজ থেকে চারা হওয়ার পর তা লাগিয়েছিলেন জমিতে। তবে বিধি বাম।

সপ্তাহ যেতে না যেতেই পেঁয়াজের গোড়ায় শেকড় না গজানো ও মাথা শুকিয়ে যাওয়ায় মরে যাচ্ছে পেঁয়াজ গাছ।

এমন অবস্থার পর বুঝতে পারলেন এটা লাল তীর কিং
বীজ না। ব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে ভারতীয় চারা, লাল তীর কিং ভেবে লাগিয়েছেন ।

এমন অবস্থা শুধু ইসলাম সর্দ্দারেরই না। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা জুড়ে থাকা প্রায় ৫শতাধিক পেঁয়াজ চাষীর অবস্থা এমন।

ভ’ক্তভোগীদের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে নি¤œমানের ভারতীয় পেঁয়াজের বীজ কিনেই তাঁরা মহা বিপাকে পড়েছেন।

এতে চাষিদের বিঘা প্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ইতিমধ্যে খরচ হয়েছে।

তবে কৃষি অফিস বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় মরে যাচ্ছে পেয়াঁজ।

শৈলকুপা উপজেলায় প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে।

চাষের সময়ও পার হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চারা তৈরি করে চাষ সম্ভব নয়। এঘটনার পর থেকে প্রতারক বীজ ব্যসায়ীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

উপজেলারধলহরাচন্দ্র,পাইকেনপাড়া,ধাওড়া,শিতালী,চরধলহরা,পাইকপাড়া,সাধুহাটি,মালিথীয়াসহ বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, জমিতে পেঁয়াজের চারা মরে মাটির সঙ্গে
মিশে আছে। কোনো কোনো খেতের পেঁয়াজের চারায় শেকড় গজায় নি।

যেখানেপেঁয়াজ লাগানোর কয়েকদিনের মধ্যেই পেঁয়াজের চারা সোজা হয়ে ওঠার কথা।

সেখানে শেকড় না গজানোয় চারা সোজা হতে না পেরে লাল হয়ে মরে যাচ্ছে।

উপজেলার চরমালিথীয়া গ্রামের নাসির উদ্দীন বলেন, ৯০ শতক জমিতে লাল তীর ভেবেকরে প্রতি কেজি পাঁচ হাজার টাকা দরে ২ কেজি পেঁয়াজ বীজ কিনে বপন করি।

চারা একটু বড় হলে সেগুলো মাঠে লাগানোর কিছুদিনের মাথায় লাল হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

এখন মনে হচ্ছে এগুলো লাল তীর কিং বীজ না। প্রতারক ব্যবসায়ীরা এগুলো লাল তীর কিং বীজ বলে বিক্রি করেছেন। আসলে এগুলো ভারতীয় বীজ।

পাইকপাড়া গ্রামের চাষী রেজাউল ইসলাম বলেন, লোন করে লাল তীর ভেবে ৫হাজার টাকা কেজি দরে দানা কিনেছি। চারা গজানোর পর তা লাগানোর কিছুদিনের মধ্যেই মরে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছি। ভেবেছিলাম পেঁয়াজ বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ করব। এখন সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেল।

পেঁয়াজের বীজ বিক্রেতা উপজেলার ধাওড়া গ্রামের জিলানী বলেন, পেঁয়াজের দানা কিনে আমরা বিক্রি করি। এবার কী কারণে এমন হলো, তা বলতে পারব না। এমন তো হওয়ার কথা না।

এমন ঘটনার পর রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত পেঁয়াজ চাষিরা প্রতারক বীজ ব্যবসায়ীদের শাস্তি ও ক্ষতিপুরনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। শৈলকুপা থানা ও উপজেলা কৃষি অফিসের সামনে ক্ষতিগ্রস্ত শতাধিক চাষি বিক্ষোভ করে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিসউজ্জামান খান বলেন, কিছু অসাধু পেঁয়াজ বীজ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন জায়গা থেকে নি¤œমানের বীজ কিনে এনে তা কৃষকেদের কাছে বিক্রি করেছে। ফলে পেঁয়াজের চারা জমিতে লাগানোর কয়েকদিনের মধ্যেই মরে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে আমার বীজ ব্যবসায়ী শৈলকুপার পাইকপাড়া গ্রামের আশরাফুল ইসলামের লিফলেট সংগ্রহ করেছি। অতিদ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, দেশের মধ্যে শৈলকুপা উপজেলা অন্যতম পেঁয়াজ উৎপাদনকারি এলাকা। ইতিমধ্যে প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে শেখ কামাল যুব গেমসের পুরস্কার বিতরণ

0
 রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ ঠাকুরগাঁওয়ে শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার  শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে রাগবী (তরুন/তরুনী) খেলার মাধ্যমে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণীর আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের আয়োজনে ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহযোগিতায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান বাবু, জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি ও শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমস পরিচালনা কমিটির আহবায়ক প্রবীর কুমার গুপ্ত বুয়া, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মনোয়ার হোসেন লেবিন, মাসুদ রানা, মহিলা ক্রীড়া সংস্থার প্রীতি গাঙ্গুলী, আতাউর রহমান প্রমুখ।
পরে অংশগ্রহনকারী বিজয়ী ও বিজীত টিমের খেলোয়াড় দের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র বিতরণ করেন অতিথিরা।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়া সংস্থা ফুটবল এসোসিয়েশনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ক্রীড়া সংগঠক ও অংশগ্রহনকারী খেলোয়াড়গণ উপস্থিত ছিলেন।
এ বছর শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমসে উপজেলা পর্যায়ে ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, উশু, তায়কোয়ানডো, কারাতে, রাগবি ও এ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এর মধ্যে এ্যাথলেটিকসে তরুন/তরুনী, রাগবিতে তরুণ, ব্যাডমিন্টনে তরুন একক/দ্বৈত, টেবিল টেনিসে তরুন একক/দ্বৈত, রাগবিতে তরুনী, ব্যাডমিন্টনে তরুনী একক/দ্বৈত, টেবিল টেনিসে তরুনী একক/দ্বৈত, ব্যাডমিনটন মিক্স ডবল, তায়কোয়ানডোতে তরুন/তরুনী, কারাতে তরুন/তরুনী ও উশুতে তরুন/তরুনী টিমের খেলোয়াড়েরা অংশগ্রহন করেন। প্রত্যেক ইভেন্টেই প্রতিটি উপজেলা থেকে ৫ জন খেলোয়াড় অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেখ কামাল ২য় বাংলাদেশ যুব গেমসের উদ্বোধন করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো: মাহবুবুর রহমান।
 

শ্যামনগরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় এক ব্যবসায়ী নিহত

0

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মুনসুর সানা (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার নওয়াবেঁকী চৌরাস্তা মোড় সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটনা ঘটে।

আহত অবস্থায় শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে
তিনি মারা যান।

নিহত মুনসুর সানা সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা আটুলিয়া
ইউনিয়নের নওয়াবেঁকী গ্রামের মৃত মজু সানার ছেলে।
নিহতের নাতি ইমরান হোসেন জানান, নওয়াবেঁকী চৌরাস্তায় ব্যবসা রয়েছে মুনসুর সানার।

শনিবার বিকালে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে চৌরাস্তার দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় বেপরোয়া গতিতে আসা একটি মোটর সাইকেলের ধাক্কায় তিনি রাস্তায় পড়ে যান। এসময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

চিকিৎসকরা তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করলে সেখানে নেওয়ার পথে সন্ধ্যায় তার মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, একই এলাকার আব্দুস সবুর ঢালীর ছেলে সজিব (১৫) মটর সাইকেল চালাচ্ছিল। দুর্ঘটনার পর সে মোটর সাইকেলটি ফেলে পালিয়ে যায়।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নুরুল ইসলাম বাদল জানান, নিহতের পরিবার দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে কোন অভিযোগ করেনি। তারা মামলা করতে চাইলে নিহতের পরিবারকে আইনগত সহায়তা দেয়া হবে।

সাতক্ষীরায় চিংড়ীতে অপদ্রব্য পুশের দায়ের এক জনের কারাদ্বন্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

0

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ।।
সাতক্ষীরায় চিংড়ীতে অপদ্রব্য পুশ করার দায়ে মফিজুর রহমান শিমুল (৩২) নামের ব্যক্তিকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এর তথ্যের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তর রোববার দুপুর আড়াইটায় শহরের ফুড অফিস মোড় এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৬০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি মাছ জব্দ করেন। পরে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোখলেসুর রহমান ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নাজমুল হাসান।

আটক চিংড়ী ব্যবসায়ীকে সাজা প্রদান করেন নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেট সজীব তালুকদার। এ সময় সেখানে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোখলেসুর রহমান জানান, ফুড অফিস মোড়ের একটি পরিত্যক্ত ভবন ভাড়া নিয়ে চিংড়ীতে জেলি ও রাসায়নিক পুশ করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় সেখানে চিংড়ীতে অপদ্রব্য পুশ করার সময় হাতেনাতে মফিজুর রহমান শিমুল নামের ওই চিংড়ী ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়।

জব্দ করা হয় ৬০ কেজি পুশকৃত চিংড়ী মাছসহ জেলি, ইনজেকশন, জেলি তৈরীর পাওডার ও বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য। তিনি আরো জানান, আটক ওই ব্যক্তি প্রতিদিন ৫০-১০০ কেজি চিংড়ীতে জেলি পুশ করে তা দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করতেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজীব তালুকদার জানান, চিংড়ীতে জেলি পুশের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় মফিজুর রহমান শিমুলকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত চিংড়ী মাটিতে পুতে নষ্ট করা হয়েছে।

চৌগাছায় অবৈধভাবে চলছে ফসলী জমির মাটি কাটার মহা উৎসব

1

যশোর প্রতিনিধিঃ চৌগাছা ও মহেশপুর উপজেলার মধ্যবর্তী পাঁচবাড়িয়া গ্রামে  সরকারি অনুমতি ছাড়াই চলছে ফসলী জমির মাটি কাটারমহা উৎসব।

এলাকার সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বিগত দিনে উপজেলা প্রশাসন অবৈধ ইটভাটা ও মাটি কাটার অভিযোগে একাধিক বার অভিযান পরিচালনা করে ভেকু জব্দ ও জরিমানা করলেও  অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না।

বিশেষ করে প্রতিবছর ইট ভাটার মৌসুমের শুরু হলে ফসলী জমির মাটি অবৈধ ভাবে ফসলী জমির মাটি সংগ্রহের প্রতিযোগীতা চলে।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এখানে মাটি সংগ্রহের জন্য একটি শক্তিশালী  সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে।

ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা জমি মালিকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে  মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছে।

ওই চক্রটি উপজেলার আন্দারকোটা, পাঁচবাড়িয়া, বুন্দেলীতলা, বাটিকামারি, চাঁদপাড়া,বহিলা পোতাসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে মাটি সংগ্রহ করছে।

এমনকি মাটি উত্তোলনের সময় ট্রাকে নষ্ট হওয়া ফসলী জমি ও রাস্তা ভাঙনে এলাকাবাসী কেউ কিছু বললে জীবণ নাশের হুমকী দেন এই চক্রটি বলে জানায় এলাকাবাসী।

বর্তমানে পৌর এলাকাসহ সুখপুকুরিয়া, সরুপদাহ, ফুলসারা, ফতেপুর, নারায়নপুর, সদর ইউনিয়নে এসব মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলার পাঁচবাড়িয়া গ্রামের মেহেদী হাসান মিম ও মজনু,নিয়ামতপুরের দুলাল হোসেন, সুখ পুকুরিয়া গ্রামের হাবিব হোসেন, রামভাদ্রপুর গ্রামের ফিরোজ হোসেন, খড়িঞ্চা গ্রামের বাবু, মাধবপুরের বাবুল,পুড়াপাড়ার খাল পাড়ের জিয়া, নগরবর্ণি গ্রামের খোকন, হোসেনহাটি গ্রামের ইরফান, সৈয়দপুরের শরিফুলসহ এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে মাটি কাটার  সিন্ডিকেটের সদস্য  বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, অসহায় কৃষকদের আর্থিক সংকটের সুযোগ নিচ্ছে মাটি খেকো সিন্ডিকেট ও ইটভাটার মালিকরা।

আর্থিক সহযোগীতাসহ মাছ চাষের প্রলোভন দেখিয়ে ও ফসল থেকে মাছ চাষে অধিক লাভের কথা বলেও  হাতিয়ে নিচ্ছে ফসলি জমির মাটি।

বিভিন্ন ফসলি জমি ২০ফুট গর্ত করে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে চাষের জমির মাঝে জলাশয় তৈরী হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

এছাড়াও ভাটা ট্রাক ও হাইড্রলিক ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ার সময় রাস্তার পাশে থাকা ফসলের মধ্যে ধুলার প্রলেব পড়ে, যে কারনে রাস্তার ধারের ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

শুধু তাই না বেপরোয়া ভাবে ট্রাক চলাচলে রাস্তায় ভাঙন ধরতে শুরু করেছে। সড়কে  মাটি ভর্তি অধিক যানবাহন চলায় পাকাঁ সড়কে মাটির প্রলেপ পড়তে শুরু করেছে। এর ফলে সড়কগুলো চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলেন, শুধু ফসলি জমি না নদীর পাড়ে মাটি, সরকারী খাঁস জমিসহ সরকারী বিলের মাটিও কেটে নিচ্ছে এসকল সিন্ডিকেট।

এলাকাবাসীসহ একাধিক কৃষক জানায়, এই সব মাটি ব্যবসায়ীরা অনেক ক্ষমতাশালী। তাদের বিরোধে প্রতিবাদ করলে তার জীবননাশসহ মামলা হামলার হুমকি দেয়।

আমাদের ফসলী জমির এতো ক্ষতি করার পরও আমরা কিছুই বলতে পারি না। আগের মতো ফসল ফলাতে পারবো কিনা সেটাও জানি না।

এলাকার ভূমি অফিসের লোক ও বিভিন্ন উপর মহলের লোকজন আনাগোনা করে ওদের কাছে।

তারা আরো জানায়, বিগত দিনে ভাটার বেপরোয়া গাড়ী ও অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের একাধিক অভিযোগ দিয়েও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না উপজেলা প্রশাসন।

এ বিষয়টি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস বলেন, মাটির উপরের স্তর বেশ উর্বর, যা ফসল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এই সিন্ডিকেটের ফলে ফসলী জমি বেশ হুমকীর মুখে পড়েছে।

মাটি কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি প্রয়োজন, অন্যথায় মাটি কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) গুঞ্জন বিশ্বাস বলেন,উপজেলার কোনো এলাকায় ফসলী জমি কাটা হচ্ছে কিনা আমরা সর্বদা খোঁজ খবর রাখছি। এদের কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গা ক্যাম্প কেন্দ্রিক অপরাধ করতে দেয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল

0

ডেস্ক নিউজঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক চুরি, ডাকাতি, খুন-গুম, অপহরণ-মুক্তিপণ কোনোভাবেই করতে দেয়া হবে না।

এসব অপরাধ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। একইসাথে ইয়াবাসহ মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

রোববার দুপুরে কক্সবাজারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৬তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের তালিকা বা তথ্য নানাভাবে মন্ত্রণালয়ে পাওয়া যায়। তালিকা হলেই অপরাধী বলা যাবে না। এসব যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মাদক কারবারে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের শহীদ এ টি এম জাফর মিলনায়তনে এ সভা শুরু হয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় কমিটির সদস্য মো: আফছারুল আমীন, মো: হাবিবর রহমান, সামছুল আলম দুদু, কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পীর ফজলুর রহমান, নূর মোহাম্মদ, সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ, বেগম রুমানা আলী, পুলিশের আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ ছাড়াও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক চোরাচালান রোধকল্পে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সেন্টমার্টিন দ্বীপসহ এ অঞ্চলের সীমান্ত এলাকায় বিজিবি এবং কোস্ট গার্ডের কার্যক্রমের উপর বিস্তারিত আলোচনাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সর্বশেষ খবর