Home Blog Page 2

গড়েয়ায় জমি ক্রয়কারীদের প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে ভুক্তভোগী মানববন্ধন

0

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ জমি ক্রয়কারীদের প্রাণনাশের হুমকি ও গাড়ী ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধন।

সদর উপজেলায় গড়েয়ায় ক্রয়কৃত জমি নিয়ে প্রতিপক্ষের নিকট হতে প্রাননাশের হুমকি ও গাড়ি ভাংচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন পালন করা হয়।

৬ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পৌর শহরের চৌরাস্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন পালন করে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যগনের আয়োজনে মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন, জমির মূল মালিক নুরুল হুদা, জুলফিকার আলী ভুট্টো গং, মো: মিজানুর, জমি ক্রয়কারী স্বজল কুমার চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম জুয়েল প্রমুখ।

জমির ক্রয়কারী ফখরুল ইসলাম জুয়েলবলেন, গড়েয়ায় উল্লেখিত জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন ও নিস্কন্টক দেখে জমির দলিল, খাজনা, খারিজ, রেকর্ড সহ যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক দেখেই জমিটি ক্রয় করি। কিন্তু ক্রয়ের পর থেকেই একটি মহল উল্লেখিত জমিকে খেলার মাঠ দাবী করে আমাদের নিকট চাঁদা দাবি করে আসছে।

কিছুদিন পূর্বে জমিটি বুঝে নিতে গেলে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে আমাদের আহত করে গাড়ি ভাংচুর করে। আমরা এ বিষয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছি।

তাই উল্লেখিত জমির বিষয়ে জানমালের নিরাপত্তা সহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

ঝিনাইদহে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

1

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
আজ ঝিনাইদহ হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকহানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় ঝিনাইদহ।
দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বর থেকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি র‌্যালী বের করা হয়। র‌্যালীটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

পরে পুরাতন ডিসি কোর্ট মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা প্রশাসক মনিরা বেগম, পুলিশ সুপার আশিকুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মকবুল হোসেনসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বুকে লালন করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সকলের প্রতি আহবান জানান।

ঝিনাইদহে মোবাইল ব্যবসায়ী জনি হত্যা মামলায় প্রধান আসামী গ্রেফতার

0

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহে মোবাইল ব্যবসায়ী জনি হত্যা মামলার প্রধান আসামী সজিব আহম্মেদ অপুকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গেল রাতে পার্শবর্তী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মরহরদি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতরা হয়।

র‌্যাব জানায়, ব্যবসায়ী জনি হত্যার মুল হোতা অপু মনহরদি গ্রামের এক আত্মীয় বাড়ি অবস্থান করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার বিকেলে তাকে হরিণাকুন্ডু থানায় সোপর্দ করা হয়।
সোমবার বিকেলে হরিণাকুন্ডু উপজেলা শহরের কসাইমোড় এলাকার নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ব্যবসায়ী জনিকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার করা হয়।

এ ঘটনায় রাতে তার ভাই ছাব্বির আহমেদ বাদী অপুসহ অজ্ঞাতদের আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা দায়েরর পর র‌্যাব অভিযান চালিয়ে অপুকে গ্রেফতার করে।

পাওনা টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে দু’জনের মধ্যে বাকবিতন্ডের এক পর্যায়ে অপু তাকে হত্যা করে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে জানিয়েছে অপু।

কালীগঞ্জে বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভা

0

মোঃ হাবিব ওসমান, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
কালীগঞ্জে ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে এক প্রস্তুতিমুলক সভা অনুষ্টিত হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া জেরিনের সভাপতিত্বে সভাতে উপস্থিত ছিলেন, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকী ঠান্ডু, সহকারী কমিশনার (ভ’মি) হাবিবুল্লাহ হাবিব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী ও থানার এস আই হরিদাস রায়।

ইউএনও সাদিয়া জেরিন বলেন, যথাযোগ্য মর্ষাদায় দিবসটি পালনে বিগত বছরের ন্যায় সকলকে আন্তরিকতার সাথে দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে।

ওইদিনের সকল কর্মকান্ড সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে সভাতে বিভিন্ন উপকমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির দ্বায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজ নিজ উদ্যেগে তাদের কাজ সম্পন্ন করবেন।

সভাতে উপজেলা পরিষদের সকল দপ্তরের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারগন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধান, গনমাধ্যম কর্মী, এনজিও প্রতিনিধি ও সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নওগাঁর বরেন্দ্র এলাকায় দার্জিলিং কমলা চাষে সফল সাইদুল

0

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ সারি সারি কমলার গাছ। থোকায় থোকায় ঝুলছে কাঁচা সবুজ ও হলুদ রঙের কমলা। রসালো কমলার ভারে প্রতিটি গাছ নুয়ে পড়ছে। কোনো কোনো গাছে বাঁশের লাঠির সাহায্যে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। বাতাসে পাকা কমলার সুমিষ্ট গন্ধে পুরো বাগান ছড়িয়ে পড়েছে।

এমনি এক কমলার বাগানের দেখা মিলবে নওগাঁর সীমান্তবর্তী উপজেলা ধামইরহাটের আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের হয়রতপুর গ্রামের পাশে। বাগানের মালিক সাইদুল ইসলাম পরীক্ষামূলক ভাবে দার্জিলিং জাতের এই কমলা চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন। চোখ জুড়ানো হলুদ কমলার সৌন্দয্যের সমারোহ দেখতে এসে অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এই কমলা চাষে। চলতি ডিসেম্বর মাস থেকে এসব কমলা বাজারজাত করে লাভবান হওয়ার আশা করছেন তিনি। সাইদুল ইসলাম নওগাঁর সীমান্তবর্তী উপজেলা ধামইরহাটের আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা। জানা যায়, সাইদুল ইসলাম ২০১২ সালে নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে মাস্টার্স শেষ করেন।

এরপর তিনি চাকরির পিছনে না ছুটে নিজে কিছু করার চিন্তা করেন। এই ভাবনা থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল মাসে আগ্রাদিগুন ইউনিয়নের হয়রতপুর গ্রামের পাশে প্রথমে তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফল বাগান গড়ে তোলেন। সেখানে তিনি দার্জিলিং জাতের কমলার চারা কিনে এনে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন। দীর্ঘ দুই বছরের পরিচর্যায় এ বছর প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত পরিমানে কমলা এসেছে। এছাড়াও সেই বাগানে রোপণ করেন বারি-১ মাল্টা, বারি-৩ বারোমাসি জাতের মাল্টা, বরই, পেয়েরা, কাটিমন, আমরুপালি, বারি-৪ জাতের আমের চারা। ইতিমধ্যে মাল্টা, বরই ও পেয়ারা থেকেও ফলন পেয়েছেন তিনি। তার মিশ্র ফলের বাগানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে ৮-১০ জন কৃষকের।

বর্তমানে তার মিশ্র ফল বাগানের আয়তন ১৮ বিঘা। এ বিষয়ে কথা হয় সাইদুল ইসলামের সাথে। তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, মাস্টার্স শেষ করে চাকরির পিছনে না ছুটে বা অন্যের অধিনে না থেকে নিজে কিছু করার ভাবনা থেকেই মিশ্র ফল বাগান তৈরির চিন্তা করেন। প্রথমে তিন বিঘা জমি লিজ নিয়ে মাল্টা, বরই পেয়ারা এবং আমের চারা রোপণ করেন।

তখন মাথায় আসলো যেহেতু নওগাঁ আমের জন্য বিখ্যাত, আম ছাড়া অন্য কোন ফসল ফালানো যায় কিনা। তখন পরীক্ষামূলক নীলফামারী থেকে দার্জিলিং জাতের কমলার চারা কিনে এনে এক বিঘা জমিতে রোপণ করেন। তিনি আরও বলেন- মাল্টা, বরই, পেয়ারা ও আম পাশাপাশি কমলা চাষ করে সবচেয়ে কমলার ফলন ভালো হয়েছে।

মাল্টা যেভাবে চাষ করা হয় সেভাবে কমলা চাষ করেছিলাম। অন্যান্য ফসলের চেয়ে রোকবালাই কম। প্রাকৃতিকভাবেই চাষ করা হচ্ছে। রোপণের পর এই প্রথম কমলার গাছে কমলা ধরেছে। প্রথমবারেই ফলন খুব ভালো হয়েছে। বর্তমানে ১৩৪টি কমলার গাছ আছে। প্রতিটি গাছ থেকে সর্বচ্চো ৫০ কেজি করে কমলা পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা করছেন।

চলতি ডিসেম্বর মাস থেকে এসব কমলা বাজারজাত করবেন বলে তিনি আশা ব্যাক্ত করেন। বাজারে কমলার দামও ভালো আছে। প্রথমবারেই দুই থেকে তিন লাখ টাকার কমলা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। এছাড়াও এই বাগান থেকে আরও ৬ লাখ টাকার মত তিনি মাল্টা বিক্রি করেছেন। সাইদুল ইসলাম বলেন, এখন অনেকেই আমার এই কমলার বাগান দেখতে এসে কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন এবং চারা নিতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন। কমলার ফলন ভালো হওযায় আরও বড় পরিসরে করার চিন্তাভাবনাও করছি।

কমলার বাগান দেখতে এসেছেন স্থানীয় রাকিবুল হোসেন। তিনি বলেন, সাইদুলের বাগানে কমলা চাষের বিষয়টি বেশ কিছুদিন থেকে শুনছিলাম। মূলত দেখার জন্য এসেছি। বাগানে বিভিন্ন রকম ফলের গাছ দেখলাম। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে কমলা। এত বেশি পরিমাণ ধরে আছে দেখতে খুবই ভালো লাগছে।

এই ধরনের মাটিতে এত সুন্দর কমলা হবে, আসলে কল্পনার বাইরে। এই ধরনের কমলার চাষ করতে পারলে লাভবান হওয়া যাবে। ধামইরহাট উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে লেবু জাতীয় ফসলের সম্প্রসারিত ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ফল বাগান প্রদর্শনীর তিন বিঘা জমি সাইদুল ইসলামকে দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মাল্টা ও কমলা চাষের জন্য তা বৃদ্ধি করা হয়।

এই অঞ্চল উচ্চ বরেন্দ্র-ভূমি শ্রেণীর মধ্যে পড়েছে। এই জমি সমতল জমির চেয়ে উঁচু। বর্তমানে এই জমিগুলো কমলা চাষের জন্য সবচেয়ে ভালো। কমলা চাষের জন্য যে ধরনের মাটি বৈশিষ্ট্য থাকার দরকার এই অঞ্চলে রয়েছে। তার বাগানের কমলা গাছের বয়স ২ বছর। এবারই প্রথম ফলন এসেছে। আশা করছি আগামী বছর এই ফলন অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ সব সময় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। কেউ এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে চাইলে কৃষি বিভাগ তাদেরকে স্বাগত জানায়। সেসব প্রশিক্ষণে ভূমি শ্রেণি অনুযায়ী কোন ফসল কোন জমিতে ভালো হবে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

যেসব উদ্যোক্তা ও বেকার যুবকরা কৃষিতে আসতে চায় তাদের নিজ নিজ উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে সে কি ফসল করতে চায় সেটার উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করলে আগামীতে কৃষি বিপ্লব ঘটবে। এবং এই এলাকায় বড় ধরনের কমলা বিপ্লব ঘটবে।

 

পাইকগাছায় পাখি শিকার করায় যুবককে কারাদন্ড

0

পাইকগাছ (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
পাইকগাছায় পাখি শিকারের অপরাধে হাসিব রহমান (৩২) নামের এক যুবককে কারাদন্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। দন্ড প্রাপ্ত যুবক উপজেলার গজালিয়া গ্রামের কুদ্দস মোড়লের ছেলে। পাখি শিকারী হাসিব মঙ্গলবার সকালে গজালিয়া এলাকায় এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকার করছিল।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক আলতাফ হোসেন হাসিবকে এয়ারগান ও এক’শ রাউন্ড সীসার গুলিসহ আটক করে।

তার কাছ থেকে শিকার করা বিভিন্ন প্রজাতির ৯টি পাখি উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম পাখি শিকারের অপরাধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন ২০১২ এর আওতায় আটক হাসিব কে ৭দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পেশকার মোহাম্মদ ইব্রাহিম, আনসার সদস্য ফয়সাল হোসেন ও জাহাঙ্গীর আলম।

 

পৌরসদর থেকে ৬ মোবাইল হ্যাকারকে আটক

0

পাইকগাছ (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার পাইকগাছা থানা পুলিশ পৌরসদর থেকে মোবাইলে প্রতারনার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৬ হ্যাকারকে আটক করেছে। সোমবার রাতে তাদেরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় পাইকগাছা থানায় ৩০/৩৫ ডিজিটাল নিরাপত্তা ২০১৮ ধারা মোতাবেক মামলা করেছে। মামলা নং ৫, তারিখ ৫/১২/২২। মঙ্গলবার সকালে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করে উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

আরও জানা যায় প্রত্যেকের কাছে একাধিক দামী মোবাইল ফোন ছিল। যাতে লাখ লাখ টাকা ছিল বলে প্রকাশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পুলিশ পরিদর্শক তাকবির হোসেন জানান, উপজেলার নুনিয়াপাড়া গ্রামের নারায়ন সরদারের ছেলে আকাশ (২৫),বিশ্বজিৎর ছেলে দীনেশ মন্ডল(২৫),ভগিরথ সানার ছেলে হীরক(২৪) ছালুবুনিয় গ্রামের কালিপদ ঢালীর ছেলে অমিত ঢালী (২১),পশ্চিম কাইনমুখী গ্রামের নিখিল মন্ডলের ছেলে চিন্ময়(২৪) ও আমুড়কাটা গ্রামের বিশ্বজিৎ বাছাড়ের ছেলে তপন বাছাড়(২৪) আই ফোন হ্যাক করে জি মেইল প্রতারনা করে গোপনে বিভিন্ন দেশে বিক্র করা সহ ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে হিসাব নম্বরে অর্থ স্থান্তর করে এ প্রতারকরা। এ সমস্ত প্রমান পাওয়ায় তাদেরকে আটক করা হয়। মোইল হ্যাক করে প্রতারণার বিষয় তারা স্বীকার করেছে বলে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউর রহমান জানান। মঙ্গলবার সকালে গ্রেফতার ব্যক্তিদের উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

পাইকগাছায় প্রধান শিক্ষকের নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন

0

পাইকগাছ (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ইউ,আর,এইচ,এস উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে একাধিক প্রার্থীর নিকট থেকে উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগে নিয়োগ বোর্ডের সদস্য সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার দাসের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবিতে গতকাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সচেতন অভিভাবকসহ এলাকাবাসী।

গতকাল বিকেলে ভূক্তভোগীদের পক্ষে স্থানীয় রহিমপুর বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়। আব্দুল গনি মোড়লের সভাপতিত্বে কর্মসূচীতে বক্তব্য রাখেন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সাবেক সদস্য সঞ্জয় মজুমদার, শহীদুজ্জামান মোড়ল, দিনু মজুমদার, বিদ্যালয়ের পিটিআই সদস্য মীর ইদ্রিস আলী, মোঃ বাচ্চু মোড়ল, ভুক্তভোগী মোঃ মোক্তার হোসেনসহ অন্যান্যরা।

মানবন্ধনে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কাম নৈশ প্রহরী পদে নিয়োগ পেতে নগদ ৭ লক্ষ টাকা প্রদান করেও চাকুরি পাননি স্থানীয় অসহায় চা-দোকানি। তারা আরো বলেন, বিদ্যালয়ের সাবেক নৈশ প্রহরী দিনু মজুমদারের মেয়ে কমলা মজুমদারকে আয়া পদে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে প্রধান শিক্ষক উত্তম দাশ ৪ লক্ষ টাকা গ্রহন করলেও তার চাকুরী হয়নি।

এসব টাকা ফেরৎ পাওয়ার পাশাপাশি তারা ঘটনার তদন্তপূর্বক তার শাস্তির দাবি করেন। এসময় মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা নিয়োগ বাণিজ্যেও সাথে সম্পৃক্ত প্রধান শিক্ষকের পাশাপাশি জড়িত অন্যান্যদেরও শাস্তি দাবি করেন।

ভূক্তভোগী মোক্তার হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, উপজেলার ইউ,আর,এইচ,এস উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষকসহ নৈশ প্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তা কর্মী ও আয়া পদের জন্য গত ১৩ জুলাই ২০২২ জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

এরপর নির্ধারিত ৫ নভেম্বর চাকরি প্রার্থীদের লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের জন্য ডাকযোগে এ্যাডমিড কার্ড পাঠানো হয়।

এর আগে তিনি নৈশ প্রহরী পদে আবেদনপূর্বক চাকুরী পেতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে ৭ লক্ষ টাকা প্রদানের চুক্তি করেন। সে অনুযায়ী ৩ কিস্তিতে স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের সাক্ষীদের উপস্থিতিতে সমুদয় ৭লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন। এরপর পরীক্ষার আগে গত ৩ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক মোক্তারকে ডেকে চাকুরি পেতে আরও ৩লক্ষ টাকা অতিরিক্ত দাবি করেন।

তবে তিনি দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে প্রদেয় টাকা ফেরৎ চান। এসময় অভিযুক্ত ঐ শিক্ষক ফের তাকে চাকুরী প্রদানে পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে বলেন।

সর্বশেষ গত ৫ নভেম্বর পাইকগাছা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় মোক্তার হোসেনের কাংখিত নৈশ প্রহরী পদে তাকে বাদ দিয়ে প্রশান্ত সরকার নামে অপর এক প্রার্থীকে নিয়োগ প্রদান করেন।

পরে স্বাক্ষীদের সাথে নিয়ে তিনি প্রধান শিক্ষকের নিকট গেলে ১ লক্ষ টাকা দিয়ে ৬ লক্ষ টাকা পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও নানা তালবাহানা করায় বাধ্য হয়ে তিনি পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যার নং- সি,আর নং-১২৬৯। বর্তমানে মামলাটি পিবিআই’র তদন্তাধীন রয়েছে।

 ঠাকুরগাঁওয়ে ছেলের চিকিৎসায় প্রধানমন্ত্রীর সাহায্য চান বাবা

0

রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতাঃ অনিক ইসলাম। বয়স মাত্র ১৪ বছর। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার তালপুকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। চার মাস আগে প্রতিবেশির ঘরের টিনের চাল ঠিক করতে  উঠলে বৈদ্যুতিক শকে অসুস্থ হয়। সেই বৈদ্যুতিক শকে প্রাণ না গেলেও মারাত্মক পঙ্গু হয়ে অসহায় জীবন পার করছে অনিক।

সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের পূর্ব নারগুন গ্রামের দিন মজুর মো. আব্দুর রহিমের বড় ছেলে অনিক। যে বয়সে স্কুলের সহপাঠীদের সঙ্গে পড়াশোনা আর খেলাধুলা করার সময়। সেই বয়সে মারাত্মক দুর্ঘটনায় মাথার এক অংশ ও গলার এক পাশ পুড়ে যায়। পায়ের আঙ্গুলে আঘাত পাওয়ায় সেটিও চিকিৎসকের পরামর্শে কেটে ফেলতে হয়েছে। এতে দুর্বিষহ জীবন পার করছে অনিক। ঠিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না,  ঘাড় নাড়াতে পারে না। এমনকি স্কুলে যাওয়া, খেলাধুলা সবই বন্ধ।

ইতোমধ্যে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা ব্যয় করেছেন তার দরিদ্র বাবা। চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় বর্তমানে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না পরিবারটি। তাই সন্তানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানসহ প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চান তার বাবা মো. আব্দুর রহিম।

আব্দুর রহিম ভোরের ডাককে বলেন, ‘তার চার সদস্যের পরিবার। দিন মজুরি দিয়ে হলেও ভালই চলছিল সংসার। তার বড় ছেলে অনিক ইসলাম পঞ্চম শ্রেণিতে ও ছোট ছেলে নিরব ইসলাম প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। একদিন তার প্রতিবেশি অনিককে তার ঘরের টিন ঠিক করার জন্য ডেকে নিয়ে যায়।

টিন ঠিক করতে উঠলে অনিক বিদ্যুতায়িত হয়। তাৎক্ষণিক অনিককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান। সেখানে তার চিকিৎসা করা হয়। চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ হলেও পঙ্গু হয়ে গেছে। তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করতে অনেক টাকার প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এতোদিন আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় চিকিৎসা করেছি। বর্তমানে টাকার অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেছে। নিজের আয় দিয়ে সংসার চালাব না ছেলের চিকিৎসা করাব? তাই আমি সমাজের বিত্তবান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আকুল আবেদন জানাচ্ছি। অর্থ সহায়তা পেলে হয়তো আমার ছেলেটা আগের মতো সব কিছু করতে পারবে।’

প্রতিবেশী আব্দুল কুদ্দুস, নূর মোহাম্মদ, আবুল কাশেম ও তাসিমা বেগম জানান, বৈদ্যুতিক শকে অসুস্থ হয় অনিক। এতে তার চিকিৎসা করাতে তার পরিবারের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। তার বাবা একজন দিন মজুর।

দিনে আনে দিনে খায়। সে সংসারের খরচ চালাবে না ছেলের চিকিৎসা করাবে। তাই সরকার যদি তার ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্য করতো তাহলে ছেলেটি সুস্থ হয়ে হয়তো আগের মতো সুন্দর জীবনযাপন করতে পারতো।

সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আগের মতো স্কুলে যাওয়া ও খেলাধুলা করার জন্য সমাজের বিত্তবান এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক সাহায্যের আকুল আবেদন অনিকেরও।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আবু তাহের মো. সামসুজ্জামান বলেন, অনিকের চিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাৎকারী ঝিকরগাছার বিল্লালের পদ স্থগিত

0

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার পানিসারা ইউনিয়নের কুলিয়া গ্রামের মৃত মোরশেদ আলীর স্ত্রী আমেনা বেগম ও তার ছেলে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের ঝিকরগাছা উপজেলা কমিটির সভাপতি কথিত ডাঃ বিল্লাল হোসেনকে নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়াতে সংবাদ প্রকাশ হয়।

যার জের ধরে গত রবিবার (০৪ ডিসেম্বর) রাতে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল’র চেয়ারম্যান মোঃ সোলাইমান মিয়া ও মহাসচিব শফিকুল ইসলাম বাবুুর অনুমতিক্রমে যশোর জেলার আহবায়ক কমিটির আহবায়ক কাজী টিটো ও সদস্য সচিব শাফি সমুদ্র এর স্বাক্ষরিত একটি সাংগঠনিক আদেশে ঝিকরগাছা উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ডাঃ বিল্লাল হোসেনের পদ সাময়িক স্থগিত করেছেন।

এছাড়াও আগামী ৩০দিনের মধ্যে ডাঃ বিল্লাল হোসেন কে তার স্বপক্ষে প্রমানাদি সংগ্রহ করে জেলা কমান্ড কাউন্সিলকে অবহতি করার নির্দেশ দেন। মুক্তিযোদ্ধার ভাতা আত্মসাৎকারী ও পদ সাময়িক স্থগিত হওয়া সভাপতি কথিত ডাঃ বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে এবার টিউবওয়েল দেওয়ার নামে প্রায় ২৫০জনের নিকট থেকে অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালের শেষের দিকে অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন এলাকাবাসীদেরকে বলে, সরকার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে আর্সেনিক মুক্ত গভীর নলকুপ স্হাপন করবে। সে ঝিকরগাছা উপজেলার সভাপতি হিসাবে একশত টিউবওয়েল বরাদ্দ পেয়েছে।

প্রতিটি টিউবওয়েল এর জন্য ২হাজার ৫শত টাকা হারে জমা দিতে হবে। আর নামমাত্র টাকায় আর্সেনিক মুক্ত টিউবওয়েল পাওয়ার আশায় আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আগ্রহ প্রকাশ করে।

আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সুচতুর সভাপতি নামধারী বিল্লাল হোসেন প্রায় ২৫০জন লোকের নিকট থেকে প্রায় ৬ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। টিউবওয়েল গুলো ৩মাসের মধ্যে স্থাপনের কথা থাকলেও বছর পার হয়ে গেলেও আজ অবধি কেউ একটিও টিউবওয়েলও পায়নি। কেউ সেই টিউবওয়েলের কথা বলতে গেলে তিনি বলেন, টিউবওয়েল হবে না আর টাকাও দিতে পারবো না।

কুলিয়া গ্রামের সোহেল রানা বলেন, টিউবওয়েলের জন্য আমি আড়াই হাজার টাকা দিয়েছি এক বছর আগে। এখনো টিউবওয়েল পায়নি। এবিষয়ে কিছু বললে বিল্লাল ডাক্তার ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। একই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আনারুল ইসলাম বলেন, আমি বিল্লালের কাছে ৫টি টিউবওয়েলের জন্য টাকা দিয়েছি।

আজ দিব, কাল দিব বলে সে আমাকে ঘোরাচ্ছে। পানিসারা গ্রামের ইউপি সদস্য আব্দুল আলিম বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে ডাঃ বিল্লাল হোসেন বহু মানুষের কাছ থেকে আড়াই হাজার করে টাকা নিয়েছে টিউবওয়েল দেবে বলে। আমিও গ্রামের মসজিদ, মাদ্রাসা এবং মন্দিরের জন্য ৪টি কলের টাকা দিয়েছি।

এখন টিউবওয়েলও পাচ্ছি না, টাকাও পাচ্ছি না। পানিসারা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা ইউপি সদস্য হাসনা হেনা বলেন, সস্তায় টিউবওয়েল পাওয়ার জন্য গ্রামের ১০জন মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিল্লালকে দিয়েছিলাম। এখন লজ্জায় তাদের সামনে যেতে পারিনা।

একই ইউনিয়নের আরেক সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তরুনা বেগম বলেন, আমি ৫ জনের নিকট থেকে টাকা নিয়ে বিল্লালকে দিয়েছি। সে আজ এক বছর ধরে ঘোরাচ্ছে।

একটি টিউবওয়েলও কাউকে দেয়নি। এছাড়াও কুলিয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম, বাবলু, কৃষ্ণচন্দ্রপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান, আলমগীর, লাল্টু সহ পার্শ্ববর্তী হাজিরবাগ, নির্বাসখোলা এবং বাঁকড়া ইউনিয়নের বহু মানুষের কাছ থেকে এভাবে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কথিত ডাঃ বিল্লাল হোসেনের মামা ও সাদা মনের মানুষ খ্যাত সায়েদ আলী বলেন, গ্রামের অনেক মানুষ অভিযোগ করছে যে তাদের কাছ থেকে বিল্লাল টাকা নিয়েছে। আমিও আমার বোন জামাই আতিয়ারের জন্য একটি টিউবওয়েল নিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা দিয়ে ছিলাম।

এখন সবার মত আমিও কোনো টিউবওয়েল পাইনি, পাবো কিনা জানিনা। পানিসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পিপুল বলেন, বিল্লাল আমার কাছ থেকে একটি টিউবওয়েল এর জন্য ২৫০০ টাকা নিয়েছে। এখন শুনছি এরকম ২০০/২৫০ লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে।

গত মাসের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এই বিষয়টি নিয়ে ইউএনও সাহেবকে বলেছি। তিনি নামের তালিকা করে জমা দিতে বলেছেন। খুব শীঘ্রই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কথিত ডাঃ বিল্লাল হোসেনের সাথে যোগাযোগের জন্য তার ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের যশোর জেলার কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব শাফি সমুদ্র বলেন, আমাদের সংগঠন থেকে এভাবে টিউবওয়েল দেওয়ার কোনো প্রকল্প নেই। সংগঠনের নাম ভাঙ্গিয়ে তিনি যদি টাকা আত্মসাত করেন তাহলে তার দায় দায়িত্ব তার।

ইতিমধ্যে আমাদের সংগঠন থেকে তার পদ সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল হক বলেন, এলাকাভিত্তিক এধরণের প্রতারণার করলে ভুক্তভোগীগন যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ খবর