Breaking News

খেজুর গুড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় চৌগাছায় খেজুর গুড় মেলার উদ্বোধন

ফারুক আহম্মদ; চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ খেজুর গু ড়ের ঐতিহ্য রক্ষায় যশোর জেলার চৌগাছা উপ জে লায় খেজুর গুড় মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গ লবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা চত্বরে এ মেলার উদ্বো ধন করা হয়েছে।

যশোরের যশ, খেজুরের রস; স্বাদে সেরা গন্ধে ভরা, খেজু র গুড়ে মনোহরা- এ ঐতিহ্য ধারণ করে চৌগাছা উপজে লা প্রশাসনের উদ্যোগে স্থানীয় গাছিদের নিয়ে মঙ্গলবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত উপ জেলা চত্বরে তিন দিনব্যাপী এই গুড়ের মেলা চলবে।

‎মঙ্গলবার সকালে মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভির আহমেদ।

‎অতিরিক্ত কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এ জেড উবাইদুল্লাহর পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত পরি চালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যশোর অঞ্চল আলমগীর বিশ্বাস।

‎বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্র সারণ অধিদফতর যশোর অঞ্চল মোশারফ হোসেন, টেক সই কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মাসুম আব্দুল্লাহ, উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রেশমা খাতুন।

চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিসার মুশাব্বির হোসাইন, উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শামিম খান, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, বাদশা ফয়সাল, শামীম আহমেদ ও চাঁদ আলী প্রমুখ

‎এ মেলার প্রথম দিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক গাছি তাদের উৎপাদিত ঝোলাগুড়, দানাগুড়, পাটালি, বাদাম-পাটালি, তিল-পাটালি নিয়ে অংশ নেন। এ ছাড়া নারী উদ্যোক্তারা গুড় দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পিঠার স্টল দিয়েছেন।

‎উপজেলা প্রশাসন আশা করছে, মেলা থেকে তিন দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ শ’ মণ গুড় বিক্রি করতে পারবেন গাছি রা।

‎উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, উপ জেলায় খেজুর গাছ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজারটি। যার মধ্যে রস উৎপাদনের মতো খেজুর গাছ রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার, যা থেকে উপজেলার প্রায় ১৫০০ গাছি রস উৎপাদন করে থাকেন।

সে হিসেবে মৌসুমে প্রতিটি গাছ থেকে ৮০ লিটার রস পাওয়া যায়। এ বছর উপজেলায় মোট ৮৭২৩২ লিটার রস সংগ্রহহের সম্ভাবনা রয়েছে। যা থেকে গুড় তৈরি হবে প্রায় ২১৮ মেট্রিক টন।

প্রতিকেজি গুড় ৪০০ টাকা দর হিসেবে ৮,০৭২,২১২ টাকা আয় হবে। দেশের অন্যান্য এলাকার থেকে চৌগাছার খে জুর গুড়ের স্বাদ বেশি হওয়ায় এর চাহিদা বেশি বলেও তিনি জানান।

‎উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির আহমেদ বলেন, ‘মেলার তিন দিনে গাছিরা ৫০০ থেকে ৬০০ শ’ মণ গুড় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছি।’

‎তিনি বলেন, ‘উপজেলা প্রশাসন সব সময়ই গাছিদের পাশে ছিল, আগামীতেও থাকবে।’

About admin

Check Also

চলতি অর্থবছরের সাত মাসেই রেকর্ড: মোংলা বন্দরে কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে অভূতপূর্ব প্রবৃদ্ধি

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা বাগেরহাট : মোংলা সমুদ্র বন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর …