Related Articles
; চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধিঃ যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলায় সরকারের বিনা অনুমতিতে পুকুর খনন (সংস্কার) ও মাটি বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানে মিলন হোসেন (২২) নামে এক ব্যক্তিকে অর্থদ ণ্ড দেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
৯৯৯-এ অভিযোগ, প্রশাসনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যাত্রাপুর গ্রামের একটি পুকুরের মালিকপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন করে আসছিলেন। খননকৃত মাটি ট্রাকযোগে অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের এক সচেতন ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ অভিযো গ দায়ের করেন।
৯৯৯ থেকে অভিযোগটি চৌগাছা থানার অফিসার ইনচা র্জ (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রশাসন ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্কেভেটর ও ট্রাক জব্দ, জড়িতদের আটক চৌগাছা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) নুরুল আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের এক টি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পায়, স্কেভেটর (এক্সকা ভেটর) দিয়ে পুকুর খননের কাজ চলছিল এবং মাটি ট্রা কে করে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল।
এ সময় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি স্কেভেটর ও মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত কয়েকটি ট্রাক জব্দ করা হয়। কা জের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসা বাদ করা হয়।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেশমা খাতুনের নেতৃত্বে ঘটনা স্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। প্রাথমিক তদন্তে অনুমতি ছাড়াই পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির সত্যতা পাও য়ায় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ১৫(১) ধারায় মিলন হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমা না করা হয়। জরিমানার অর্থ তাৎক্ষণিক ভাবে আদায় করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর আহমেদ বলেন,“জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
সরকারি অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন ও মাটি বিক্রি সম্পূর্ণ অবৈধ। আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনে র অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় প্রশাসন নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখবে।পরিবেশগত উদ্বেগ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনুমতি ছাড়া পুকুর খনন ও মাটি বিক্রির ফলে কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং পরি বেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অনেক সময় গভীর খননের কারণে পাশের জমি ধসে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
তাদের মতে, প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বিক্রির প্রবণতা কমে আসবে এবং এলাকায় আইন শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষা নিশ্চিত হবে।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে