Related Articles
জাহাঙ্গীর আলম,যশোর:
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে কৃষি কাজে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করছেন গ্রামীন কৃষকরা।
ধান কাটার পর জমি পতিত না রেখে গম, সরিষা, মসুর ডাল, আলু, পেঁয়াজ ও রসুন চাষে ঝুঁকছেন তারা।
শীতকালীন পরিবেশে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবা র ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষক ও কৃষি সংশ্লিষ্ট সূধিজনেরা।
উপজেলার স্বরূপদাহ, ফুলসারা, সিংহঝুলি, হাকিমপুর ও নারায়ণপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে সরিষা ও ডালজা তীয় ফসলের আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
কৃষকদের ভাষ্য, রবি শস্য চাষে খরচ তুলনামূলক কম হলে ও উৎপাদনের পর ন্যায্য বাজারমূল্য না পেলে লাভে র মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়ে।
চৌগাছা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসু মে রবি শস্যের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা টার্গেটের কিছু কাছা কাছি, আবার কিছু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
গমের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ২৮৫ হেক্টর। সরিষা লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৮০০ হেক্টর, অর্জন হয়ে ছে ৩৪৪৪ হেক্টর। মসুরি লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৪০৫ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৪০০ হেক্টর।
ভুট্টার লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৫৯০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৪২৪ হেক্টর। বোরোধানের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ১৮৩৮০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৫৮৫০ হেক্টর।
আলুর লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৩৫০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৩৬০ হেক্টর। পানের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৮০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৮০ হেক্টর। পেঁয়াজের লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৪৫৯ হেক্টর, অর্জ ন হয়েছে ৩৯১ হেক্টর। রসুন লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৯০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৯০ হেক্টর। এই অর্জনটা ১৫ জানুয়ারি ২৬ তারিখ পর্যন্ত। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশাব্বির হোসা ইন বলেন,রবি শস্য চৌগাছার কৃষিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডাল ও তেলবীজ, এবং বিভিন্ন ধরনের শাক সবজি, ও মসলা উৎপাদনের মাধ্যমে এটি খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
তবে সেচের জন্য ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তবে সেচের জন্য ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক কৃষক অভিযোগ করেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে তারা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উপজেলার কৃষক জামাল উদ্দিন , ইব্রাহিম খলিল , সো হরাব হোসাইন ও আব্দুল কাদের বলেন, “ফসল ভালো হলেও বাজারে দাম না পেলে সব পরিশ্রম বৃথা যায়।
সরকারি পর্যায়ে সংরক্ষণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গে লে রবি শস্য চাষ আরও বাড়বে।” খাদ্য প্রকৌশলী ইয়া সিন আরাফাত (BSc & MSc (Food Engineering) Jashore University Of Science and Technology) বলেন, পরিকল্পিত সেচব্যবস্থা, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণাগার এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা গেলে চৌগা ছায় রবি শস্য উৎপাদন কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে টমেটো, পেঁয়াজ ( পচ নশীল ) জাতীয় খাদ্য সংরক্ষণের জন্য সরকারি ভাবে চৌগাছা উপজেলায় একটা হেমাগার তৈরি করলে দেশ ও জাতি সকলে উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।
চৌগাছা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এ. জেড. এম. ওবাইদুল্লাহ,৷ বলেন, বরাবরের মত চৌগাছা উপ।জেলা রবি শষ্য উৎপাদন অনেক ভালো হয়েছে।
সামগ্র বাংলাদেশের সবজির চাহিদা মেটাতে চৌগাছার কৃষকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও টেকসই কৃষি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি অফিস যুগোপযোগী বিভিন্ন পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তার মাধ্য মে কৃষকদের সহায়তা করে আসছে। উত্তম কৃষি চর্চার মাধ্যমে চৌগাছা উপজেলা নিরাপদ ও উচ্চ মূল্যের সবজি উৎপাদন হাব হিসাবে গড়ে ওঠার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
কিছু অসাদু ব্যবসায়ী, মধ্যস্বত্বভোগী ও সংরক্ষণাগারের অভাবে এই অঞ্চলের কৃষি তথা কৃষক অনেক পিছিয়ে পড়ছে। কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে তার ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি থেকে। এইসব ছোট ছোট প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নের মধ্যমে সমগ্র দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব।
চৌগাছা উপজেলায় রবি শস্য শুধু শীতকালীন ফসল নয়; এটি কৃষি অর্থনীতি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তার একটি গুরুত্ব পূর্ণ ভিত্তি।
এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে নীতিগত সহায়তা ও বাজার সংস্কার এখন সময়ের দাবি।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে