যশোর প্রতিনিধি : যশোরের চৌগাছা উপজেলার পুড়া পাড়া বাজারের অধিকাশ ফার্মেসীতে এমআরপি লঙ্ঘন করে ওষুধ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
৬ টাকা এমআরপি লেখা একটি ওষুধ ১০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে এই তথ্য যতটা না আর্থিক ক্ষতির, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো দোকানদারের যুক্তি।
তিনি দাবি করেছেন, কোম্পানি সাপ্লাই না দেওয়ায় যশোর থেকে বেশি দামে কিনতে হয়েছে, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। প্রশ্ন হলো আইন কি এমন অজু হাতকে স্বীকৃতি দেয়?
উত্তর স্পষ্ট না। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এবং ড্রাগ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২ অনুযায়ী এমআ রপি হলো সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য।
খুচরা বিক্রেতা যেখান থেকেই যত দামেই ওষুধ সংগ্রহ করুক না কেন, এমআ রপি’র বেশি দামে বিক্রির কোনো সুযোগ নেই।
বেশি দামে কেনা হলে বিক্রি বন্ধ রাখা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ ক্ষকে জানানোই হলো আইনি পথ। কিন্তু সেই দায় ক্রেতার ঘাড়ে চাপানো সম্পূর্ণ বেআইনি।
আরও উদ্বেগজনক হলো, এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ক্রেতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
এটি প্রমাণ করে—কিছু ফার্মেসি শুধু আইন নয়, ভোক্তার ন্যূনতম সম্মানও মানতে প্রস্তুত নয়।
“মডেল ফার্মেসি” ধারণাটি চালু হয়েছিল সাধারণ মানু ষকে নিরাপদ ও ন্যায্যমূল্যে ওষুধ দেওয়ার জন্য।
কিন্তু বাস্তবে যদি এসব ফার্মেসিই এমআরপি লঙ্ঘন করে, তবে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? নিয়মিত মনিটরিংয়ের অ ভাব এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার সুযোগে এ ধর নের অনিয়ম বাড়ছেই।
এখন সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান নেওয়ার। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান, লাইসেন্স বাতিল এবং জরিমানার বাস্তব প্রয়োগই পারে এই নৈরাজ্য ঠেকা তে।
একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হয়ে প্রতিবাদ ও অভি যোগ জানাতে হবে।
কারণ এমআরপি যদি শুধু প্যাকেটের লেখাই হয়ে থাকে, আর বাস্তবে তার কোনো মূল্য না থাকে। তবে আইন থা কার অর্থই বা কী?
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে