Breaking News

ঝিকরগাছায় নিজের বেলায় ধুমধাম : প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদের ‘রাজকীয়’ বিদায় ঘিরে বিতর্ক

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঝিকর গাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বিএম) হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষ ক মোঃ আব্দুস সামাদের নিজের বেলায় ধুমধাম ভাবে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান করে ঘরে ফিরবেন।
কিন্তু তার বাড়ি ফেরার পূর্বেই অনুষ্ঠান বন্ধের দাবিতে গত রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সহকারী শিক্ষক এম আতিয়ার রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে ছে।
আবেদনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে অর্থ আদা য়ের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১ জানুয়ারি প্রধান শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন। তাঁর বিদায় উপলক্ষে জাঁকজ মকপূর্ণ অনুষ্ঠানের তোড়জোড় চললেও এর আগে অবস র নেওয়া প্রবীণ শিক্ষকদের কোনো সম্মানজনক বিদায় দেওয়া হয়নি।
এম আতিয়ার রহমান অভিযোগ করেন, তাঁদের অত্যন্ত অমর্যাদাকরভাবে বিদায় নিতে হয়েছে, যা শিক্ষক সমা জের জন্য অপমানজনক। এই বৈষম্য দূর করতে রাজ কীয় অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, স্কুলের সাধারণ ফান্ডে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা থাকলেও শিক্ষক-কর্মচা রীদের ১৫ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে।
অথচ প্রধান শিক্ষকের বিদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাথাপিছু ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা ও খন্ডকালীন শি ক্ষকদের মাথা প্রতি ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া স্কুলের ফান্ড থেকে প্রধান শিক্ষককে ৫ লক্ষ টাকা প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও তার বিদায় অনু ষ্ঠান ঘিরে প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ৫লক্ষ টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, এসএসসিদের ও হেড স্যারের বিদায় দেও য়া বিষয়ে টাকা নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আমি পরে জানতে পেরে বন্ধ করে দিয়েছি। স্কুলের ছেলেপিলে তাদের মত করে বিদায় দেবে এখানে টাকা পয়সার কোন বিষয় নেই। আর শিক্ষকরা কি করবে সেটা তাদের বিষয়। তারা যদি মনে করে আমি হেড স্যারকে ৫হাজার টাকা দিবো সেটা তাদের বিষয়।
আমি এই বিষয়ে জানিনে কিছু।শিক্ষক কর্মচারীর বেতন বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, এখন আমাদের কোন কমিটি নেই। নতুন কমিটি না হওয়া পর্যন্ত টাকা তুলতে পারছি না। যার কারণে স্যারদের বেতন দিতে পারছি না।
সামনে নতুন কমিটি হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছুই নেই। যেভাবে বিদায় দিবে সেই ভাবেই আমি বিদায় নিয়ে চলে আসবো।
আমি সারাজীবন বহু ত্যাগ স্বীকার করেছি। আর অভিযো গ দিয়েছে দিক। ঐ অভিযোগ আমি শুনলাম। ও আমার নতুন বিষয় না। আর হচ্ছে তাদেরকে দাওয়াত দিছি।
তারা আসেনি। তাছাড়া সবাইকে বিদায় দিয়েছি। কিন্তু হয়তো এতো জাকজমকপূর্ণ ভাবে দিতে পারিনি। তখন অবস্থা ভালো ছিলো না।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুল কমিটির সভাপতি মোছা. রনী খাতুন জানান, তিনি লিখিত আবেদন পেয়ে ছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধের সুযোগ কম।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠান বন্ধে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

About admin

Check Also

শার্শার উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত   

(শার্শা) উপজেলা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যশোরের শা র্শার উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে …