Breaking News

ঝিকরগাছায় সহকারী শিক্ষকদের বিদায় না দিয়ে প্রধান শিক্ষক নিজের বিদায় নিতে মরিয়া : ফেসবুকে তোলপাড়

আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : যশোরের ঐতিহ্য বাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঝিকরগাছা বদরুদ্দিন মুসলিম (বি.এম) হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষকদের বিদায় না দিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ নিজের বিদায় নিতে মরিয়া হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মনোকষ্ট নিয়ে সাবেক শিক্ষকদের পক্ষে লিখেছেন অবস রপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমান ও লাউজানী নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরাফুল আলম।
তথ্য সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩১ জানুয়ারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদের শেষ কর্মদিবস। উক্ত কর্মদিবসকে ঘিরে সম্প্রতি সময়ে বিভিন্ন মিটিং ও আলোচনা সভার আয়োজন করে এবং আগামীতে প্রধান শিক্ষকের বিদায় নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিতে যাচ্ছে।
তারই মধ্যে মঙ্গলবার (২০জানুয়ারী) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে খুব মনোকষ্ট, দুঃখ, বেদনা নিয়ে সকল শিক্ষকদের পক্ষে অবসরপ্রপ্ত সহকারী শিক্ষক আতিয়ার রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তার ব্যবহৃত এম. আতিয়ার রহমান আইডিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিএম হাই স্কুলের সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে লি খেছেন, সবিনয়ের সহিত আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যে আমি এম আতিয়ার রহমান, অবসরে যাওয়া সিনিয়র শিক্ষক। ইতি পূর্বে বর্তমান হেড মাষ্টার আঃ সামাদ কোন শিক্ষকের বিদায় দেয় নাই।
বিশেষ করে সিঃ শিক্ষক মশিয়ার রহমান মৃত, সিঃ শিঃ অমূল্য রতন মৃত, মাওলানা শিঃ ইসরফিল হোসেন মৃত, সিঃ শিঃ আতিয়ার রহমান, সিঃ শিক্ষক ফজলুর রহমান সহ অনেক শিক্ষক অবসরে চলে চলে গেছেন, কিন্তু কোন শিক্ষকের বিদায় অনুষ্ঠান করা হয়নি। সবাইকে খুব মনো কষ্ট, দুঃখ, বেদনা নিয়ে চলে যেতে হয় বা হয়েছে। আমরা জানতে পেরেছি হেড মাষ্টার আঃ সামাদ এর বিদায় অনু ষ্ঠান ঘটা করে করা হচ্ছে, একে তো আমরা মনোকষ্টে আছি তারপর আরও মনোকষ্ট বেড়ে গেল। অতএব জনা বের নিকট বিনীত অনুরোধ যে হেড মাষ্টারের বিদায়টা আমাদের মতো হোক এটাই আপনার নিকট কাম্য বা আপনার হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন তিনি।
এছাড়াও প্রধান শিক্ষকে নিয়ে একই দিনে লাউজানী নিউ মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আশরা ফুল আলমের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ঝিকর গাছা বিএম হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জনাব আঃ সামা দের ৬০ টি বেঞ্চের খুয়া ও রশিদ না কেটে অর্থ আত্মসাৎ তদন্ত করেন পূর্বের এসি ল্যান্ড জনাব নাভিদ সরোয়ার। তদন্তের সময়  বাদী, সমাজ সেবা অফিসার জনাব মেজ বাহ উদ্দিন ও ভূমি অফিসের মোঃমুকুল ভাই উপস্থিত ছিলেন। তদন্তে প্রধান শিক্ষক নিজেই স্বীকার করলেন সরকার আমাকে করোনা কালীন সময়ে বেঞ্চ গুলো দিয়ে ছিলো। কিন্তু পরে কি হয়েছে আমি জানি না।কিন্তু তিনি অকপটে স্বীকারও করেছেন আমার বিদ্যালয়ের সভাপতি নিপুণ সাহেব নতুন করে ৬০ টি বেঞ্চ তৈরি করে দিয়ে ছেন। তবে আমার জানামতে তিনি আরেক অবৈধ টাকা অর্থাৎ লেকচার পাবলিশার্সদের দেয়া টাকা দিয়ে তড়ি ঘড়ি করে ৬০ টি বেঞ্চ তৈরি করেছেন।
প্রশংসা পত্র ও অন্যান্য ছাড় পত্র প্রদান বাবদ টাকা নিয়ে রশিদ আগে কাটতাম না তবে ২০২৫ সাল থেকে কাটছি। কিন্তু আমার অভিযোগ ছিলো বিগত ৫ বছরের রশিদ কেটে তার হিসাব সংরক্ষণ করেছেন কিনা। তিনি সেখা নেও তদন্ত কারী কর্মকর্তাকে বলেছিলেন না।
যাই হোক এবার আসি  তার নিজের ও অন্য শিক্ষকদের বিদায় অনুষ্ঠান নিয়ে। আঃ সামাদ সাহেবকে যিনি এ বিদ্যালয়ে আনার পৃষ্ঠপোষকতায় ছিলেন তিনি মরহুম জনাব মশিয়ার রহমান। তাকে কিভাবে বিদায় দিয়েছেন? তারপর শ্রী অমূল্য রতন বিশ্বাস (গোপাল স্যার)।
তার দুটি ছেলে তখন পড়াশোনা করতো। যারা আজ একজন ইউএনও অন্য জন এসিল্যান্ড। চোখের পানি ফেলে খালি হাতে বিদায় নিয়েছেন।
আলি আহমদ স্যার, মোঃ ফজলুর রহমান, মোঃ আতিয়ার রহমান। এলকার অভিভাবক সহ সকলেই এসব বিষয়ে অবগত। কারো বেলায় অনুষ্ঠান করতে পারলেন না কিন্তু নিজের বেলায় ষোলো আনা।
তিনি বিদায় অনুষ্ঠান করুক কিন্তু যে সকল শিক্ষক বৃন্দ এখনো জীবিত আছেন এবং যারা মৃত্যু বরণ করেছেন তাদেরকে ওয়ারিশদের ডেকে সকলে মিলেমিশে করুন সেটাই মনে হয় বেশি সৌন্দর্য হবে।
তিনি সকল ক্ষেত্রে নিজের জন্য ২০০% কিন্তু অন্যদের জন নাম মাত্র। যেমনঃ নিজের স্কুলের বেতন ৩০০০০/- ৩৫০০০/ টাকা অন্য শিক্ষকদের অনেক অনেক কম।
তিনি ম্যানিজিং কমিটি কে হাত করে সব করে নিতেন। এবার আসুন কোচিং বাণিজ্য। কোচিং এর টাকা অন্য শিক্ষক বৃন্দ পাবেন, তিনি ৬০-৭০ হাজার টাকা নেবার পর। অথচ তিনি একটা ক্লাসও করেননা। যাইহোক লিখ লে আরো অনেক কিছু লেখা যাবে।আমরা যেমন ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার বাংলাূদেশ। আসুন সকল ক্ষেত্রে স্বৈরাচা রের পতন হোক, ইনসাফের বিজয় হোক।
প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, জানি আমরা সব জানি। ভিতবে অনেক কথা থাকে যে কথা গুলো সব বলা যায় না। সেদিন তাকে বিদায় দেবো বলে দাওয়াত দিলাম কিন্তু তিনি আসেনি। তখন স্কুলের অবস্থা একরম ক ছিলো।
স্কুলের অবস্থা কি সব সময় এক রকম থাকে। তখন আমার হাতে কোন পয়সা কড়ি ছিলো না। যা ছিলো তাই দিয়ে দিছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকতা করতে পারিনি। তারা কি স্কুলটাকে উন্নতি করে গেছে না ধংস করে গেছে ? তার পরেও আমি তাদেরকে সর্বচ্চো সম্মান দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কুলের সভাপতি মোছা. রনী খাতুন বলেন, এভাবে আমি কোন আবেদন পাই নাই। আবেদন আসুক। আর কাকে বিদায় দিবে আর না দিবে সেটা তো স্কুল কর্তৃপক্ষের ম্যানেজিং কমিটি আছে ম্যানে জিং কমিটি দেখবে।
এই বিষয়ে কথা বলার তো কিছু নাই। ফেসবুকে তাকে নিয়ে লেখা হচ্ছে এই সম্পর্কে তিনি বলেন, হতে পারে। যার যা ইচ্ছা সে সেটা লিখতে পারে। ফেসবুকের তো নিয়ন্ত্রণ নাই।

About admin

Check Also

শার্শার উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত   

(শার্শা) উপজেলা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যশোরের শা র্শার উলাশী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে …