Related Articles
ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি।
অন্যদিকে ষ্ট্রোকে মৃত্যুর দাবী করে সংবাদ সম্মেলন করে ছে জামায়াতে ইসলামী ঝিনাইদহ সদর শাখা।
শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১২ টার দিকে ঝিনাইদহ মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিএনপি।
মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, দলটির নেতাকর্মী ছাড়াও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন।
সেসময় জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে মাথায় আঘাত করে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে।
সিটি স্ক্যানে তার মাথায় আঘাতের ক্ষত চিহ্ন রয়েছে, যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন তারা ইনসা ফের লেবাস পরে করে বে ইনসাফ, ওরা একটা বেইমান মুনাফেক দল। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হত্যার বিচার চাই।
এদিকে তরু মুন্সীর মৃত্যু স্টোকজনিত কারণে হয়েছে বলে দাবী করেছে জামায়াত।
শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ স ম্মেলনে এ দাবী করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের থানা আমীর ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফ তার মাহফিল ছিলো।
সেখানে বিএনপির লোকজন গিয়ে নারীদের মারধর ও শ্লীলতাহানী করে। যে কারণে স্থানীয় জামায়াত নেতা কর্মীদের সাথে তাদের সংঘর্ষ হয়।
এতে দুইপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়। তরু মুন্সীর গায়ে কেউ আঘাত করেনি, তিনি হার্টের রুগী , তার মৃত্যু স্টোকজতিন কারণে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. হাবি বুর রহমান।
তিনি আরও বলেন তরু মুন্সী শারিরীক ভাবে অসুস্থ ছি লেন। মারামারির কারণে তিনি আতংকগ্রস্থ হয়ে স্টোক করেন। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এই মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে তাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও দো কানপাট ভাংচুর করা হচ্ছে।
উল্লেখ, শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা শাখার পক্ষ থেকে ইফতারের আয়ো জন করা হয়।
দুপুরে ইফতারের আয়োজন নিয়ে নারী কর্মীদের সাথে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাক-বিতন্ডা হয়।
এক পর্যায়ে মহিলা কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সাথে বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদের মধ্যে কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীর অবস্থা গুরুতর হলে ঢাকায় রেফার্ড করা হয়। সেখানে রাত ৮ টার দিকে মারা যায় তরু মুন্সী। নিহত তরু ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।
এবিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিল্লাল হোসেন (অর্থ এন্ড প্রশাসন) জানান, তরু মুন্সীর ছেলে শিপন মিয়া ৫১ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং সেই মামলায় এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়ে ছে।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে