ডেস্ক নিউজঃযশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসনে জামায়াত মনো নীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ডা.মোস লেহ উদ্দীন ফরিদের প্রার্থিতা নিয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী ১৫ জানুয়ারি।
গত রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন কমি শনে (ইসি) শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করা হয়।
এর আগে ক্রেডিট কার্ডের বিল ও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে করা অভিযোগের ওপর বিষয়ে শুনানি হয়।
পরে আগামী ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তা মুলতবি করে নির্বাচন কমিশন।
নিজের বিরুদ্ধে আনা দুই অভিযোগ প্রসঙ্গে ডা. মোস লেহ উদ্দীন ফরিদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর আগে বিদেশে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই, তখন আমি একটি কোম্পানির ডিরেক্টর ছিলাম। সেই কো ম্পানির একটি ক্রেডিট কার্ড ছিল ত্রিশ হাজার টাকা র।
ওই সময় কোম্পানির এক কোটি লাখ বিশ লাখ টাকা র একটি লোন ছিল। লোনটা সম্পূর্ণ পরিশোধ করে যাই।
কারও একটি ভুলের কারণে এই ত্রিশ হাজার টাকা শোধ দেওয়া হয়নি। আমি বিদেশের চলে গেলেও ব্যাংকের কারছে আমার দুইটা স্থায়ী ঠিকানা ছিল, তারা গত ২৪ বছরে কোনো যোগাযোগ ওখানে করে নি।
এ কারণে আমার জানা ছিল না যে, আমার লোন আ ছে। আমি যদি এক কোটি বিশ লাখ টাকা শোধ করে যেতে পারি, তাহলে ত্রিশ হাজার টাকা দেওয়ায় তো কোনো সমস্যা ছিল না।
আমি নমিনেশন দেওয়ার পর জানতে পারলাম যে, এই ৩০ হাজার শোধ হয়নি।
পরে এটা আমরা দিয়ে এর সার্টিফিকেট রিটার্নিং অফিসা র দিই। যারা এই ছোটখাট বিল পরিশোধ করেনি, তাদের অনেককেই সুযোগ দেওয়া হয়েছে, আমরা যেটা পত্রপত্রি কায় দেখছি।’
‘আর দ্বিতীয় হলো, সিটিজেনশিপের ব্যাপার। প্রতি দ্বন্দ্বী একজন প্রার্থীর পক্ষ থেকে আমার দ্বৈতনা গরিকত্বের ব্যাপারে কমিশনে আবেদন করা হয়েছে।
আমার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ফেরত দেবার যাবতীয় কাগ জ পত্র কমিশনে দাখিল করা হয়েছে।
আমি যখন এটা সমর্পণ করলাম, তখন বাংলাদেশি পাসপোর্টেই আমি দেশে এসেছি। কারণ ব্রিটিশ পাস পোর্ট তখন আমার নাই।
সেটারও ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে। আগামী ১৬ তারিখ শুনানি হবে। ইনশাআল্লাহ রায় পক্ষেই আসবে’।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) সূত্র জানিয়ে ছে, প্রতিথযশা শিশু হৃদরোগ ও ইনটেনসিভ কেয়ার (আই সিইউ) বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদ যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম শরী ফ হোসেনের ছেলে।
তাঁর জন্ম ১৯৬১ সালে যশোরের খড়কি ঐতিহ্যবাহী পীর বাড়িতে। তিনি ১৯৭৭ সালে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৯ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পাস করেন।
পরে ভর্তি হন ঢাকা মেডিকেল কলেজে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্র শিবিরের সভাপতি ছিলেন।
সেখান থেকে এমবিবিএস পাস করে যোগ দেন ঢা কার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে।
সেখানে দুই বছর কাজ করে উচ্চ শিক্ষার জন্য যুক্ত রাজ্যে চলে যান।
সেখানে এমআরসিপিসিএইচ, এফআরসিপিসিএইচ এবং ডিসিএইচ ডিগ্রি নেন।
ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদ সেখানে ইউনিভার্সিটি হসপিটালস বার্মিংহামে কার্ডিওলজি বিভাগের কন সালটেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
তিনি ইউরোপ-বাংলাদেশ ফেডারেশন অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর, আল কুরআন একাডেমি লন্ডনের ট্রাস্টি, ইডেন একাডেমি কভেন্ট্রি ইউকের ট্রাস্টি এবং সেন্টার ফর অল্টারনেটিভ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ইউকের প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পাল ন করছেন।
দলের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ছেড়ে দেশে আসেন ডা. ফরিদ।
বর্তমানে আদ্ দ্বীন হাসপাতালে কর্মরত আছেন তিনি।
ডা. ফরিদ বলেন, জুলাই বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসা র জন্য সরকার লন্ডনে পাঠানোর পরিকল্পনা করে।
তবে প্রত্যেক আহতের সাথে এটেনডেন্টসহ পাঠানো এবং অন্যান্য জটিলতা ছিলই।
সে কারণে লন্ডনে আহ তদের না নিয়ে তাদের সেই মানের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য একটি চিকিৎসকদল বাংলাদেশে আসে।
দলটি আহতদের ঢাকাতে চিকিৎসা দেয়। আমি সেই দলের প্রধান হিসেবে কাজ করছি।’