Related Articles
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রমজান মাস শুরু হতে না হতেই রাজশাহীর তানোরের গোল্লাপাড়া মুন্ডুমালা ও কালীগঞ্জহাটসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক চড়া মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়,কদিন আগেও ৩০ থেকে ৪০ টাকা হালি লেবু বিক্রি করা হলেও এখন সেই লেবু ৮০ থেকে ১০০ টাকা হালি, কাঁচা মরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কে জি, বেগুন ৮০ থেক ১০০ টাকা কেজি, শসা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি, মানিক কলা ৪ পিস ৫০ টাকা, আনারস এক পিস ৮০ থেকে ১০০ টাকা, তরমুজ ৮০ টাকা কেজি, বেল (মাঝারি সাইজ) একটি ৬০ টাকা অন্যান্য সবজির দামও ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
খেজুর ৩৫০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার ৮০০ টা কা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা জানান,আগের বছরগুলোর তুলনায় এবছর রমজানের শুরুতেই পণ্যের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ছে।
সীমিত আয়ে ইফতার ও সাহরির বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার পুষ্টিকর খাবার বাদ দিয়ে কম দামের পণ্যের দিকে ঝুঁকছে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই রমজান শুরু হওয়ায় বাজার মনিটরিং কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। সুযোগ বুঝে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় দাম বাড়া চ্ছেন। কামারগাঁ এলাকার মৎস্যজীবী রইস উদ্দিন বলেন, সারাদিনে বিলে ৫০০ টাকার মাছ ধরা যায় না।
অথচ বাজারে গেলেই ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়।আমরা তো নিত্যপণ্যর দাম বাড়াতে রীতিমতো দিশেহারা।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, রমজানে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহ তুলমনামূলক কম থাকায় দাম বেড়েছে।
পরিবহন খরচ ও পাইকারি বাজারের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে বলেও তারা জানান। তাদের মতে, রমজানের ১০ দিন পার হলে সবজির দাম কিছুটা কমতে পারে।
তবে ক্রেতারা এসব বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলছেন, প্রতি বছরই একই অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়। কার্যকর তদা রকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচা লনা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) ইব্রাহিম হোসেন জানান,”বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।”
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা ও ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা ভিন্ন একটি দিকও তুলে ধরছেন। তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে যে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তার পুরোপুরি মৌসুম এখনো শুরু হয়নি।
ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, ক্রেতাদেরও অপরিপক্ক বা সিজন শুরু না হওয়া ফলের প্রতি অতি-আগ্রহের বিষ য়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী রোজাদাররা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করে ছেন।#
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে