তাদের জরিপে বলা হয়েছে, ১২ কোটি ৮০ লাখ ভো টার নিয়ে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বা চনের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ।
২০০৮ সালের পর এটিই দেশের প্রথম প্রকৃত প্রতি দ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন, যেখানে আওয়ামীলীগ অংশ নিচ্ছে না।
সাম্প্রতিক একাধিক জাতীয় জরিপের সমন্বিত বিশ্লে ষণ বলছে, এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পথে এগি য়ে আছে।
তবে ফলের ব্যবধান কতটা বড় হবে, তা নিয়ে রয়েছে উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা।
নিউ ইয়র্ক এডিটরিয়াল দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক রিপা বলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই), ন্যারেটিভ এবং ইনোভিশন কনসাল্টিংসহ সাতটি জাতীয় জরিপ পর্যালো চনা করে দেখা গেছে, প্রতিটি জরিপেই বিএনপি জামা য়াতে ইসলা মীর চেয়ে এগিয়ে।
তবে ভোটের ব্যব ধান জরিপভে দে ভিন্ন। কোথাও ব্যবধা ন মাত্র ১ শতাং শের একটু বেশি, আবার কোথাও ২০ শতাংশেরও বেশি।
জরিপগুলোর ফলের তারতম্যের পেছনে মূল কারণ পদ্ধতিগত পার্থক্য।
ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপটি ছিল ক্রস-সেকশ নাল, যেখানে একবারেই ২২ হাজারের বেশি ভোটারের মতামত নেয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইনোভিশনের প্যানেল জরিপে একই ভোটারদে র সঙ্গে একাধিক ধাপে কথা বলা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে ভোটার পছন্দের পরিবর্তন ধরতে সহায়ক।
ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল জরিপে দেখা গেছে, ৭৫ শতাংশ ভোটার ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সিদ্ধান্ত নেয়া ভোটারদের বড় একটি অংশ বিএনপির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
নিউ ইয়র্ক এডিটরিয়াল তাদের বিশ্লেষণে বলছে, এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির কারণে।
অতীতে দলটি নিয়মিতভাবে জাতীয় ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেত।
ফলে তাদের ভোটব্যাংক কোথায় যাচ্ছে, সেটিই নির্বাচনে র গতিপথ নির্ধারণ করছে।
জরিপ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছেন।
একই সঙ্গে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোটার জামায়াতে ইসলামীর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দীর্ঘদিনের দমন পীড়নের অভিজ্ঞতা জামায়াতের প্রতি একটি অং শের সহানুভূতি তৈরি করেছে।
জরিপে বলা হয়েচে, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থী জয়ী নির্বাচন হয়।
এতে সামান্য ভোট ব্যবধানও সংসদে বড় আসন ব্যবধানে রূপ নিতে পারে।
অতীতে দেখা গেছে, জনপ্রিয় ভোটে এক শতাংশের কম ব্যবধান সংসদে শতাধিক আসনের ব্যবধানে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত যদি জাতীয়ভাবে বিএন পির কাছাকাছি ভোটও পায়, তবুও আসনের হিসাবে তারা পিছিয়ে পড়তে পারে।
কারণ জামায়াতের ভোট কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে কেন্দ্রীভূত হলেও বিএনপির সমর্থন তুলনামূলকভাবে সারা দেশে বিস্তৃত।
নির্বাচনের ফল নির্ধারণে তিনটি বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
প্রথমত, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রা। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপির অন্তত ৯২ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এতে কয়েকটি আসনে ভোট বিভাজনের আশঙ্কা রয়েছে।
দ্বিতীয়ত, তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ। মোট ভোটারের প্রায় ৪৪ শতাংশ তরুণ।
জরিপে দেখা গেছে, প্রথমবার ভোট দেয়া তরুণদের এক টি উল্লেখযোগ্য অংশ জামায়া তকে পছন্দ করছে।
তরুণদের উপস্থিতি বাড়লে এর প্রভাব পড়তে পারে ফলাফলে।
তৃতীয়ত, অনিশ্চিত ভোটার। জরিপভেদে ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ ভোটার এখনও সিদ্ধান্তহীন।
তারা শেষ মুহূর্তে কোন দিকে ঝুঁকবেন, সেটিই ব্যবধান কমানো বা বাড়া নোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সমন্বিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করতে পারে।
জামায়াতে ইসলামী পেতে পারে ৬০ থেকে ১০০টি আসন, যা দলটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য হতে পারে।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে