Breaking News

নওগাঁয় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা বিলুপ্ত প্রায়

মামুন পারভেজ হিরা,নওগাঁ ঃ উত্তর জনপদের মৎস্য ও শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁ আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা।

এক সময় গ্রাম-বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে খুব জন প্রিয় ছিল এই খেলাটি।

খেলার শুরুতে ঢাক ও ঢোলের তালে বিভিন্ন ভঙ্গিতে খেলোয়াড়রা দৌড়ে দৌড়ে একে অপরের সাথে লাঠি খেলার যুদ্ধে নামতেন। শত শত দর্শক সেই খেলা উপ ভোগ করতেন।

দর্শকরা হাতে তালি ও বিভিন্ন আওয়াজে উৎসাহী কর তেন লাঠি খেলোয়াড়দের।

দেখা যেত প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় খেলোয়াড়দের দলনেতা র উদ্যোগে গড়ে উঠত এক একটি লাঠি খেলার দল। আর পাড়ায়-পাড়ায়, গ্রামের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতো এই খেলা।

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে প্রচার করা হতো কোন গ্রামের কোন মাঠে বা কার বাড়ির উঠানে কোন সময় এই খেলা অনু ষ্ঠিত হবে।

নিজেদের নিত্যদিনের কাজ দ্রুত সমাপ্ত করে গ্রামের
নারী-পুরুষেরা ছুটে যেত খেলা দেখার জন্য।

বাড়ির আঙিনায় এই খেলা দেখার জন্য ঘরের চালে, গা ছের ডালে ভীড় জমাতো যুবকরা আর বেড়ার ফাঁকে, জানালা খুলে খেলা দেখত মা-বোনেরা। আর সে দিনের সেই কাঠের টুল ও পিঁড়িতে বসে খেলা দেখত বৃদ্ধরা।

দর্শকদের হাতে তালি আর মুখের জয়ধ্বনি খেলোয়াড়দে র আনন্দ জোগাত। কিন্তু কালের আবর্তে আজ লাঠি খেলার সেই বিনোদন ভুলতে বসেছে দেশের বর্তমান প্রজন্ম।

বর্তমানে এখন আর নতুন করে লাঠি খেলার কোনো সংগ ঠন বা দল তৈরি হচ্ছে না। কালের আবর্তে সেই লাঠি খে লার স্থান আজ দখল করে নিয়েছে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলি বল, ব্যাটমিন্টন। তাছাড়াও অতীতের খেলার পরিবর্তে
মোবাইলে চলছে পাবজি, ফ্রি-ফায়ারসহ বিভিন্ন ধরনের খেলা।

যেখানে ধনাঢ্য পরিবারের সদস্যরা স্থান পেলেও গ্রামবাং লা দরিদ্র পরিবারের লোকেরা আধুনিক যুগের খেলা দে খা র জন্য ছুটে যায় প্রতিবেশীদের ঘরের টিভির কাছে, কিন্তু শত বাধা-বিপত্তিকে উপেক্ষা করে গ্রামবাংলায়
আজও দুয়েকটি জায়গায় চলে অতীতের সেই লাঠি খেলা। খেলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঢোল আর লাঠির তালে তালে নাচ।

অন্যদিকে প্রতিপক্ষে লাঠির আঘাত হতে আত্মরক্ষার কৌশল অবলম্বনের প্রচেষ্টায় টান টান উত্তেজনায় বিরাজ করত খেলোয়াড় ও দর্শকদের মাঝে। এই খেলার জন্য লাঠি সাড়ে চার থেকে পাঁচ ফুট লম্বা হয়। তবে প্রতিটি লাঠি হয় প্রায় তৈলাক্ত। প্রত্যেক খেলোয়াড় তাদের নিজ নিজ লাঠি দিয়ে রণকৌশলপ্রদর্শন করেন।

খেলার স্থানে লাঠির পাশাপাশি যন্ত্র হিসেবে ঢোল,কনেট, ঝুনঝুনি ও বিভিন্ন প্রকার বাঁশি ব্যবহার করা হতো।

এছাড়াও সঙ্গীতের পাশাপাশি এ খেলার সঙ্গে চুড়ি নৃত্যও দেখানো হতো।

লাঠি খেরোয়ার কামাল হোসেন বলেন, গ্রামবাংলার ঐতি হ্যবাহী লাঠি খেলা আজ বিলুপ্তপ্রায়। আমাদের অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের লাঠি খেলা রয়েছে।

আগে দেখতাম, গ্রামের সাধারণ মানুষরা বাংলা বর্ষবরণ,
বিবাহ, চড়কপূজা, সুন্নতে খৎনা উপলক্ষ্যে এ লাঠি খেলা র আয়োজন করত। বাপ-দাদার সেই স্মৃতি ধরে রাখার জন্যই আমি লাঠি খেলার আয়োজন করেছি। অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আগের খেলা এখন আর নেই।

About admin

Check Also

সাতক্ষীরায় সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে  বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ।। সাতক্ষীরায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট। সরবরাহ …