Breaking News

পলিথিন ও প্লাস্টিক ডুমুরিয়ায় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি

শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা।
ডুমুরিয়া সহ সারাদেশে পলিথিন ও প্লাস্টিক মারাত্মক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের হুমকি, যা মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত করে, জলজ প্রাণী ও পাখিসহ হাজার হাজার
প্রজাতিকে হত্যা করে (খাবার ভেবে খেয়ে ফেলা বা আটকে পড়া), স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায় এবং জলবদ্ধতা ও বন্যার কারণ হয়।

এর সমাধানে প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো, পুর্নব্যবহার (ৎব পুপষব) এবং সরকারের কঠোর নীতিমালা ও জনসচেত নতা বৃদ্ধি অপরির্হায।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় র্বতমানে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণের কারণে মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। লোকালয়ে ব্যবহৃত পলিথিন ও প্লাস্টিক খাল, নদীতে জমা হচ্ছে। আগত র্পযটকদের থেকেও ব্যাপক হারে প্লাস্টিক বতল, চিপস,পলিথিন ও প্লাস্টিক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে মাইক্রোপ্লাস্টিক কনা বন্যপ্রাণীর খাদ্যগ্রহণ ও প্রজ ননে বাধা, মাটি ও পানির গুণাগুণ হ্রাস এবং মানুষের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ও মাইক্রোপ্লাস্টিক বিভিন্ন নদী বঙ্গোপসাগরে জমা হচ্ছে। র্পযটকদের দ্বারা ব্যবহৃত ও ফেলে দেওয়া পলিথিন ও প্লাস্টিক সরাসরি বনের মধ্যে জমা হচ্ছে, যা
সৌর্ন্দযহানি ও দূষণ বাড়াচ্ছে।

র্ঘূণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক র্দুযোগের পর ত্রাণসামগ্রীর প্লাস্টিক র্বজ্য বনের মধ্যে জমা হয়। নদীর পাডে়র আশে পাশের শহর ও কারখানা থেকে প্লাস্টিক র্বজ্য নদীতে মিশে বনের দিকে চলে আসছে।

বনের পরিবেশ ও প্রাণীজগতের ক্ষতি হচ্ছে। কচ্ছপ, বা নর, মাছ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী প্লাস্টিক খেয়ে বা এতে জড়িয়ে মারা যাচ্ছে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক এখন মাটি ও পানির পাশাপাশি মাছের পেটেও পাওয়া যাচ্ছে, যা খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মানব দেহেও প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক র্বজ্য ম্যানগ্রোভের ঘনত্ব ও উচ্চতা হ্রাস করছে এবং মাটি ও পানির গুণাগুণ নষ্ট করছে।

এই আসনে মনোনয়পত্র দাখিল করেছিলেন মুহাম্মদ আব্দুল খালেক জামায়াতে ইসলামী, মোঃ আব্দুর রউফ বিএনপি, মোঃ আশরাফুজ্জামান জাতীয় পাটি, জিএম সালাউদ্দীন আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পাটি), মোঃ ইদ্রিশ আলী বাংলাদেশ জাসদ, শেখ মাতলুব হোসেন
লিয়ন জাতীয় পাটি, মুফতি রবিউল ইসলাম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং শফিকুল ইসলাম সাহেদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পাটি-এলডিপি।

উল্লেখ্য সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গাছ সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া মাটির ওপর উঠে আসা শ্বাসমূল বা নিউম্যাটো ফোর দিয়ে অক্সিজেন গ্রহণ করে।

পলিথিন ও প্লাস্টিক র্বজ্য এই শ্বাসমূলগুলো ঢেকে দেয়, যার ফলে গাছ র্পযাপ্ত অক্সিজেন না পেয়ে মারা যাচ্ছে।

হরিণ, কচ্ছপ এবং মাছের মতো বন্যপ্রাণীরা অনিচ্ছাকৃ তভাবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলছে, যা তাদের অকাল মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।

এছাড়া মাটির র্উবরতা কমে যাওয়ায় বনের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।

সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে প্লাস্টিক মিশে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করছে।

র্পযটকদের ফেলে আসা ও জোয়ারের পানির মাধ্যমে আসা প্লাস্টিক র্বজ্য পানির গুণগত মান কমিয়ে দিচ্ছে।

খাদ্যশৃঙ্খলে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক মাছ ও কাঁক ড়ার শরীরে প্রবেশ করছে।

এর ফলে ওই অঞ্চলের মানুষ যারা এসব মাছ খাচ্ছেন, তাদের শরীরেও ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশ করছে।

সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমাধানের পথ দেখাবে। র্পযটকদের মধ্যে একক ব্যবর্হায প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা তৈরি করা।

বনের ভেতরে ও আশেপাশে র্কাযকর র্বজ্য অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা করা। প্লাস্টিক দূষণ র্পযবেক্ষণ ও এর ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগীয় বন র্কমর্কতা (ডিএফও) এ জেড এম হাছানুর রহমান, যিনি সুন্দরবনকে প্লাস্টিক দূষণসহ বিভিন্ন সমস্যা থেকে বাঁচাতে কাজ করছেন
এবং র্পযটকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, সুন্দরবনের এই মুর্হূতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ।

র্পযটন মৌসুমে র্পযটকরা সুন্দরবনের নদী-খালে চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লেট-গ্লাস সঙ্গে নিয়ে যান।

এ সব প্লাস্টিক র্বজ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে, আর নদীর জো য়ার-ভাটায়া ১০-১৫ কিলোমিটার র্পযন্ত বনের অভ্য ন্তরে ঢুকে যায়।

এ সব র্বজ্য সুন্দরবনেরগাছের শ্বাসমূলের উপর জড়িয়ে থাকে। এর ফলে বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ
করতে বাধাগ্রস্থ হয় শ্বাসমূল, এতে প্রাণশক্তি হারিয়ে গাছ মরে যায়।

পলিথিন ও প্লাস্টিকের আগ্রাসন সুন্দরবনের পরিবেশ, বন্যপ্রাণী ও মানুষের জীবনযাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে, যা মোকাবেলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ অপরির্হায।

প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং র্বজ্য ব্যবস্থাপনার জরুরি প্রয়োজন।

সুন্দরবন রক্ষায় এই দূষণ রোধে র্পযটকদের সচেতনতা এবং সর কারি র্পযায়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

 

About admin

Check Also

সাতক্ষীরায় সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে  বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি গ্যাস

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ।। সাতক্ষীরায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের তীব্র সংকট। সরবরাহ …