Related Articles
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃখুলনার পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনিতে এক বিধবাকে নির্যাতনের পর হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত রাশিদা বেগম (৩৪) দু’সন্তানের জননী। এই ঘটনায় এলাকাবাসী দেবর মহিদুল গাজীকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রেখে পুলিশকে খবর দিলে মহিদুল গাজীকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় কপিলমুনি ফাঁড়ি পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৩) ডিসেম্বর সকালে উপজে লার কপিলমুনি ইউপির কাশিমনগর এলাকাতে।
এলাকাবাসী জানান, মৃত এনামুল গাজীর দ্বিতীয় স্ত্রী রশিদা বেগম (৩৫) দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছিলেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর বিভিন্ন সময় আপন ছোট দেবর মহিদুল গাজী(৪৩) বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো।
এছাড়াও মহিদুল মাদকদ্রব্য বেচাকেনার পাশাপাশি সেব ন করতেন। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের মেয়ে তাছমিরা খাতুন (১৩)জানান, জমির নাম জারি করার জন্য মা ও কাকা রাতে কথা বলছিলো।
এরপর মা ঘরে প্রবেশ করে ঘুমিয়ে পড়ে। ভোর ৪ টার দিকে বাথ রুমে যাওয়ার জন্য দরজা খুলে মহিদুল মাকে একা পেয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে জবরদস্তি করতে থাকে।
এসময় মা বলে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াবো না। কাকা মহিদুল আমাদের ঘরের দরজা বাইর থেকে আটকিয়ে দেয়। মা কে মারধর করার শব্দ শুনে আমি চিৎকার করলে কেউ এগিয়ে আসেনি।
এসময় আমি ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে আমার দাদি ঘরের দরজা খুলে দিলে রান্নার জন্য কাঠ আনতে গিয়ে আমার মা লিচু গাছে ঝুলছে। নিহতের মেয়ে তাছমিরা বলেন, আমার কাকা আমার মাকে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছে।
নিহতের পিতা তালা উপজেলার মাছিয়াড়া গ্ৰামের মোহাম্মদ আলী সরদার জানান, আমার মেয়ের উপর পাশবিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।
এর সাথে আরো কেউ জড়িত থাকতে পারে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
এদিকে নিহতের ভাসুর রবিউল গাজী দাবি করেন, ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার সময় লিচু গাছে নড়াচড়া লক্ষ্য করলেও সেটিকে বিড়ালের উপস্থিতি মনে করে গুরুত্ব দেননি। নামাজ শেষে ঘেরে চলে যান। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের সদস্যদের ফোন পেয়ে ফিরে এসে তিনি লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
পুলিশের সুরতহাল রিপোর্ট করার সময় উপস্থিত জনৈক নারী জানান, নিহতের গোপনাঙ্গ থেকে রক্ত বের হচ্ছিল। কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, গোপনাঙ্গ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল ও রক্তের দাগ ছিল।
পাইকগাছা থানার ওসি মোঃ গোলাম কিবরিয়া জানান, মহিদুল গাজীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। হত্যা না আত্মহত্যা তদন্ত ও ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে