Breaking News

বাগেরহাটে জামায়াত নেতার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ফকির গোলাম তাবরেজ, বাগেরহাট প্রতিনিধিঃ
বাগেরহাটে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে কানাডার ভিসা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৩৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন।
শুক্রবার (৬ফেব্রয়ারী) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সদম্মলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন করেছে বাগে রহাট জেলার কচুয়া উপজেলার বগা গ্রামের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী আব্দুল মতিন বাদশা।
লিখিত বক্তব্যে আব্দুল মতিন বাদশা বলেন, ২০২৩ সালে তৎকালীন ১৪ দলীয় জোট সরকারের শাসনামলে রাজ নৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি একাধিক মামলা, হয়রানি ও চাপের শিকার হই।
নিরাপত্তাহীনতা ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চ য়তার কারণে বাধ্য হয়ে আমি বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। কানাডা যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়পাড়া ইউনিয়নের সিংড়ে গ্রামের বাসিন্দা সোহাগ সিকদার-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
প্রাথমিক ভাবে তাকে ২ লক্ষ টাকা প্রদান করি। পরবর্তী তে বিষয়টি বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব শাখার সভাপতি ও বর্তমান জামায়াতে ইসলামী মনোনিত বাগেরহাট-২ আসনের দাড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী শেখ মঞ্জু রুল হক রাহাদে একান্ত সহকারী সাইফুল চৌধুরীর পরা মর্শে আরও কয়েকজন আগ্রহী ব্যক্তিকে যুক্ত করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর একজন কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করেছিলাম-দলীয় পরিচয় ও নেতৃবৃন্দের অবগতিতে সম্পন্ন কোনো কার্যক্রমে প্রতারণার সুযোগ নেই।
সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মোট ১১ জন বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সর্বমোট ৩৪ লক্ষ টাকা প্রদান করি।
এই পুরো অর্থ লেনদেন বাগেরহাট জেলা জামায়াতে ইস লামীর যুব শাখার সভাপতি ও বর্তমানম জামায়াতে ইস লামী মনোনিত বাগেরহাট-২ আসনের দাড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদরে অবগতিতেই সম্পন্ন হয়।
সর্বশেষ লেনদেন হিসেবে ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা সরা সরি মঞ্জুরুল ইসলাম রাহাদের মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আমাদের কারও ভিসা হয়নি। একের পর এক তারিখ পরিবর্তন, আশ্বাস ও সময় ক্ষেপণের মাধ্যমে আমাদের ধৈর্য হারাতে থাকে।
এদিকে আমরা যারা টাকা প্রদান করেছি, তারা তাদের ভিসা না হওয়ায় এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অন্য সকলে আমাকে চাপ দিতে শুরু করেন।
পরবর্তিতে জাল ভিসা প্রদান করে আমাদের প্রতারিত করা হয়।
আমি একজন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী হিসেবে বারবার মঞ্জুরুল হক রাহাদের শরণাপন্ন হই এবং অনুরোধ করি যেন তিনি বিষয়টি নিষ্পত্তি করে আমাদের ৩৪ লক্ষ টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
কিন্তু একজন দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে তিনি কোনো কার্য কর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
আমি ব্যক্তিগতভাবে চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে তার কাছে গিয়েছি, এমনকি সমাধানের আশায় তার পা জড়ি য়ে ধরেও কান্নাকাটি করেও কোনো প্রতিকার পাইনি।
এই প্রতারণার শিকারদের মধ্যে আমার আপন ভগ্নিপতির ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম-ও রয়েছে। তার পিতা আবুল কা লাম আজাদ বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রদত্ত টাকা ফেরত না পেয়ে মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তিনি দুরারোগ্য স্ট্রোকে আক্রান্ত হন।
প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি শয্যাশায়ী অব স্থায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
এই ঘটনাও আমি মঞ্জুরুল হক রাহাদকে অবহিত করেছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করে পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, জামায়াতে  ইসলামীর রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলাম আদর্শ ও ইনসাফের আশায়।
আমি বিশ্বা স করতাম-জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি মানেই ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ ও মনবিকতা। কিন্তু আজ আমরা সেই ইনসাফ থেকে বঞ্চিত।
দীর্ঘদিন চুপ থেকে, দলীয় শৃঙ্খলা ও সম্মানের কথা ভেবে সহ্য করেছি। কিন্তু আজ আমরা সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব ও অসহায়। তাই বাধ্য হয়েই গণমাধ্যমের মাধ্যমে জাতির সামনে এই ঘটনা তুলে ধরছি।
আমরা ন্যায়বিচার চাই, আত্মসাৎকৃত অর্থ ফেরত চাই এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আই নানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

About admin

Check Also

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রান উইথ ম্যারাথন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দুর্নীতিবাজদের লালকার্ড দেখানোর মধ্য দিয়ে …