Related Articles
শহিদুল ইসলাম,মহেশপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতাঃ-
ঝিনাইদহের মহেশপুরে রাতের আঁধারে আলোকিত হয়ে ওঠে নান্দনিক সব ড্রাগন বাগান।
চারদিকে ঝুলছে শত শত বৈদ্যুতিক বাল্ব। দূর থেকে দেখতে যেন বৈদ্যুতিক কোনো লাইট হাউস।
আর এই আলোর নিচেই বেড়ে উঠছে কৃষকের স্বপ্ন। ব্যতিক্রমী এই চাষাবাদ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ।
মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর গ্রামের কৃষক নজ রুল ইসলাম লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন ফল চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলে দিয়েছেন।
তাঁর দাবি, রাতে ড্রাগন গাছে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় আলো জ্বালিয়ে রাখলে গাছে ফুল ও ফল দুটোই আগের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
এতে ফলন যেমন বাড়ছে, তেমনি পাও য়া যাচ্ছে অসম য়ের ফল—যার দাম বাজারে দ্বিগুণ।
ওই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, চায়না থেকে বিশেষ ধরনের লাইট সংগ্রহ করে ছয় বিঘা জমিতে তিনি এ পদ্ধতিতে চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই ভালো ফলন পান। এখন প্রতি মাসে তাঁর হাতে আসছে লাখ টাকার বেশি আয়।
তিনি বলেন, ‘অনেকেই প্রথমে বিষয়টা বিশ্বাসই করেননি। কিন্তু ফল দেখে এখন অনেক কৃষক এ পদ্ধতি অনুসরণ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাগানে জ্বলে ওঠে সারি সারি বাতি। আলোয় ঝলমল এই বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন।
এর মধ্যেই এই ড্রাগন বাগান হয়ে উঠেছে স্থানীয় আ।কর্ষণ।
এদিকে কৃষকের এই উদ্ভাবনী উদ্যোগে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। কৃষকেরা যেন সঠিক পদ্ধতিতে এই লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন—সে জন্য দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত পরামর্শ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, ‘লাইটিং পদ্ধতি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ড্রাগনের ফুল ও ফলন উভয়ই বাড়ে।
পাশাপাশি রোগবালাই দমন, সার প্রয়োগ ও শাখা-প্রশাখা পরিচর্যা নিয়েও কৃষকদের নিয়মিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মহে শপুর উপজেলায় প্রায় ৫০০ বিঘা জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছে।
চাষিরা বলছেন, বৈচিত্র্যময় আবহাওয়া, মাটি ও লাভজ নক বাজার সব মিলিয়ে ড্রাগন ফল এখন উপজেলার অন্যতম সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক ফসল।
মহেশপুরের কৃষক নজরুল ইসলামের এই আলোকিত ড্রাগন বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুপ্রেরণার নতুন ঠিকানা।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে