Related Articles
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন চারজন প্রার্থী এর মধ্যে তিনজন প্রার্থী হচ্ছে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার অন্যজন রাজশাহী সিটির বোয়ালিয়া থানার।
তিনজন নিজ এলাকার কমবেশি সবাই ভোট টানবেন। ফলে সবার নজর এখন তানোর উপজেলার দিকে।
এখান থেকে যে প্রার্থী যত বেশি ভোট টানতে পারবেন এবং আওয়ামী লীগ সমর্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন সম্প্রদায়ের ভোট পাবেন, তাঁর জয়ের সম্ভাবনা তত বেশি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই আসনে মোট ভো টার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৮ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫৯টি। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভোটার প্রায় ৮০ হাজার ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারগণ আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
তবে এ আসনে ‘ধানের শীষ’ ও ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রা র্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বলে মনে করছেন ভোটা ররা। এই আসনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা কর ছেন।
তবে ভোটের মাঠে আলোচনা ঘুরপাক খাচ্ছে মূলত বিএ নপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে ঘিরে।
মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বিএনপি চেয়া রপারসনের সাবেক সামরিক উপদেষ্টা। অন্যদিকে অধ্যা পক মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর। তিনি ১৯৮৬ সালে একবার এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন শরীফ উদ্দীনের বড় ভাই প্রয়াত ব্যারিস্টার আমিনুল হক। অপর দুই প্রার্থী হলেন এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের আব্দুর রহমান ও গণঅধিকা র পরিষদের ট্রাক প্রতীকের মীর ম. শাহজাহান।
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির আব্দুর রহমান ও গণধি কার পরিষদের মীর মোঃ শাহজাহান মাঠে নেই বললে চলে। দু’জনেই জামানত ঝুঁকিতে আছে।
বিএনপি ও জামায়াতের প্রচারণাই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো ছিল। বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা, পথসভা ও কর্মী সমাবেশে এলাকা সরগরম থাকলেও এবি পার্টি ও গণধিকার পরিষদের তেমন কো নো গণ-সংযোগ ছিলনা বললেই চলে ।
ফলে ভোটের লড়াই কার্যত দ্বিমুখী হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ভোটা ররা।
এবার ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ নেই। স্থানীয় ভোটার রা বলছেন, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা যেকোনো প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
এছাড়াও এ আসনে সনাতন ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভোটার রয়ে ছে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার। ফলে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী নানাভাবে সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি আওয়ামী সমর্থিত ভোটার টানার চেষ্টা করছেন।
ভোট টানতে নিয়মিত পথসভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ শেষ করেছেন প্রার্থীরা।
এছাড়াও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এবার সনাতন-ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠী
আওয়ামী লীগ, নারী ও তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের অং শগ্রহণই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রা খতে পারে।
তাই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতিটি কেন্দ্রে নারী ও আওয়াামী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গোদাগাড়ী উপজেলার মাধাইপুর, হাজিপাড়া, বেজড়া ও কেশবপরে অনেকের সঙ্গে কথা বল জানা গেছে, ভোটের আলাপ তুলতেই তাঁরা ভোটের হিসাব-নিকাশ ও সমীকর ণের চিত্র তুলে ধরছেন।
বেজড়া গ্রামের আব্দুল আওয়াল বলেন, লোকজনের ক থা তো শুনতে পাই। সাধারণ মুসলিম ভোটার এবং আও য়ামী লীগ সমর্থিত ভোটাররা অর্ধেক অর্ধেক হয়ে গেছে। হিন্দু ভোটাররা ভাগ হয়েছে।
ভোটাররা দম ধরে আছে। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রার্থীরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, রাস্তাঘাট সংস্কার, কৃষি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নসহ নিজের পক্ষে ভোট টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা।
অন্যদিকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘একটা অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার উঠেছে। সমাবেশগুলোতে এত মানুষ আসছেন, দেখে অবাক হচ্ছি।
যিনি বিগত দিনে এমপি ছিলেন, তিনি সততার কাজ করে ননি। ফলে মানুষ আমাদের পক্ষে রায় দেবেন ইনশাআ ল্লাহ। আদিবাসী হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বী গুরুত্ব দিয়ে তি নি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররাও আমাদের পক্ষে প্রকাশ্যে কাজ করছেন।’
এদিকে বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন বলেন, আমার ভাই ব্যারিস্টার আমিনুল হক কয়ে কবার মন্ত্রী ছিলেন এলাকায় স্কুল-কলেজ, রাস্তঘাটসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।
আরেক ভাই ড. এম আসা দুজ্জামান পানি সংকট নির সনে কাজ করেছেন এবং বিএমডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন।
শরিফ উদ্দিন আরো বলেন, ‘এই আসন অতীতে একাধি কবার বিএনপির এমপি মন্ত্রী ছিল। জনগণ পরিবর্তন চা য়। সুষ্ঠু ভোট হলে বিজয় নিশ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩১ দফা কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে আছি।’
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে