Breaking News

শৈলকুপা পৌরসভায় নিয়মিত কর দিলেও মিলছে না নাগরিক সুবিধা

মোঃ শাহানুর আলম, ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ
ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌরসভা-এ মিলছে না প্রত্যাশিত নাগরিক সেবা। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভা হলেও সেবার মান যেন পরিষদের চেয়েও নিম্নমানের।

শহরজুড়ে ভাঙাচোরা সড়ক। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, আর রাত নামলেই অন্ধকারে ডুবে যায় অধি কাংশ এলাকা।

এর সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ নিত্যদিনের সঙ্গী। পৌরবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত কর পরিশোধ করেও মিলছে না কাক্সিক্ষত সেবা।

জানা যায়, শৈলকুপা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯২ সালে। প্রায় ২২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই পৌর সভার বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার।

কিন্তু সেবার মান একেবারেই তলানিতে। পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক সড়কের পিচ অনেক আগেই উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে ছোট-বড় যানবাহন। কোথাও আবার এখনো নির্মিত হয়নি পাকা সড়ক।

কোথাও একযুগ আগে ইটের সলিং করা হলেও সেই
রাস্তায় চলাচল করতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে।

শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে পথচারী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। আবার বৃষ্টি হলেই সড়কের খানাখন্দে পানি জমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

পৌরবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বসবাস করলেও তারা ন্যূনতম নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত। ড্রেন তো দূরের কথা, অনেক এলাকায় নেই ভালো রাস্তা। বর্জ্য
ব্যবস্থাপনার দুর্ভোগ তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা।

নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না ড্রেন। সড়কবাতির অভাবে রাত হলেই অন্ধকারে চলাচল করতে হয় বাসিন্দাদের। এছাড়া পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।

রফিকুল ইসলাম নামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা নিয়মিত পৌরসভার কর দিচ্ছি। কিন্তু সেই অনুপাতে কোনো সেবা পাচ্ছি না। রাস্তাঘাটের অবস্থা এত খারাপ যে
সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচল করা যায় না। ড্রেন পরিষ্কার না করায় জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাসিমা খাতুন নামের এক বাসিন্দা বলেন, রাতে সড়ক বাতি না থাকায় খুবই ভয় নিয়ে চলাফেরা করতে হয়।

বিশেষ করে নারী ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি বড় ঝুঁকি।
বর্জ্য সময়মতো অপসারণ না করায় পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে।
আব্দুল হালিম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, শৈলকুপা পৌরসভা প্রথম শ্রেণীর হলেও নাগরিক সুবিধা তৃতীয় শ্রেণীর মতো। সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। অনেক
সময় নিজ খরচে পানি সংগ্রহ করতে হয়। আমরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।

এ ব্যাপারে শৈলকুপা পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শরিফুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে ইতোমধ্যে একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, নতুন করে পাকা রাস্তা নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।

About admin

Check Also

শৈলকুপায়  ভাগ্নের লাঠির আঘাতে মামা নিহত,আটক ২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের বসন্তপুর জয়ন্তী নগর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের …