Breaking News

সাতক্ষীরায় সূর্যমুখী ফুলের আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ, তেলের চাহিদা পূরণে তৈরি হয়েছে নতুন সম্ভাবনা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার লবণাক্ত পতিত জমি ও তালার নি¤œ এলাকার জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষে সফলতা এসেছে। ফলে জেলায় উৎকৃষ্ট মা নের তেলের চাহিদা পূরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়ে ছে।
কম সময় ও অর্থ ব্যয় করে সূর্যমুখী চাষ করে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় জেলার সাধারণ কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে ক্রমশঃ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলায় ২২৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে।
যা অন্য যেকোন বছরের তুলনায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে, সাত ক্ষীরা সদর উপজেলায় ২৭ হেক্টর, কলারোয়ায় উপজে লায় ২২ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৬৩ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৭ হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ৩৪ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ১৫ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ৬০ হেক্টর।
তবে গেল বছর জেলায় এ ফসলটি চাষ হয়েছিল ১০৯ হেক্টর জমিতে। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে জেলায় সুর্যমুখির আবাদ বেড়েছে  ১১৯ হেক্টর পরিমান।
তালা উপজেলার পাটকেলঘাটার কপোতাক্ষ পাড়ে ভার শার মাঠগুলোতে দূর থেকে দেখলে মনে হবে, বিশাল আকারের হলুদগালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
কাছে গেলে চোখে পড়ে হাজারো সূর্যমুখী ফুল। বাতাসে দোল খেয়ে ফুলগুলো যেন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য।
ভারশা গ্রামের সূর্যমুখি চাষি মো. আকবর হোসেন জানান, সূর্যমুখী ফুল চাষের লক্ষ্য নিছক বিনোদন নয়।
মূলত ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য চাহিদা মেটা তে এ চাষ করা হচ্ছে। তাই অন্যান্য ফসলের চেয়ে সূর্যমু খী চাষে বেশি লাভের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
তিনি জা নান, সূর্যমুখী ফুলের চাষ করলে ফুল থেকে তে ল, খৈল ও জ্বালানি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি বীজ থেকে কমপক্ষে আধা লিটার তৈল উৎপাদন সম্ভব।
প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ বীজ উৎপাদন হয়। তেল উৎপাদন হবে প্রতি বিঘায় ১৪০ থেকে ২০০ লিটার পর্যন্ত। প্রতি লিটার তেলের সর্বনি¤œ বাজার মূল্য ২৫০ টাকা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয় সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজা র টাকা। বর্তমানে বাজারে ভোজ্যতেলের আকাশছোঁয়া দাম হওয়ার কারণে চাহিদা বেড়েছে সরিষা ও সূর্যমুখী তেলের।
সাতক্ষীরা সদর কৃষি কর্মকর্তা মনির জানান, সূর্যমুখী চা ষের জন্য কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
কৃষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে সার, বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। এই অঞ্চলে সূর্যমুখীর আবাদ ভালো হলে কৃষিক্ষেত্রে তা নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচা লক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, উৎপাদন বাড়াতে চল তি রবি মৌসুমে জেলাতে ৬০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে জন প্রতি এক কেজি করে টিএসএফ জাতের সুর্যমুখি বীজ দেয়া হয়েছে।

সঙ্গে ১০ কেজি করে দুই প্রকার  মোট ২০ কেজি সারও দেয়া হয়েছে এসব কৃষককে। বীজ ও সার মিলে মোট ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রণোদনা দেয়া হয়েছে এসব সুর্যমুখি চাষীদের। সার ও বীজে প্রণোদনা দেয়ায় জেলার সাধারণ কৃষকরা সূর্যমুখী চাষে ক্রমশঃ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন বলে জানান তিনি।

About admin

Check Also

শৈলকুপায়  ভাগ্নের লাঠির আঘাতে মামা নিহত,আটক ২

ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী ইউনিয়নের বসন্তপুর জয়ন্তী নগর গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জের …