Breaking News

স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে সাংবাদিক ঐক্য জরুরী

বিশেষ প্রতিনিধি:: গণমাধ্যম ও  সংবাদ কর্মী দের  উপর হামলা ও হুমকি বন্ধ করতে সাংবাদি কদের ঐক্য ও সম্মিলিত নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান।

মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন,দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদিক তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে গণমাধ্যম সম্মি লন অনু ষ্ঠিত হয়।

গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টি টিউ শনের (কেআইবি) মিলনায়তনে সংবাদপ ত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসো সিয়েশন অব বাংলা দেশ (নোয়াব) ও সম্পাদকদের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মিলনের আয়োজন করে ।

সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বাংলাদেশ ধারা বাহিকভাবে সংঘঠিত সহিংসতায় (মব ভায়োলে ন্স) আ ক্রান্ত।

মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর এ ধরনের আক্রমণ নজিরবিহীন।

গণমাধ্যমের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সাংবা দিকরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

নোয়াব ও সম্পাদক পরিষদের সব সদস্য, অ্যাসোসি য়ে শন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স, ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদি ক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইকোনমিক রিপো র্টার্স ফোরাম, ফটো জার্নালিস্টস অ্যা সোসিয়ে শন, ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সাংবা দিক সংগঠনের নেতারা এবং ঢাকার বাইরে কর্মরত সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের সম্পাদক-প্রকাশকরা সম্মিলনে অংশ নেন।

গণমাধ্যম সম্মিলনে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমা ন বলেছেন, ‘সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য থাকাটা জরুরি। যেকোনো বিষয়ে, যেকোনো সময়, যেকোনো বিরোধই ক্ষতিকারক।

সম্মিলনে পত্রিকা, অনলাইন, টেলিভিশন, সাংবাদিক ইউ নিয়নের এক জায়গায় একত্র হওয়ার বিষয়টিকে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, ‘এটা বিগত ৫৫ বছর বলেন, ১৫ বছর বলেন, এ সময়ের মধ্যে এটা একটা বড় অগ্রগতি, বড় ভাবনা, বড় চিন্তা।

প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, যে মতের, যে চিন্তার, যে ভাবনার, যে আদর্শের হোক না কেন, সংবাদপত্র, সাংবাদি কতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ইত্যাদিসহ সব বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকতে হবে, সমঝোতা থাক তে হবে এবং আমাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

মতিউর রহমান বলেন, ‘এই যে সমবেত হওয়া, ঐক্য থাকা, ঐক্যবদ্ধ থাকা, একত্র হওয়া, একে অপরের পাশে থাকা, একে অপরের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদে র প্রতি সংহতি-সহানুভূতি জানানো, এটা খুবই জরু রি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এটা আমাদের ভাবার কোনো কারণ নাই, আগামী সরকার, নির্বাচিত সরকার আসলেই আমা দের সবকিছু আমরা পেয়ে যাব। অতীতেও হয়নি,এখনো হবে না।’

সম্মিলনে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ ফুজ আনাম বলেছেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করলে, সত্যিকার অর্থে সেই উদারপন্থি দৃষ্টি ভঙ্গি রাখলে সরকারই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।’

মাহফুজ আনাম আরো বলেন, ‘সরকার আপনি মনে রাখ বেন, আপনাকে কেউ সত্য কথা বলবে না। আপ নার দলী য় লোকেরা বলবে না ভয়ে এবং আপনার সরকারের ব্যুরোক্রেসি বলবে না।

আপনার সরকারের ইন্টেলিজেন্স কমিউনিটি বলবে না। তারা সবসময় আপনাকে প্রশংসার মধ্যে প্রশংসার জগতে আবদ্ধ রাখবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা হচ্ছে একমাত্র প্রতিষ্ঠান, আপনাকে সত্য কথা বলে।’

সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প, বাজেট নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন তথ্য স্বাধীন সাংবাদিকতার মাধ্যমে ওঠে আসে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, আপনি যে প্রোগ্রাম নিয়েছেন, আপনি যে প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করছেন- এটা কি সঠিক?

এটা কি জনগণ গ্রহণ করছে? এটা কি করাপশনের (দুর্নীতি) মধ্যে ডুবে যাচ্ছে না? এ কথা আপনাকে কে বলবে?

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, সরকার আপনি যে বাজেট নিয়ন্ত্রণ করেন- লাখ লাখ কোটি টাকার বাজে ট। আপনি এক মুহূর্তের জন্য মনে করবেন না, এই টাকা আপনার।

এই টাকা হচ্ছে ট্যাক্স পেয়ারদের, এই টাকা হচ্ছে জনগ ণের। আপনি কীভাবে সেটা ব্যবহার করছেন, অবশ্যই আপনাকে আমরা সমর্থন করব যেখানে সুন্দর সঠিক গণতান্ত্রিক এবং প্রো পিপল প্রজেক্ট হবে, কিন্তু ওই প্রজে ক্ট যদি করাপশনের মূল জায়গা হয়ে যায়, এ কথা কিন্তু আপনাকে স্বাধীন সাংবাদিকতা বলবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার সুযোগ এসেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার সময় এসে ছে।

একইভাবে সাংবাদিকতার একটা নতুন গণতান্ত্রিক, বলিষ্ঠ ন্যায়পরায়ণ, এথিক্যাল জার্নালিজম করার একটা সময় এসছে।’

সে জন্য সবাইকে একসঙ্গে সাংবাদিকতা পেশা কে আরো বেশি জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

মাহফুজ আনাম বলেন, সাংবাদিকতা শুধু একটি চাক রি নয় এটি মূলত একটি সমাজসেবামূলক পেশা।

গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, বৈষম্য দূরীকরণ এবং সব ধর্ম ও গোষ্ঠীর মানুষের সমান অধিকারের পক্ষে কাজ করাই সাংবাদিকতার মূলমন্ত্র।

ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, সংবিধানে মাত্র দুটি পেশাকে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে- স্বাধীন বিচার বিভাগ ও স্বাধীন গণমাধ্যম।

এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, যেসব সমাজে সাংবাদিকতা শক্তিশালী ও স্বাধীন, সেসব সমাজে গণতন্ত্র সুদৃঢ় হয় এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

নিজেদের পেশাগত নৈতিকতা সম্পর্কে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মাহফুজ আনাম বলেন,আমরা যারা সাংবা দিক তায় এসেছি, এই উপলব্ধিতা আমাদের থাকতে হবে।

আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে, আমাদের সামাজিক জীব নে সততা, নিষ্ঠা এবং সঠিক, স্বাধীন সাংবাদিক তা করার যে মৌলিক, যে এথিক্যাল ভ্যালু, আমি অনুরোধ করব,আপনারা সেটাকে নিজের জীবনে, নিজের চেতনায় সবসময় ধরে রাখবেন। কেননা আমরা সাংবাদিক হয়ে যদি এই মূল্যবোধের পেছনে না থাকি; তাহলে সমাজ কিন্তু আমা কে সেই সমাধান করবে না।’

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর বলেছেন, ‘প্রথম আলো, ডেই লি স্টারে হামলা ও আগুন দেওয়া কারো ক্ষোভে র বহিঃ প্রকাশ নয়। শুধু একটি ভবনের ওপর আক্রমণ নয়; বরং মধ্যযুগীয় বর্বরতার বহিঃপ্রকাশ।’

মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হাম লার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও সাহসী সাংবাদি কতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে শনি বার সকাল সোয়া ১০টায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টি টিউশনে (কেআ ইবি) শুরু হয়েছে এই গণমাধ্যম সম্মিলন।

সংবাদপত্রের মালিকদের সংগঠন নিউজ পেপার ওনা র্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) ও সম্পাদ ক দের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ যৌথভাবে এ সম্মি লনের আয়োজন করেছে।

প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও ফায়া র সার্ভিসকেও আসতে বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে নূরুল কবীর বলেন, ‘পৃথিবীর সভ্যতা বিকাশের এই পর্যায়ে, মধ্যযুগীয় কায়দায় কতগুলো সাংবাদিককে ওপরে রেখে, চারদিকে আগুন দিয়ে, দমকল বাহিনী আসলে বাধা দেওয়ার অর্থ হচ্ছে, তাদের জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলার মধ্যযুগীয় একটা বর্বর তার বহিঃপ্রকাশ।’

সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, গণমাধ্যমের ব্যক্তিদের এ হামলার ঘটনাকে সমর্থনের সুযোগ নেই।

কারো সমর্থন আছে কি নেই, সেটার সঙ্গে এ ঘটনার সম্পর্ক নেই; বরং এমন পরিস্থিতিতে সব গণমাধ্যম সমানভাবে হুমকির মুখে আছে। তিনি আরো বলেন, ‘আজকে এটার মধ্যে হয়েছে কালকে আপনারটার মধ্যে হবে। পরশু দিন আরেকটার মধ্যে হবে।’

পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান নূরুল কবীর।

তিনি বলেন, ‘সমাজে ভিন্ন মত থাকবে, ভিন্ন কণ্ঠ থাক বে, ভিন্ন ভিন্নভাবে মানুষ কথা বলবে। এই বৈচিত্র্য জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা কো নো অপরাধের আকাঙ্ক্ষা হতে পারে না বলে উল্লেখ করেন নূরুল কবীর।

তিনি বলেন, গণমাধ্যম যদি উচ্চকণ্ঠ না থাকে, তাহলে সমাজে অনেক ধরনের অপরাধ ছড়িয়ে পড়ে।

ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) সভাপতি ও মাছরাঙা টিভির প্রধান সম্পাদক রেজওয়ানুল হক বলে ছেন, সংবাদপত্র বা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য আমরা অনেকভাবে সরকারকে সমালোচনা করছি।

কিন্তু আমি মনে করি এটার প্রয়োজন নেই। কারণ, কোনো সরকার আসলে স্বাধীন সাংবাদিকতা বা স্বাধীন মিডিয়া দেখতে চায় না।

রেজওয়ানুল হক দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সর কার, যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা নতুন রাষ্ট্রের সংস্কারের কথা বলেন, তারাও কাজটা করতে পারলেন না। তারা গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করলেন, কিন্তু সে সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট ফেলে রাখলেন, এটা নিয়ে কোনো কাজ করলেন না।

কোনো রাজনৈতিক দল যখন বিরোধী দল থাকে তখন গণমাধ্যমকে তাদের বন্ধু মনে করে।

কিন্তু ক্ষমতায় গেলে সেই সম্পর্ক বিপরীত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তিনি যখন ক্ষমতায় যান তখন মিডিয়া তার কাছে শত্রু হয়ে যায়।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ঐক্যবদ্ধ না থাকা। তাই ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়ো জন বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এর পূর্বেও সাংবাদিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্টরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু সেই ঐক্য বেশি দিন টেকসই হয়নি।

সংকট মোকাবিলায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের জন্য অন্তত একটি ফোরাম গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের করণীয় ঠিক করতে সম্মিলিত নীতি মালা প্রণয়ন জরুরি বলে মন্তব্য করেন রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, ‘আমাদের কীভাবে সাংবাদিকতা করা উচিত, কো নটা করা উচিত, কোনটা করা উচিত না, আমরা নিজেদের সেলফ রেগুলেশনের মধ্যে আনতে চাচ্ছি।

এ রকম একটা সাংবাদিকতা নীতি-নৈতিকতার মতো এক টা রুলস যদি কিছু করা যায় সবাই মিলে, তাহলে আমার মনে হয় যে অসৎ উদ্দেশ্য থেকে আমরা হয় তো একটা পরিত্রাণ পেতে পারি।’

নিউজ পেপারস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলা দেশ (নোয়াব) সভাপতি ও হা–-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপ না পরিচা লক এ কে আজাদ বলেন, সরকার যেকো নো সময় ইলে কট্রনিক মিডিয়ার ‘সুইচ অফ’ করে বন্ধ করে দেয়। কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ার ক্ষেত্রে এটা সম্ভব হয় না।

সেক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন ধরনের নিবর্তনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যেমন- তথ্য মন্ত্রণালয় আমাদের সরকারি বিজ্ঞাপন কমিয়ে দেয়।

এ ছাড়া অতীতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিজ্ঞাপন না দেয়, তার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে।

পাশাপাশি কোন সংবাদ যাবে, কোন সংবাদ যাবে না- তার জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়।

তিনি বলেন, সরকার যদি গণমাধ্যমের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ করে তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা সম্ভব নয়।

স্বাধীন সাংবাদিকতা না করতে পারলে দেশের উন্নয়ন ও সম্ভব নয়। মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর সংগঠিত হামলার প্রতিবাদ এবং স্বাধীন, দায়িত্ব শীল ও সাহসী সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান জানাতে এই সম্মিলনের আয়োজন করা হয়। এতে সারা দেশ থে কে সহস্রাধিক গণমাধ্যমকর্মী অংশ নেন।

দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছে ন, আপনারা বিকল্প কোনো পেশারও ব্যবস্থা করুন।

আমাকে যদি আজকে বিতাড়ণ করা হয়, যেমন- আগে বহুবার করা করা হয়েছিল।

এরশাদের আমলেও হয়েছি, হাসিনার আমলেও হয়েছি। তবে আমি জানতাম যে, আমি বিশ্বের যেখানেই যাই না কেন, চাটার্ড অ্যাকাউন্ট হিসেবে আমি একটা কাজ পাবই, পেয়েছিও।

যে কারো বিরুদ্ধে লেখার স্বাধীনতা অর্জন করতে হবে। সাংবাদিকতার ওপর নির্ভর করলে একদিন আপনি ‘দালা ল’ নামে অভিযুক্ত হতে পারেন।

গণমাধ্যম সম্মিলনে শফিক রেহমান বলেন,সব সাংবা দিক যেন ঐক্যবদ্ধ হন, আমি এটা চাই। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হতে হলে তাদের বিকল্প কিছু গুণ থাকতে হবে।

যাতে করে সাংবাদিকতায় না থাকলেও যেন অন্যকি ছুর ওপর নির্ভর করতে পারেন।

কারণ মাসের শেষে টাকাটাই মূল কথা। সাংসারিক খরচ, সন্তানের স্কুলের খরচ কিন্তু মেটাতেই হবে।

এই টাকার বিষয়ে যাতে নিশ্চিত হতে পারেন- এ বিষয় টি চিন্তা করুন। এটা চিন্তা করার একমাত্র উপায় হলো বই পড়ুন। অনেক বই পড়ুন। বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠুন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ‘দালাল’ বললে আমার খুব দুঃখ লাগে। বলবেই বা না কেন?

কিছুদিন আগে যারা আওয়ামীলীগের পক্ষে ছিল, তারা এখন বিএনপির হয়ে গেছে।

এটা একটা অদ্ভূত ব্যাপার না? এই পাল্লায় পড়বেন না। এতে সম্মান বাড়ে না। বরং কমে যায়।

 

About admin

Check Also

সাতক্ষীরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুইজন নিহত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় মাছের ঘেরের বাঁধে লাগানো টমেটা তুলতে গিয়ে শ্যালো মেশিনে সংযোগ দেওয়া বৈদ্যুতিক …