Related Articles
রহমত আরিফ ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা ॥ দেশের উত্তরের কুষিতে সমৃদ্ধ জেলা ঠাকুরগাঁও।
আবহাওয়ার ইতিবাচক বৈশিষ্টের কারনে এ জেলায় সব ধরনের ফসল উৎপাদন হয় অন্যান্য জেলার তুলনায় ভা লো।
তবে এবার অর্থকরী ফসলগুলির মধ্যে অন্যতম আলু নি য়ে চরম বিপাকে পড়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর ফলন ভালো হলেও ফসলের মাঠ থেকে পাইকারি বাজার, সর্বত্রই ধস নেমেছে আলুর দামে । বর্তমানে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৩ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ১২ থেকে ১৫ টাকা।
ফলে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামও না পেয়ে লোকসা নের মুখে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার কৃষক। আর বাজারদর নিয়ন্ত্রণের অক্ষমতা জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে লক্ষ্য মাত্রার চাইতেও বেশি আবাদ হও য়ায় এমন সমস্যার সষ্টি হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর দাম কে জিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ১৪-১৫ দিন আগেও প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) আলু কৃষকেরা বিক্রি করে ছিলেন ২ হাজার ২৫০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। এখ ন বিক্রি হচ্ছে ৯০০-৯৫০ টাকায়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৮ হাজার হেক্টর জমি তে আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ২৮ হাজার ২৮৫ হেক্টর জমিতে।
উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ লাখ টন। গত মৌসু মে ৩৪ হাজার ৭২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ করে ৮ লাখ ৬৮ হাজার ১২৫ টন আলু উৎপাদিত হয়েছিল।
জেলায় ১৭টি হিমাগারে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৩২ টন আলু সংরক্ষণ করা যায়, যা মোট উৎপাদনের তুলনায় অনেকটাই কম।
সদর উপজেলার আকচা এলাকার কৃষক আলতাফুর রহ মান বলেন, গত মৌসুমেও আলু চাষ করে লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিলাম।
সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশায় ঋণ করে এবারও পাঁচ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি।
কিন্তু এবারও উৎপাদন খরচ তুলতে পারব না। আরো বে শি ঋণের বোঝা বেড়ে গেলো।
নারগুন এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি বিঘায় আলু চাষে খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা। অথচ বাজারে দাম ৫-৭ টাকা। একজন শ্রমিকের মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এক বিঘার আলু তুলতে ৮-১০ জন শ্রমিক লাগে। এই দামে বিক্রি করে শ্রমিক ও পরিবহন খরচই উঠছে না সংসার চালাবো কিভাবে আর ঋণ মাহজনই বা মেটাবো কিভাবে।
আলুর পাইকারি ক্রেতা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বর্তমানে পুরোদমে আলু ওঠা শুরু হয়েছে, তাই দাম কমছে। এছাড়া ভারত থেকে আমদানির খবর পেয়ে মূল্য হু হু করে কমে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়ের উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম বলেন, গত মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেয়া হয়ে ছিল। কিন্তু অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় আবারও বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছেন।
আগে ঠাকুরগাঁওয়ের আলু দেশের বিভিন্ন জেলায় সরব রাহ করা হতো।
এখন অন্যান্য জেলাতেও আলু চাষ বাড়া য় চাহিদা কমে ছে। আমরা কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষ এবং পরিকল্পিত উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে তারা লোকসানের ঝুঁকি কমাতে পারেন।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে