Related Articles
বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নে প্রায় ১৫ একর আয়তনের একটি মৎস্য ঘের জবরদখলের চেষ্টা,
চাঁদাবাজি, মাছ চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোঃ মাসুম মোল্লা বাবু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোংলা থানা এবং মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোংলা উপজেলার জেএল-১১ নম্বর চিলা মৌজার বিআরএস ৯০৭ নম্বর খতিয়ানের ৩০৬৬, ৩০৮৮, ৩১৩৭, ৩১৪২, ৩১৪৩ ও ৩১৪৪ নম্বর দাগসহ একাধিক খতিয়ানভুক্ত প্রায় ১৫ একর জমিতে দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য চাষ করে আসছেন ব্যবসায়ী মাসুম মোল্লা বাবু।
তিনি তার পার্টনার টুটুলসহ জমির অন্যান্য বৈধ মালি কদের সঙ্গে যৌথভাবে উক্ত ঘেরে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চিলা ইউনিয়নের সিন্দুরতলা এলাকার শাহাবুদ্দিন ফকির, হাতেম আলী ফকির, হালিম ফকির, জামাল শেখ, মনিরুল সানা ও বেল্লাল ফকিরসহ আরও অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরটি দখলের ষড়যন্ত্র করে আসছে।
স্থানীয়ভাবে তারা প্রভাবশালী ও চিহ্নিত ভূমি দখলকারী হিসেবে পরিচিত বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ঘেরটি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাতে থাকে।
একপর্যায়ে বিভিন্ন অজুহাতে তাকে ভয় দেখিয়ে প্রথমে ১৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
পরে জমির অন্যান্য শরিকদের ‘হারির টাকা’ পরিশোধের কথা বলে প্রধান অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন ফকির স্ট্যাম্পের মাধ্যমে আরও ১ লাখ টাকা গ্রহণ করে। কিন্তু সেই টাকা জমির প্রকৃত মালিকদের না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এদিকে ভুক্তভোগী মাসুম মোল্লা বাবু দাবি করেন, ২০২৫ সালে তিনি উক্ত মৎস্য ঘেরে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু অভিযুক্তরা নিজেরা জমির মা লিক না হয়েও নতুন করে ঘেরটি দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত হাতেম আলী ফকির নিজেকে এলাকায় জলদস্যু, ভূমিদস্যু ও ডাকাত চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তার করেন এবং বিভিন্ন মামলার ভয় দেখিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
তিনি প্রায়ই দাবি করেন যে, বরগুনা জেলায় র্যাবের ছয় জন কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক জন আসামি তিনি এবং সেই মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে থাকেন। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে এলাকায় ভয়ভীতি ছড়িয়ে প্রভাব বিস্তার এবং অন্যের মৎস্য ঘের লুটপাট করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন ফকির নিজেকে একাধিক মামলার আসামি দাবি করে ভুক্তভোগীদের উদ্দেশ্যে হুমকি দিয়ে বলেন, দুই একটা মামলা হলে আ মার কিছুই হবে না। প্রয়োজনে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে খুন-জখম করে হলেও এই ঘের দখল করবো।” এমন হুমকির কারণে ভুক্তভোগী ও তার সহযোগীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শুধু তাই নয়, অভিযুক্তরা প্রায়ই দলবল নিয়ে ঘেরে প্রবেশ করে মাছ চুরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি সম্প্রতি ঘেরের ভেড়িতে বিষের বোতল ফেলে দেওয়ার ঘটনাও ধরা পড়েছে, যা মৎস্য সম্পদ ধ্বংসের পরিকল্পিত অপচেষ্টা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিক বার আপোষ-মিমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তদের দখলদার মনোভাবের কারণে তা ব্যর্থ হয়। ফলে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মাসুম মোল্লা বাবু বলেন, “আমরা বৈধভাবে জমি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছি। কিন্তু কিছু চিহ্নিত ভূমি দখলকারী সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের ঘের দখলের চেষ্টা করছে। তারা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে এবং মাছ চুরি করছে। এতে আমাদের জীবন ও সম্পদের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।”
এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তি নি।
এ ব্যাপারে চিলা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক মোঃ আনিসুর রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত পূর্বক প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক ।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে