Related Articles
আফজাল হোসেন চাঁদ, ঝিকরগাছা : বিজ্ঞ আদলতকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে রায় ডিক্রী ও নিষেধাজ্ঞা অবমানা করে একটি পরিবার জিম্মী করার অভিযোগ উঠেছে।
যার জের ধরে যশোরের ঝিকরগাছার সহকারী কমিশ নার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ারের সন্ত্রাস বাহিনীর কবল থেকে মুক্তি পেতে জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন মোঃ শহিদুল ইসলাম পল্লব (৪০) নামের এক ভুক্তভোগী।
তিনি উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামের মোঃ সোহরাব হোসেনের ছেলে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েরর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিমুলিয়া ইউনিয়নের ১৭নং রাজাপুর মৌজায় এক টি জমি নিয়ে বিজ্ঞ আদলতে মামলায় সরকার পক্ষের উপস্থিতিতে দো-তরফা শুনানী অন্তে বিজ্ঞ আদালত ২৩/ ০২/২০২৩ইং তারিখে সরকার পক্ষের মামলাটি বিজ্ঞ আ দালত খারিজ আদেশ প্রদান করেন।
বর্তমানে ১ থেকে ৫নং প্রতিপক্ষ অর্থাৎ সরকার পক্ষ (ডি সি, এসিডি, ইউএনও, এসিল্যান্ড ও শিমুলিয়া ইউনিয়ন নায়েব) যাহাতে বাদী পক্ষকে কোন প্রকার স্বত্ব দখলীয় জমিতে বিঘ্ন সৃষ্টি ও লিজ প্রদান না করিতে পারে এই মর্মে দেং ৬৫/২১ নং চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমার ১২/৩/ ২০২৪ইং তারিখে রায় ডিক্রি প্রদান করেন বিজ্ঞ আদা লত।
এরপরও গ্রামের কিছু উৎশৃঙ্খল সন্ত্রাসী লোক জন বাদি র পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দিয়ে আস ছে এবং জমির দাবী ও মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বিভি ন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে।
বিষয়টি নিয়ে অভিযোগের বাদি শিমুলিয়া ইউনিয়নের নায়েবের নিটক গেলে তিনি বলেন, আপনি এই বিষয়ে আমার অফিসে আসবেন না।
আপনার প্রয়োজনে এসিল্যান্ডের সাথে যোগাযোগ করে ন। বাদি এসিল্যান্ডের নিটক গেলে তিনি আমাকে বলেন, মামলা প্রতাহ্যার করে নিয়ে আমার সাথে কথা বলবেন।
বাদি মামলা প্রত্যাহার না করার কারণে এলাকার ১৫/২০ জন উৎশৃঙ্খল সন্ত্রাসী লোকজনের দ্বারা বাদির গ্রামের বাড়ীতে গত ১৮/১০/২০ ২৫ইং তারিখ রাত অনুমানিক রাত ৮.৩০ঘটিকার সময় হামলা চালিয়ে আমার পরিবা রের সদস্যদের কে অশ্লীনভা ষায় গালিগালাজ করেন ও জমিতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয় এবং একসপ্তাহ ব্যা পী ৩য় পক্ষরা আমার পরি বারকে গৃহবন্দী করে রাখে।
পরবর্তীতে থানার ওসি বিষ য়টি অবগতি হইয়া বাদির পরিবারকে গৃহবন্ধী থেকে মুক্ত করেন।
বিষয়টি এসিল্যা ন্ডকে জানালে তিনি বলেন, মামলা প্রত্যা হার সহ উক্ত ৩য় পক্ষের সাথে তাহার অফিসে বসতে হবে।
৩য় পক্ষ বিজ্ঞ আদালতের রায়, ডিক্রী ও চিরস্থায়ী নিষেধা জ্ঞা প্রাপ্ত জমি জবর-দখলের চেষ্টা করে আসছে এবং তা হারা জোরপূর্বক ক্ষমতার বলে বিজ্ঞ আদলতের চিরস্থা য়ী নিষে ধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে অনাধিকার ভাবে প্রবে শের চেষ্টা করছে। ইতিপূর্বে জেলা প্রশাসক ও ইউএনও’র নিক ট একাধিকবার আবেদন করার পরও আমার বিষয়ে অদ্য বধি কোন প্রকার সমাধান হয়নি।
যাহার কারণে ৩য় পক্ষরা মিলে আমার পরিবারের উপর অমনবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে বলে বাদি তার অভি যোগে উল্লেখ করেছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, সম্প্রতি সময়ে ঘটনার আলো কে দেখা যায় বাদি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যা লয়ে ০১/১০/২০২৪, ১৪/১০/২০২৪, ২৯/১০/২০২৪, ০৫/০২/২০২৫ ও ২৭/০৮/২০২৫ইং তারিখ সহ একাধিক আভিযোগ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ০১/০৬ /২০২ ৫ইং আভিযোগ দায়েরের করেছেন।
বাদির অভিযোগ গুলি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কা র্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ক্রমাগতই সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর নিকটে তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসে।
আর তিনি তার ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অভিযোগ গু লো ধামাচাপা পড়ে যায়।
তারই ধারাবাহিকতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ০১/ ০৬/২০২৫ইং তারিখের অভিযোগের উপর জেলা প্রশাস কের পক্ষে রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর মো. নাঈমুর রহমা ন নাঈম গত ০৭ আগস্ট বিজ্ঞ আদালতের রায়, ডি ক্রী ও চিরোস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা রক্ষা ও তার এবং তার পরি বারের জানমালের নিরাপত্তা প্রদান প্রসঙ্গে প্রয়োজনী য় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অনু রোধ করেন।
উক্ত বিষয়টি নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অবগতি করেন। আবেদনের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভুপালী সরকারের নিকট আসলে তিনি ১১/০৮/২০২৫ইং ৩৯৪২নং ডকেটে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সার ওয়ারকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পাঠান।
কিন্তু সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বিষয়টি আমলে না নিয়ে চাপিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে উপজেলা নির্বাহী অফি সার ভুপালী সরকার ০১-০৩ নভেম্বর বগুড়া ও ০৫-০৬ নভেম্বর ঢাকায় এক সপ্তাহ যাবৎ ২টা ট্রেনিংয়ে যাওয়ার সময় অতিরিক্ত দায়িত্বে¡ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সার ওয়ার দায়িত্ব দেন। আর এই সুযোগকে কাজে লাগি য়ে তিনি তড়িঘড়ি করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ০১/০৬ /২০২৫ইং তারিখের আবেদনের উপর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ০৬/১১/২০২৫ইং তারিখে তিনিই তাকে অতিরিক্ত দায়িত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে প্রায় ৪মাস পরে ঘটনার ধামাচাপা দিতে আবেদকারী ও তার পরিবা রের নিরাপত্তার বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে এবং তিনি দপ্তরিক চেয়ার পরিবর্তন করে একই তারিখে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তিনি ০৫.৪৪.৪১২৩.০ ০০.০৯. ০০৩.২৫- ২৭৫৮নং স্মারকে জেলা প্রশাসককে জানান সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমি নে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
উক্ত জমি সংক্রান্ত বিষয়ে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে.এম মামুনুর রশীদের নামে বিজ্ঞ আদালত অব মানার মামলা দায়ের করেন বাদি শহিদুল ইসলাম পল্লব।
এই মামলা মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন এবং মামলা প্রত্যাহার না করার কারণে এলাকার ১৫/২০ জন উৎশৃঙ্খল সন্ত্রাসী লোকজনের দ্বারা বাদি মোঃ শহি দুল ইসলাম পল্লব সহ তার পরিবারের সদস্যদের কে অশ্লীনভা ষায় গালিগালাজ ও জমিতে না যাওয়ার জন্য হুমকি দেয় এবং একসপ্তাহ ব্যাপী সন্ত্রাসী লোকজন তার পরিবারকে গৃহবন্দী করে রেখেছেন বলে দাবী করে ০২/ ১১/২০২৫ইং তারিখে জেলা প্রশাসকের নিটক আবারও একটি অভি যোগ দায়ের করেছেন।
শিমুলিয়া ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল কবির বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা এবং মামলার সংক্রান্ত কোন বিষয়ে বাদির সাথে আমার কোন কথা বার্তা হয়নি।
আপনারা বিগত ২ তারিখের বিষয়ে আমাকে যে অবগত করেছেন ওটার বিষয়ে আমি কোন কিছু জানি না। তবে ঘটনার বিষয়ে বাদি মনে হয় সাবেক নায়েব আবুল খায়ের কে ইঙ্গিত করেছেন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, এই অভিযোগের মুলকপি এখনো আমার কাছে আসেনি।
যার জন্য বক্তব্য দিতে পারচ্ছি না। যদি এটা আমার কাছে চলে আসে তাহলে সাথে সাথে আমি বক্তব্য দিবো।
এমন একটা অভিযোগ হয়েছে আমার জানা আছে। ওটা ডিসি স্যার ও ইউএনও স্যার হয়ে আমার কাছে আসবে।
আমি সকালেও ডাক চেক করেছি তবে আমার নিকট অফিসিয়াল ভাবে এখনো আসেনি।
এছাড়াও পল্লবের পরিবারের প্রতি তার কতৃক হয়রানির বিষয়ে তিনি অস্বি কার করে বলেন, এধরনের বিষয় নিয়ে আমি অব গত নই। আর আমি এই ধরনের কোন নিদের্শ না দিয়েছি এই ধরনের অভিযোগে সঠিক নয়।
কারা মাছ ধরেছে এবং হামলা করেছে এই বিষয়ে আমি অবগত নই। তারা কারা তাদের নাম দেন।
তার বক্তব্যের আলোকে অভিযোগে দেখা যায় বিগত ২৭/ ০৮/২০২৫ইং তারিখে ইউএনও অফিসে ৩জনের নাম সহ ১০-১৫জনকে অজ্ঞাত করে মাছলুট ও জানমালের হুম কির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগে দায়ের করেছেন বাদি বা অভিযোগকারী।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. রনী খাতুন বলেন, যে হেতু মামলা চলমান রয়েছে এ বিষয়ে কোর্টের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ও প্রচলিত আইন মোতাবেক আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
জেলা প্রশাসক মো. আজাহারুল ইসলাম বলেন, ইউএ
নও, এসিল্যান্ডের নিকট প্রতিবেদন চেয়েছি। ইউএনও, এসিল্যান্ড সাহেব যেটা জানিয়েছেন, যে জমিটা নিয়ে ওখানে মামলা চলমান আছে।
চলমান মামলা যেখানে থাকে সেখানে সেই বিষয়ে আ মাদের কোন মন্তব্য থাকে না। আদালতের নির্দেশনা অ নুয়ায়ী আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নিবো।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে