Dhaka , Sunday, 8 November 2026
সর্বশেষ:
ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁওয়ে ডিবির মাদকবিরোধী অভিযান: ইয়াবাসহ দুই ভাইবোন গ্রেফতার নওগাঁ সদর মডেল থানায় নতুন ওসি হিসেবে মো. মিন্টু রহমানের যোগদান লালপুরে গরম পানি ঢেলে আপন ভাবী ও ভাতিজার শরীর ঝলসে দিল নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা ইমরান আলী চৌগাছায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির আলোচনা সভা ও র‌্যালি ক্ষমতার ভাগাভাগি নয়,জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি করছে এবি পার্টি: মজিবুর রহমান মঞ্জু নড়াইলর মুলিয়া ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ফুটবলার গোপাল হাজরার স্মৃতি কথা!! ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে নতুন করে জাগিয়ে তুলতে চান সংস্কৃতিমন্ত্রী- নিতাই রায় চৌধুরী পুঠিয়ায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ পাওনা টাকা চাওয়ায় ছোট ভাইয়ের মাথা ফাটালো বড় ভাই

যেসব আসনে প্রার্থী বদলের দাবীতে বিএনপির বঞ্চিতরা মাঠ ছাড়েননি

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:54 am, Wednesday, 26 November 2025
  • 22 Time View

বিশেষ প্রতিনিধি:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই মনোনয়ন নিয়ে বিভেদের তীব্রতা বাড়ছে।

এ নিয়ে বিব্রত দলটির নীতিনির্ধারকরাও। বিদ্রোহীদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ডেকে বিরোধ মেটানোর চেষ্টাও চলছে।

এ সব আসন গুলোয় বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে দলে র মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তবে প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে কিছু আসনে দলটির তৃণ মূলে বিভেদ এখনো কাটেনি। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া নেতারা এলাকায় প্রচার প্রচারনায় প্রচুর অর্থও ব্যয় কর ছেন।

অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিতরাও খরচ করছেন মনোনয়ন পাওয়ার আশায়।

এই আশাবাদী নেতাদের সমর্থকরা প্রার্থিতা বদলের দাবি তে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

কয়েকটি আসনে ঘোষিত সম্ভাব্য একক প্রার্থীর সমর্থক রাও পালটা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকছেন। সব মিলিয়ে এতে দলটির ক্ষতি হচ্ছে।

এরফলে লাভবান হচ্ছে নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যরা।

ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠে থাকার বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনা অমান্য করার অভি যোগ উঠেছে বেশ কয়েকটি আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

তারা নিজ এলাকার মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে এখনো কথা বলেননি।

এমনকি সহযোগিতা চেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রার্থীরা বঞ্চিতদের ফোন পর্যন্ত করেননি।

প্রার্থীদের এমন আচরণ বিভেদকে আরও বাড়ছে বলে অনেকে মনে করছেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আসন ভিত্তিক কোন্দ লের সঠিক কারণ, প্রার্থীদের দুর্বলতা, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার অবস্থান পুনর্মূল্যায়নে কাজ করছে দলের একটি টিম।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা পুনর্মূল্যা য়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ থাকলেও ঐক্য রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে বঞ্চিতদের পর্যায়ক্রমে ডেকে বোঝানো হচ্ছে। তারা আশা করছেন, দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঘোষিত ২৩৬ আসনের মধ্যে অন্তত ৪০টি আসনে এ বিরোধ চলছে।

এসব আসনের মনোনয়ন বঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সম্ভাব্য একক প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাবে প্রার্থীর অবস্থান ও জনপ্রিয়তা সঠিক ভাবে যাচাই করা হয়নি।

যারা জরিপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা বিএনপির হাই কমান্ডকে ভুল তথ্য দিয়ে থাকতে পারেন।

যে কারণে এই বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব আস নের সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের একাধিক নেতা জানান, তারা প্রতিদিনই মাঠে থাকছেন, ধানের শীষের প্রচারণা করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দল আগেই বলেছে, এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়, সম্ভাব্য তালিকা।

কোনো এলাকায় পরিবর্তন দরকার মনে করলে, অবশ্যই তা করা হবে। সবকিছু বিশ্লেষণ করেই তালিকা করা হয়।

তিনি বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু জায়গায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। কারণ, অনেক জায়গায়ই মনো নয়ন পাওয়ার যোগ্য দু-তিনজন করে নেতা আছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ মিটিয়ে নিচ্ছি।

যেসব আসনে এখনো বিরোধ মেটেনি, সেসব আসনের বেশকিছু ঘোষিত প্রার্থীর অবস্থান স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দুর্বল।

মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্থানীয় ভাবে কিছুটা শক্ত অবস্থানে। অনেকের জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

গুলশান কার্যা লয়ে তাদের ডেকে বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই চাঁদপুর-২ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছে।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে চাঁদ পুর জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা র সমর্থকরা নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন মিজানুর রহমান চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরা।

এ আসনে নেতা কর্মীদের বেশির ভাগ মিজানুর রহমানকে প্রার্থী চান। তিনি ত্যাগী ও জনপ্রিয় একজন নেতা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক নেতা।

কুষ্টিয়া-১ আসনের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে শরিফ উদ্দিন জুয়েলের সমর্থকরাও মানববন্ধন, গণমিছিল ও সমাবেশ করেছেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিকে।

এ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী মনোনয়ন চাইছেন। শেখ সাদী স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসাবে পরিচিত।

এখানে মনোনয়নে পরিবর্তন না হলে অঘটন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সাবেক সং সদ-সদস্য মুশফিকুর রহমানকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে।

এই আসনে অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী কবির আহমদ ভুঁইয়ার পক্ষে দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই কর্মসূচি পালন করছেন।

নরসিংদী-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী পরিবর্তন চায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ। এ আসনে তারা ছাত্রদলের সাবে ক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধা রণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলকে প্রার্থী হিসা বে দেখতে চাইছেন।

নাটোর-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বিগত বছর গুলোয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, দলের সাংগঠনিক তৎপরতা কিংবা নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে কাজ করেছেন।

প্রার্থিতা বদল করে তাইফুল ইসলাম টিপুকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সেখানে সমাবেশসহ বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মশাল মিছিল হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনেও। সেখানে মনোনয়নবঞ্চিত সব প্রার্থী একট্টা হয়ে ছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনকে প্রার্থী হিসাবে চান।

গাইবান্ধা-২ আসনেও প্রার্থী বদল করে সাবেক সচিব আ মিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ। চট্টগ্রাম-১২ আস নে এনামুল হককে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে সেখানে চলছে বিক্ষোভ।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আব্বাস জানান, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন-এমন কাউকে প্রার্থী দেওয়ার জন্য হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

যশোর ২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসন। এ আসনে  প্রাথমিক ভাবে সাবিরা নাজমুল মুন্নীকে মনোনয়ন দেয়া হলেও মনোনয়ন বঞ্চিত মিজানুর রহমান মিজান খান ও ত্যাগী নেতা জহুরুল ইসলাম মাঠ ছাড়েন নি। তারা প্রার্থী বদলের জোর দাবী তুলেছেন। ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করেছেন। একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিত ভাবে প্রার্থী বদলের দাবী করেছেন তারা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-৪ ও ১৬, সিলেটবিক্ষোভ, সমাবেশ ও৬, রংপুর-৩, সাতক্ষীরা-২ ও ৩, গাইবান্ধা-৪, ঠাকুরগাঁও-৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, কুড়িগ্রাম-২, নোয়াখা লী-৫, নীলফা মারী-৪, দিনাজপুর-২, হবিগঞ্জ-৪, জয়পুরহা ট-১ ও ২, ময়মনসিংহ-৩, ৬, ৯ ও ১১, মুন্সীগঞ্জ-২, কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১০, রাজশাহী-৪ ও ৫, রাজবাড়ী-২, নওগাঁ-১, ৩ ও ৪, পাবনা-৪, মৌলভী বাজা র-২ আসনসহ আরও কয়েক টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে।

About Author Information

Popular Post

ঠাকুরগাঁওয়ে ওয়ারিশান সনদে জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখানোর অভিযোগ প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে

যেসব আসনে প্রার্থী বদলের দাবীতে বিএনপির বঞ্চিতরা মাঠ ছাড়েননি

Update Time : 04:54 am, Wednesday, 26 November 2025

বিশেষ প্রতিনিধি:ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ততই মনোনয়ন নিয়ে বিভেদের তীব্রতা বাড়ছে।

এ নিয়ে বিব্রত দলটির নীতিনির্ধারকরাও। বিদ্রোহীদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ডেকে বিরোধ মেটানোর চেষ্টাও চলছে।

এ সব আসন গুলোয় বিরোধ দ্রুত সমাধান না হলে দলে র মধ্যে বিরোধ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন দলটির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

তবে প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে কিছু আসনে দলটির তৃণ মূলে বিভেদ এখনো কাটেনি। প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া নেতারা এলাকায় প্রচার প্রচারনায় প্রচুর অর্থও ব্যয় কর ছেন।

অন্যদিকে মনোনয়ন বঞ্চিতরাও খরচ করছেন মনোনয়ন পাওয়ার আশায়।

এই আশাবাদী নেতাদের সমর্থকরা প্রার্থিতা বদলের দাবি তে মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

কয়েকটি আসনে ঘোষিত সম্ভাব্য একক প্রার্থীর সমর্থক রাও পালটা কর্মসূচি দিয়ে মাঠে থাকছেন। সব মিলিয়ে এতে দলটির ক্ষতি হচ্ছে।

এরফলে লাভবান হচ্ছে নির্বাচনে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যরা।

ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনি মাঠে থাকার বিষয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের নির্দেশনা অমান্য করার অভি যোগ উঠেছে বেশ কয়েকটি আসনের সম্ভাব্য একক প্রার্থীর বিরুদ্ধে।

তারা নিজ এলাকার মনোনয়ন বঞ্চিতদের সঙ্গে এখনো কথা বলেননি।

এমনকি সহযোগিতা চেয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার বিষয়ে প্রার্থীরা বঞ্চিতদের ফোন পর্যন্ত করেননি।

প্রার্থীদের এমন আচরণ বিভেদকে আরও বাড়ছে বলে অনেকে মনে করছেন।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, আসন ভিত্তিক কোন্দ লের সঠিক কারণ, প্রার্থীদের দুর্বলতা, মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার অবস্থান পুনর্মূল্যায়নে কাজ করছে দলের একটি টিম।

তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রার্থী তালিকা পুনর্মূল্যা য়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলছেন, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলের ভেতরে ক্ষোভ থাকলেও ঐক্য রক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিক্ষোভ ঠেকাতে বঞ্চিতদের পর্যায়ক্রমে ডেকে বোঝানো হচ্ছে। তারা আশা করছেন, দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঘোষিত ২৩৬ আসনের মধ্যে অন্তত ৪০টি আসনে এ বিরোধ চলছে।

এসব আসনের মনোনয়ন বঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, সম্ভাব্য একক প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাবে প্রার্থীর অবস্থান ও জনপ্রিয়তা সঠিক ভাবে যাচাই করা হয়নি।

যারা জরিপের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তারা বিএনপির হাই কমান্ডকে ভুল তথ্য দিয়ে থাকতে পারেন।

যে কারণে এই বৈরী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব আস নের সম্ভাব্য প্রার্থী ও মনোনয়ন বঞ্চিতদের একাধিক নেতা জানান, তারা প্রতিদিনই মাঠে থাকছেন, ধানের শীষের প্রচারণা করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দল আগেই বলেছে, এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়, সম্ভাব্য তালিকা।

কোনো এলাকায় পরিবর্তন দরকার মনে করলে, অবশ্যই তা করা হবে। সবকিছু বিশ্লেষণ করেই তালিকা করা হয়।

তিনি বলেন, মনোনয়ন ঘোষণার পর কিছু জায়গায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। কারণ, অনেক জায়গায়ই মনো নয়ন পাওয়ার যোগ্য দু-তিনজন করে নেতা আছেন। আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলে ক্ষোভ মিটিয়ে নিচ্ছি।

যেসব আসনে এখনো বিরোধ মেটেনি, সেসব আসনের বেশকিছু ঘোষিত প্রার্থীর অবস্থান স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দুর্বল।

মনোনয়ন বঞ্চিতরা স্থানীয় ভাবে কিছুটা শক্ত অবস্থানে। অনেকের জনপ্রিয়তাও রয়েছে।

গুলশান কার্যা লয়ে তাদের ডেকে বিরোধ সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই চাঁদপুর-২ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ চলছে।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে চাঁদ পুর জেলা বিএনপির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক তানভীর হুদা র সমর্থকরা নানা কর্মসূচি পালন করছেন।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন মিজানুর রহমান চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরা।

এ আসনে নেতা কর্মীদের বেশির ভাগ মিজানুর রহমানকে প্রার্থী চান। তিনি ত্যাগী ও জনপ্রিয় একজন নেতা বলে জানিয়েছেন স্থানীয় একাধিক নেতা।

কুষ্টিয়া-১ আসনের মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে শরিফ উদ্দিন জুয়েলের সমর্থকরাও মানববন্ধন, গণমিছিল ও সমাবেশ করেছেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমিকে।

এ আসনে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী মনোনয়ন চাইছেন। শেখ সাদী স্থানীয়ভাবে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা হিসাবে পরিচিত।

এখানে মনোনয়নে পরিবর্তন না হলে অঘটন ঘটতে পারে বলে মনে করছেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে সাবেক সং সদ-সদস্য মুশফিকুর রহমানকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে।

এই আসনে অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী কবির আহমদ ভুঁইয়ার পক্ষে দুই উপজেলার নেতাকর্মীরা প্রতিদিনই কর্মসূচি পালন করছেন।

নরসিংদী-৪ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী পরিবর্তন চায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশ। এ আসনে তারা ছাত্রদলের সাবে ক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধা রণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েলকে প্রার্থী হিসা বে দেখতে চাইছেন।

নাটোর-১ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু বিগত বছর গুলোয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা, দলের সাংগঠনিক তৎপরতা কিংবা নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে কাজ করেছেন।

প্রার্থিতা বদল করে তাইফুল ইসলাম টিপুকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সেখানে সমাবেশসহ বিক্ষোভ হয়েছে।

বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মশাল মিছিল হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনেও। সেখানে মনোনয়নবঞ্চিত সব প্রার্থী একট্টা হয়ে ছেন। তারা কেন্দ্রীয় নেতা মাহমুদুর রহমান সুমনকে প্রার্থী হিসাবে চান।

গাইবান্ধা-২ আসনেও প্রার্থী বদল করে সাবেক সচিব আ মিনুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ। চট্টগ্রাম-১২ আস নে এনামুল হককে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকে সেখানে চলছে বিক্ষোভ।

চট্টগ্রাম-১৩ আসনে সরওয়ার জামাল নিজাম প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলী আব্বাস জানান, দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন-এমন কাউকে প্রার্থী দেওয়ার জন্য হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

যশোর ২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) আসন। এ আসনে  প্রাথমিক ভাবে সাবিরা নাজমুল মুন্নীকে মনোনয়ন দেয়া হলেও মনোনয়ন বঞ্চিত মিজানুর রহমান মিজান খান ও ত্যাগী নেতা জহুরুল ইসলাম মাঠ ছাড়েন নি। তারা প্রার্থী বদলের জোর দাবী তুলেছেন। ইতোমধ্যে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশও করেছেন। একই সাথে কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে লিখিত ভাবে প্রার্থী বদলের দাবী করেছেন তারা।

এছাড়া চট্টগ্রাম-৪ ও ১৬, সিলেটবিক্ষোভ, সমাবেশ ও৬, রংপুর-৩, সাতক্ষীরা-২ ও ৩, গাইবান্ধা-৪, ঠাকুরগাঁও-৩, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২, কুড়িগ্রাম-২, নোয়াখা লী-৫, নীলফা মারী-৪, দিনাজপুর-২, হবিগঞ্জ-৪, জয়পুরহা ট-১ ও ২, ময়মনসিংহ-৩, ৬, ৯ ও ১১, মুন্সীগঞ্জ-২, কুমিল্লা-৫, ৬ ও ১০, রাজশাহী-৪ ও ৫, রাজবাড়ী-২, নওগাঁ-১, ৩ ও ৪, পাবনা-৪, মৌলভী বাজা র-২ আসনসহ আরও কয়েক টিতে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন চলছে।