Related Articles
মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা (বাগেরহাট):
মোংলা মাদ্রাসা রোডের রাব্বি ক্লিনিকে শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর ২৫) সকাল ১১টায় সিজারের জন্য নেওয়া হয় মোংলা সুন্দরবন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোঃ রুহুল আমিন শেখের স্ত্রী বৃষ্টি বেগমকে (২৬)। অপারেশনে উপ স্থিত ছিলেন ক্লিনিকের মালিক মো. এনামুল, ডাক্তার মা মুন ও এনামুলের ছেলে।
অপারেশন চলাকালে নবজাতকে বের করার পর রোগীর অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে ক্লিনিকের মালিক এনামুল সহ উপস্থিত স্টাফ ও নার্স সবাই ক্লিনিক ছেড়ে পালিয়ে যায়। অবহেলা ও বিশৃঙ্খলার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত মারা যান বৃষ্টি বেগম।
ঘটনা জানাজানি হলে দ্রুত মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কম প্লেক্সের ডাক্তার শাহীন এর নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্লিনিকটি সিলগালা করে।
ক্লিনিকে ভর্তি থাকা অন্যান্য রোগীদের উদ্ধার করে উপ জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয় এবং মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে বৃষ্টি বেগমের মৃত্যুর বিষ য়টি নিশ্চিত করা হয়।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মোংলা সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মোঃ রেফাতুল ইসলাম এবং মোংলা থানা ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা চালালেও প্রশাসনের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরি স্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাব্বি ক্লিনিকের মালিক এনামুলের অবহেলায় এর আগেও একাধিক রোগী প্রাণ হারিয়েছেন, কিন্তু প্রতিবারই আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে তিনি রেহাই পেয়েছেন।
শুধু সিলগালা নয়, এনামুলের ক্লিনিক ব্যবসা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা। পাশাপাশি উপ জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত রাতুল ক্লিনি কসহ অনুমোদনহীন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান এলাকাবাসী।
বৃষ্টি বেগমের আত্মীয়রা অভিযোগ করে জানান, তারা এনামুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই এড়ানো যায় না বলে তারা মনে করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাক্তার শাহীন জানান, অনুমোদন ও দক্ষ জনবল ছাড়া কোনো ক্লিনিকের অস্ত্রো পাচার করানোর সুযোগ নেই। নিয়ম ভঙ্গ ও চিকিৎসা অবহেলার কারণে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
মোংলায় অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি না থাকলে এমন দুর্ঘটনা থেমে থাকবে না—এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।#
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে