Related Articles
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহীর তানোরে ব্যক্তি মালিকানাধীন অবৈধ সেচ মটরের পরিত্যক্ত বোরিংয়ের ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু গর্ত দিয়ে মাটির প্রায় ৫০ ফুট গভীরে পড়ে গেছে সাজিদ হোসেন নামের ২ বছর বয়সী এক শিশু।
তার বাবার নাম রাকিবুল ইসলাম। গত বুধবার (১০ ডিসে ম্বর) দুপুরে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের রাজশাহী, নওগাঁ চাঁপাই নবাবগঞ্জ ও তানোরসহ প্রায় ৮টি ইউনিট শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে।
একই সঙ্গে গর্তের ভিতরে দেওয়া হচ্ছে অক্সিজেন। এছা ড়াও সুড়ঙ্গে।ক্যামেরা নামিয়ে বার বার শিশুর অবস্থান নিশ্চিত করার চেস্টা করছেন উদ্ধার কর্মীরা।
এদিকে শিশুটিকে জীবিত ফিরে পেতে নির্ঘুম এক রাত ও একদিন কেটেছে উদ্ধারকর্মীদের। সঙ্গে স্বজনদেরও।
বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা, রাত, রাত গড়িয়ে পরদিন বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা প্রায় ২৫ ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করার পরেও উদ্ধার করা যায়নি শিশুটিকে। এখানো উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে ঘটনাস্থ লের অদূরে সন্তানকে ফিরে পেতে মা রুনা খাতুন ‘তুমি কাইড়া (কেড়ে) নিও না আল্লাহ’ বলে বিলাপ করতে থা কেন।
অপরদিকে গত বুধবার রাতে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল অবঃ শরিফ উদ্দিন ও জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং মহান আল্লাহ পাকের কাছে দোয়া প্রার্থনা করছেন।
এদিক বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা শেষ খব র পাওয়া পর্যন্ত মাটির ৪২ ফুট গর্ত করা হলেও শিশুটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
এখানো উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে। তবে সকাল হতে না হতেই উদ্ধার অভিযান স্থলে শত শত উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কয়েক দফায় বোরিংয়ের ৩০ ফুট গর্তে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ক্যামেরা নামায়।
কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি ও খড়ের কারণে শিশুটি তারা দেখতে পায়নি। তবে একই দিন দুপুরে শিশুটির কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। থেমে নেই ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান।
অন্যদিকে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি,পুলিশ সুপার (এসপি),ফায়ার সার্ভিস রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক ঘটনা স্থল ও উদ্ধার কাজ পরিদর্শন করেন।
এছাড়াও তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভুমি),তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্ম কর্তা (টিএইচও), তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও পাঁচন্দর ইউনিয়ন (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ সার্বক্ষণিক উদ্ধার কাজ ও পরি স্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সেখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমসহ এ্যাম্বুলেন্স।
এদিকে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন জানান, গ্রামের পাশের এ জমিটির মালিক একই গ্রামের মৃত তমির উদ্দিনের পুত্র কছির উদ্দিন। এক বছর আগে কছির উদ্দিন জমিতে সেচের জন্য একটি সেমিডি প (সেচ মটর) নলকূপ বসানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ৩৫ ফুট বোরিং করার পর সেখানে পানি পাননি। তাই নলকূপ বসানো হয়নি। তবে এক বছর ধরে ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের গর্তটি সেভাবেই পড়ে ছিল।
দুই বছর বয়সী শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, ওই মাঠে ধানগাছের খড় নিতে যাচ্ছিলাম দুই শিশুকে নিয়ে। এক শিশুকে কোল থেকে নামিয়ে দিই। সে আমার পিছনে পিছনে হাটছিল। পরে পিছনে তাকিয়ে দেখি ছেলে নেই।
এর পর দেখি গর্ভের ভিতর থেকে মা মা করে ডাকছে।
রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, ‘‘প্রথমে স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়।
পরে ফায়ার সার্ভিসের তানোর, চাপাইনবাবগঞ্জ ও রাজ শাহী সদর স্টেশনের পাঁচটি ইউনিট গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে। এর পর ক্যামেরা পাঠিয়ে শিশুটির অবস্থান ৩৫ ফুট নিচে নির্ণয় করা হয়।
ফলে শিশুটিকে জীবিত রাখতে পাইপের মাধ্যমে অক্সি জেন দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যেহেতু গর্তের ৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সরু সেহেতু খনন ছাড়া উদ্ধার সম্ভাব নয়।
তাই গর্তের পাশে স্কেভেটর দিয়ে মাটি খনন করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিস পৌছার আগেই স্থানীয়রা শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে কিছু মাটি ও খড় গর্তে পড়ে গেছে।
সেখানে ক্যামেরা পাঠিয়ে শিশুটির অবস্থান ভালভাবে বুঝা যাচ্ছে না। সে কারণে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না শিশুটি জীবত আছে কি না।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, ঘটনার পর পরই উপজেলা প্রশাসনসহ পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। প্রস্তুত রাখা হয়েছে মেডিকেল টিমসহ এ্যাম্বুলেন্স।
মাটি খনন যন্ত্রের প্রয়োজন হওয়ায় দ্রুত সেটিও ম্যানেজ করা হয়। শিশুটিকে উদ্ধারে সব ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই সঙ্গে কিভাবে বা কেন এ ধরণের গর্ত সেখানে থেকে গেছে তা ক্ষতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান নাঈমা খান।
স্থানীয়রা জানা,কোয়েল পুর্বপাড়া গ্রামের মৃত তমির উদ্দি নের পুত্র কছির উদ্দিন মাঠে অবৈধ সেচ মটর স্থাপনের জন্য বোরিং করেন।তবে পানির লেয়ার না পাওয়ায় বোরিং পরিত্যক্ত করেন।
কিন্ত্ত পরিত্যক্ত বোরিং সুড়ঙ্গ (গর্ত) মাটি দিয়ে ভরাট না করে উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখেন। স্থানীয়রা।অনা কা ঙ্খিত এ ঘটনার জন্য কছির উদ্দিনকে দায়ি করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে