Related Articles
মফিজুল ইসলাম শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)ঃ
নাচোলের রাণী মা খ্যাত তেভাগা আন্দোলনের নেত্রী ইলা মিত্র। ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে রয়েছে তার ৯কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল পৈত্রিক ভিটাবাড়ি।
প্রতœসম্পদ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এলাকার জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি তার বাড়িতে যাওয়ার রাস্তাটি সংস্কারের ।
জেলাপরিষদ ৫লক্ষ টাকা ব্যয়ে গত সপ্তাহে রাস্তাটি সং স্কার( ফ্লাট সলিং)কাজ করে সেখানে নামফলক দেয়।
নামফলকে লেখা আছে, ’শৈলকুপা উপজেলার নিত্যান ন্দনপুর ইউনিয়নের ইলা মিত্রের বাড়ি হইতে মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ফ্লাট সলিং করণ’ অর্থবছর ২০২৪-২০২৫, বরাদ্ধকৃত অর্থ ৪লাখ ৯০হাজার টাকা, বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ।
কিন্তু সজেমিনে দেখা গেছে, রাস্তার নামফলক লেখা ঠিক আছে তবে নির্মিত রাস্তাটির সাথে নামফলকের বা ইলা মিত্রের বাড়িতে যাওয়ার কোন সম্পর্ক নেই। নতুন রাস্তাটি হয়েছে ইলা মিত্রের বাড়ি থেকে আধাকিলোমিটার দক্ষিনে অন্য একটি রাস্তায়।
ইলামিত্রের বাড়িতে যাওয়ার কাঁচা রাস্তাটি রায়পাড়ায় আর জেলাপরিষদ রাস্তা বানিয়েছে ছকাতি পাড়ায় !
স্থানীয়রা জানায় তড়িঘড়ি করে ৩দিনের মধ্যে হঠাৎ তাদের গ্রামের ছকাতি পাড়ায় একটি ইটের রাস্তা তারা দেখতে পায়। আগে থেকে কখনো এই রাস্তা নির্মাণের কথা এলাকাবাসী জানতেন না।
তাদের অভিযোগ রাস্তা নিন্মমানের ইট-বালি দিয়ে গত সপ্তাহে তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করা হয়েছে। ইট-বালি ধ্বসে পড়ছে রাস্তার পাশে পুকুরে। সড়কের দু’পাশে সুরক্ষা ব্লক বা দেয়াল না দেয়ায় ধসে পড়ছে, ভেঙ্গে গেছে।
বাগুটিয়া গ্রামের ছকাতিপাড়ায় নির্মিত রাস্তার পাশের বাড়ির বাসিন্দা কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে তারা দেখতে পান তড়িঘড়ি করে তাদের কাঁচা রাস্তায় ইট বিছানো হয়েছে।
নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে তৈরী রাস্তার সাথে নামফলকের কোন মিল নেই বলে জানান, রাস্তা নির্মাণকারীরা তাদের জানান রাস্তা এভাবেই হওয়ার কথা ।
এলাকাবাসী বলেন নামফলকটিও ধ্বসে পড়েছে তাই পাশের দোকানে তুলে রেখেছেন।
বাগুটিয়া গ্রামের রায়পাড়ায় প্রতœসম্পদ ঘোষিত ইলা মিত্রের পৈত্রিক বসতভিটায় বসবাসকারী জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত বছর জেলাপরিষদ ও ঠিকাদারী লোকজন ইলামিত্রের বাড়িতে এসে তাদের সাথে কথা বলেন এবং জানান, বাড়িতে আসার রাস্তা ইলামিত্রের বাড়ি হতে মুক্তিযোদ্ধা আফজাল হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত ইটবিছানোর কাজ হবে। তবে এখন যে রাস্তা হয়েছে তা গ্রামটির অন্য পাড়ায় অন্য জায়গাতে। তিনি বলেন, এটি জেলা পরিষদের খামখেয়ালী ও দুর্ণীতির চিত্র।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, রাস্তার এমন কাজ হয়েছে সেবিষয়ে অব গত নন তবে এলাকাবাসী অভিযোগ দিলে কাজের বিল আটকে দেয়া হবে এবং তদন্ত করা হবে ।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইলা মিত্রের পৈত্রিক ভিটাবাড়িটি সংরক্ষনের জন্য সরকার তালিকাভ’ক্ত করে।
এরপর ২০১৭সালে প্রতœসম্পদ হিসাবে ঘোষিত হয়। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাড়িটি সংরক্ষণে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়ে গেজেট করে। তবে গেজেট প্রকাশের ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও জমির অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়নি।
ইলা মিত্র’র ঝিনাইদহের শৈলকুপার বাগুটিয়া গ্রামের রায়পাড়ায় নয় কক্ষবিশিষ্ট দ্বিতল ভবনের পৈতৃক বাড়িটি প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ও সংরক্ষিত স্থান হিসাবে ঘোষনার জন্য দেড় দশকের বেশী সময় আন্দোলন করে আসছিল। বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় পর্যটন ও যাতায়া ত সুবিধার জন্য জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল রাস্তা সংস্কারের ।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে
শৈলকুপায় ইলা মিত্রের পৈত্রিক ভিটাবাড়ির রাস্তা নির্মিত হলো আধাকিলোমিটার দূরে