বিশেষ প্রতিনিধি :ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর দুইটায় জাতীয় সংস দের দক্ষিণ প্লাজায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে ওস মান হাদির জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
ওসমান হাদির জানাজার নামাজে ইমামতি করেন তার বড় ভাই ড. মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক।
জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাবা হিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, এটাই স্মরণকা লের সবচেয়ে বড় জানাজা। জানাজায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই বলছেন, শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন।
ধানমন্ডির বাসিন্দা ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমার জীবনে অনেক জানাজায় অংশ নিয়েছি।
কিন্তু এত বড় জানাজা দেখিনি। শহীদ হাদি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এ কারণে এত মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন।

মিরপুর-১ নম্বরের বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, আমার ৪২ বছরের জীবনে এত বড় জানাজা দেখিনি। আমার ধারণা ৭ থেকে ৮ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আকিব হাসান বলেন, হাদি ভাই য়ের জানাজায় কত লাখ মানুষ হয়েছে বলতে পারব না। তবে এত মানুষ জীবনেও দেখিনি।
সেগুনবাগিচার বাসিন্দা সালাউদ্দিন বলেন, আমার ধারণা জানাজায় ৬ থেকে ৭ লাখ মানুষ হয়েছে।

শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশে র বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্র-জনতা এবং সাধারণ মানুষ দলে দলে হাদীর জানাজায় অংশ নেয়।
বেলা সাড়ে ১১টা বাজার আগেই পুরো মানিক মিয়া অ্যা ভিনিউ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। ‘
আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাবো’ এবং ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ এমন সব সংকল্পবদ্ধ স্লোগানে প্রকম্পিত হচ্ছে পুরো এলাকা।
সবার চোখে জল আর মুখে প্রিয় নেতাকে হারানোর শোক থাকলেও বিচার পাওয়ার দাবিতে সবাই সোচ্চার।
শহীদ হাদির জানাজাকে কেন্দ্র করে মানিক মিয়া অ্যাভি নিউ ও এর আশেপাশের সকল প্রবেশ পথে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি র্যাব ও আন সার মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ টহলে রয়েছে সেনা বাহিনী।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১ হাজার বডি ওর্ন ক্যামেরাসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করেছে পুলিশ প্রশাসন।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘর থেকে সহযোদ্ধা ও সমর্থ কদের অংশগ্রহণে একটি বিশাল শোক মিছিলের মাধ্যমে হাদির মরদেহ জানাজার মাঠে আনা হয়।,
শহীদ হাদির পরিবারের বিশেষ ইচ্ছা ও দাবির প্রতিশ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
বাদ জোহর জানাজা শেষে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যা দায় তাকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
এর আগে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে হাদির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী প্রচার ণার সময় মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীদের গুলিতে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর থেকেই হাদির শারী রিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াই শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে হাদি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
১৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তার মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছালে বিমানবন্দরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সিঙ্গাপুর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তার কফিন দেশে আনা হয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে হাদি তরুণ প্রজন্মের কাছে সাহসের এক মূর্ত প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, যার প্রতিফলন আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মানুষের এই উপচে পড়া ভিড়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে
ওসমান হাদির ঐতিহাসিক জানাজা এরআগে এতো লোক দেখিনি!!