Related Articles
মোঃ আবু বকর সিদ্দিক মোংলা :
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনে পর্যটন কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)-এর আকস্মিক অভিযানে পর্যটনবাহী জালিবোটের অবকাঠামো ভাঙচুর ও জব্দের প্রতিবাদে সুন্দরবনগামী প্রায় ৪শ জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে মালিকপক্ষ।
এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যব স্থায়। দূরদূরান্ত থেকে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকেরা নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোববার নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা) মোংলার ফেরি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩০টি পর্যটনবাহী জালিবোটের উপরের অংশের অবকাঠামো কেটে ও ভেঙে ফেলে এবং সেসব মালামাল জব্দ করে নিয়ে যায়।
এতে নৌযানগুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পর্যট কদের বসার স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনাকে ‘হয়রানিমূলক ও অমানবিক’ আখ্যা দিয়ে বোট মালিকেরা তাৎক্ষণিকভাবে ধর্মঘটের ডাক দেন।
সোমবার ভোর থেকেই সুন্দরবনে পর্যটকদের প্রবেশ ও ভ্রমণ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। মোংলার পিকনিক কর্ণার এলাকায় সকাল থেকেই শত শত পর্যটকের ভিড় থাক লেও নৌযান না থাকায় সবাইকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা যায়।
যশোর থেকে পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিয়ে আসা পর্য টক সাজেদ রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,সুন্দর বন ভ্রমণের সব প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলাম। এখানে এসে শুনি নৌযান ধর্মঘট চলছে। কোনো বিকল্প নেই। হতাশা নিয়েই ফিরে যাচ্ছি।”
দিনাজপুর থেকে পরিবারসহ আসা তামান্না বেগম বলেন,
“এত দূর থেকে এসে জানতে পারলাম নৌযান চলবে না। আমাদের সুন্দরবন দেখা হলো না। খুবই কষ্ট লাগছে।”
খুলনার চুকনগর থেকে আগত রেজাউল করিম বলেন,
“আমরা এক বাসে ৫৪ জন এসেছি। এসে দেখি সব নৌ যান বন্ধ। সময়, টাকা—সবই নষ্ট হয়ে গেল।”
মোংলা বন্দর যন্ত্রচালিত মাঝিমাল্লা সংঘের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন,নৌপরিবহন অধিদপ্তরের অ ব্যাহত হয়রানির প্রতিবাদে আমরা বাধ্য হয়ে ধর্মঘটে গেছি। প্রায় ৪শ জালিবোট, লঞ্চ ও ট্রলার এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। তারা যে শর্ত দিচ্ছে, তা বোট মালিক দের পক্ষে ব্যয়বহুল ও বাস্তবায়ন অযোগ্য। এই হয়রানি বন্ধ না হলে সুন্দরবনগামী নৌযান চলবে না।”
সুন্দরবনের করমজল পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বলেন,“সোমবার ভোর থেকে এখানে কোনো নৌযান বা পর্যটক আসেনি।
শুনেছি নৌপ রিবহন অধিদপ্তরের অভিযানের জেরেই নৌযান মালিকেরা চলাচল বন্ধ রেখেছেন।”
তবে নৌপরিবহন অধিদপ্তর (খুলনা)-এর পরিদর্শক মোঃ রাশেদুল আলম দাবি করেন,“জালিবোটগুলোর উপরের অবকাঠামো অপসারণ করা হয়েছে নৌযানের স্থিতিশীল তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য। আমাদের মূল লক্ষ্য পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
এদিকে স্থানীয় পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বিকল্প ব্যবস্থা বা সমন্বয় ছাড়াই এমন অভিযান সুন্দরবনের পর্য টন খাতে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করেছে। দ্রুত সমাধান না এলে পর্যটননির্ভর হাজারো মানুষ আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।#
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে