পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধিঃ
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালী এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে চলমান অবৈধ ইটভাটা ও কয়লার চুল্লি উচ্ছেদ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছিলেন, অনুমোদন ছাড়া এসব কার্যক্রম পরিচালনার ফলে ধোঁয়া ও ছাই থেকে কৃষিজমি,
বসতবাড়ি, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের স্বাস্থ্যের ওপর মারা ত্মক প্রভাব পড়েছিল।
২১ জানুয়ারি বুধবার দিনভর অভিযান পরিচালনা করেন খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন-উর-রশীদ ও পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনসহ যৌথভাবে
অভিযান চালায়।
অভিযানে চাঁদখালীর ও ৫৩টি কয়লার চুল্লি ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়। অভিযানে ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ ৭০ থেকে ৮০ জন অংশ নেন।
অভিযানকালে চাঁদখালী ইউনিয়নের তিনটি অনুমোদন বিহীন ইটভাটাগুলো গড়েরডাঙ্গা নামক গেট সংলগ্ন এলা কায় অবস্থিত এডিবি ভাটা, বিবিএম ভাটা ও স্টার ভাটার চিমনি ভেকু মেশিনের মাধ্যমে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসব ভাটায় মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণ কাঁচা ইট বিনষ্ট করা হয়।
এছাড়াও গড়েরডাঙ্গা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে চাঁদখালী অভিমুখে সড়কের দু’পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা শতাধিক কয়লা চুল্লির মধ্যে ৫৩ টি চুল্লি উচ্ছেদ
করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী, সহকারী কমি শনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী এবং খুলনা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন-অর-রশীদ।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, “পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে আছে।
অনুমতি ছাড়াা কোনো ভাটা বা চুল্লি চলতে দেওয়া হবে না এবং আইন ভঙ্গ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অভিযানের নেতৃত্বদানকারী ভূমি কর্মকর্তা (এসিল্যান্ড)
ফজলে রাব্বি বলেন, “ভবিষ্যতে কেউ অনুমোদন ছাড়া ভাটা বা চুল্লি চালালে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুনঃস্থাপনের সুযোগ থাকবে না।”
স্থানীয়রা অভিযানের ইতিবাচক প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন। একজন কৃষক বলেন, “ধোঁয়া ও ছাইয়ে ধান-সবজির ফলন কমে যাচ্ছিল।
এভাবে যদি অভিযান চলমান থাকে, পরিবেশ ভালো হবে।” তবে ভাটা মালিকরা জীবিকার জন্য উদ্বিগ্ন।
পরিবেশবিদরা মনে করেন, ব্যবসা বা জীবিকার যুক্তিতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিমেনে নেওয়া যায় না।
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে