বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:বাংলাদেশ জামায়াতে ইস লামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও সংসদ নির্বাচনে ‘দাঁড়ি পাল্লায়’ ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে জনগণ জামায়াতকে দেশ পরি চালনার দায়িত্ব দিলে দুর্নীতিমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদা বাজমুক্ত, ফ্যাসিবাদমুক্ত ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ইনশাআল্লাহ।’
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলা দেশ গড়ে তুলতে চাই। এজন্য ১০টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’
বগুড়া সিটি করপোরেশন ও শিল্পনগরী করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলাদে শ গড়ে তুলতে চাই। এজন্য ১০টি রাজনৈতিক দল একত্রিত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।’
তিনি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বগুড়া শহরের আলতা ফুন্নেছা খেলার মাঠে জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহর ও জেলা শাখার বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সুযোগ পেলে বগু ড়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়,বগুড়া সিটিকর পোরেশন,শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠা ও চান্দু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচের আয়োজন করব।’
তিনি বলেন, ‘দেশবাসী চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ। চাঁদার কারণে পণ্যের দাম মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।
তাই চাঁদা আমরা নেই না, কাউকে নিতেও দেব না। জামায়াতের কোনো লোক চাঁদাবাজি করে এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারবেন না।’
নারীদের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘রাসূল সা:-এর আম লে যুদ্ধক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ ছিল।
তাই আমরা নারী দের নিয়েই দেশ গড়তে চাই। তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুসারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।’
ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দেব না। বেকারের হাতকে কর্মীর হাতে পরিণত করব।
বিগত ১৫ বছরে দেশ থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। ক্ষমতায় গেলে পেটে হাত ঢুকিয়ে এই টাকা বের করে আনা হবে।’
বগুড়া জেলা আমির মাওলানা আব্দুল হক সরকারের সভাপতিত্বে বগুড়া শহর সেক্রেটারি অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মান সুরুর রহমানের পরিচালনায় জনসভায় বিশেষ অতি থির বক্তব্য দেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকু ল ইসলাম খান ও মাওলানা আব্দুল হালিম, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, জামায়া তের কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট ড.হেলাল উদ্দিন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।
জনসভায় বক্তব্য রাখেন বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী সাবেক এমপি মাওলানা শাহাদাতু জ্জামান, বগুড়া-৩ আসনের প্রার্থী নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, বগুড়া-৪ আসনের প্রার্থী ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমান, বগুড়া ৬ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মো: আবিদুর রহমান সোহেল, বগুড়া-৭ আসনের প্রার্থী গোলাম রব্বানী,কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজ শাহী বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল, এনসিপি র উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাকিব মাহদী, এলডিপি বগুড়া জেলা সভাপতি অ্যাডভো কেট মোকলেছুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজ লিস বগুড়া জেলা শাখার সভা পতি মাওলানা এহসা নুল হক, এবি পার্টির সদস্য সচিব এস এ জাহিদ সর কার, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপ তি রাশে দুল হাসান, বিডিপির জেলা সভাপতি মাহফুজুল হক, শহর জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আলম গীর হোসাইন ও মাওলানা আব্দুল হালিম বেগ, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল বাছেদ ও আব্দুল হাকিম সরকার, শহর শিবিরের সভাপতি হাবিবুল্লাহ খন্দকার, জেলা পশ্চিম শিবিরের সভাপতি সাইয়্যেদ কুতুব সাব্বির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল মতিন, শহর সভাপতি আজগর আলী, শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি রফিকুল আল ম, আল-আমিন,জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রে টারি মিজানুর রহমান, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারে শনের সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে জামায়াত আমির জেলার সাতটি আস নে জামায়াত মনোনীত ১০ দলের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
এরপর তিনি শেরপুর উপজেলার মহিপুর হাই স্কুল মাঠে নির্বাচনী পথসভায় বগুড়া-৫ আসনের প্রার্থী দবিবুর রহমা নকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
এর আগে তিনি জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকা মতলা আদর্শ মহিলা কলেজ মাঠের নির্বাচনী পথস ভায় যোগ দিয়ে বগুড়া-২আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান। এসব সমাবেশে বিপুল সংখ্যক লোকসমাগম ঘটে।
বিশেষ অতিথি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলে ন, ‘হাসিনার পতনের পর একটি দল সব জায়গায় খাওয়া শুরু করেছে।
এখন খাওয়া বাকি মাটি। কিন্তু জনগণ তাদের মাটি খেতে আর সুযোগ দেবে না।
তারা বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িপাল্লার পোস্টার ছিড়ছে, ব্যানা র খুলে ফেলছে, কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে, নারীদের হেন স্তা করছে।
গ্রামে-গঞ্জে রব উঠেছে দাঁড়িপাল্লার। তাই তারা ভোট কেন্দ্র দখল ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়া রিংয়ের ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কাউকে কেন্দ্রের ভিতর তো দূরে থাক, কে ন্দ্রের কাছে ঘুরতেও দেব না।
অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারকে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে।
আমাদের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। কারণ দীর্ঘদিন এক সাথে চলার কারণে আমরা জানি আপনারা কতটা পারেন।’