ডেস্ক নিউজ:কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পারিবারিক পরিসরে নারীদের প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি রোধে কঠোর আইনগত কাঠামো অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে অ ধ্যাদেশের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
এ লক্ষ্যে একসঙ্গে ছয়টি অধ্যাদে শের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদে শ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অ ধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপ দেষ্টা পরিষ দের নিয়মিত বৈঠকে এসব অধ্যা দেশের খসড়া অনুমোদন করা হয়।
আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদে ষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সি দ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অনুমোদন পাওয়া অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। কর্ম ক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদে শ ২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০ ২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃ পক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬। এর মধ্যে যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দুটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।
অধ্যাদেশে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খস ড়ায় হয়রানির সংজ্ঞাকে আগের তুলনায় আরও বিস্তৃ ত করা হয়েছে। এতে শারীরিক ও মৌখিক আচরণের পাশাপাশি অঙ্গভঙ্গি, ইঙ্গিতপূর্ণ কার্যকলাপ,ডিজিটাল মাধ্যম এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত সব ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক জেন্ডারভিত্তিক আচ রণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল কিংবা বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে সংঘটিত হয়রানিও এই আ ইনের আওতায় পড়বে।
আইন বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রতিটি অফিস,কার খানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপা রিশ করতে পারবে।
ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা,গোপনীয়তা ও সম্মান নিশ্চিত করতে সার্ভাইভারকেন্দ্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগকারী বা সাক্ষীর বিরুদ্ধে কো নো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
যেখানে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কমিটি গঠন সম্ভব হবে না, সেখানে জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মক র্তার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কমিটি গঠনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সহায়তায় একটি বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদে শের খসড়ায় শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মানসি ক, যৌন ও আর্থিক সহিংসতাকেও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভু ক্ত করা হয়েছে।
সাতটি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারায় প্রণীত এই অধ্যাদেশে ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা সেবা, মানসিক সহায়তা এবং আইনি সহযোগিতা নি শ্চিত করার বিধান রাখা হয়ে ছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত নির্যাতনকারীর বিরু দ্ধে অস্থায়ী কিংবা স্থায়ী সুরক্ষা আদেশ জারি করতে পারবে।
এ ছাড়া অভিযোগ গ্রহণের সাত দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবে দন দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়েছে।