Related Articles
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-২ (বোয়ালিয়া-রাজপাড়া) আসনে ত্রয়োদ্বশ জা তীয় সংসদ নির্বাচনে এবার আলোচনায় রয়েছেন জামা য়াতের মনোনীত প্রার্থী রাজশাহী মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।
যিনি গরীবের ডাক্তার হিসেবে পরিচিত।এছাড়াও এখানে প্রতিদন্দিতা করছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও রাসি কের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু,আমার বাংলা দেশ পার্টির (এবি পার্টি) মুহাঃ সাঈদ নোমান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেজবাউল ইসলাম, নাগরিক ঐক্যর মোহা ম্মদ সামছুল আলম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমেদ।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার এক লাখ ৭৮ হাজার ২৪৯ জন, নারী ভোটার এক লাখ ৯১ হাজার ৩০৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।
জানা গেছে, রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে জামা য়াত মনোনীত ডা, জাহাঙ্গীর বর্নাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অদিকারী।
এক আলোকবর্তিকার পথচলা..সুফি-সাধক হযরত শাহ্ মখদুম রুপোস (রহ:)-এর স্মৃতি বিজড়িত ও পদ্মাবিধৌত রাজশাহী মহানগরী ইসলামী আদর্শের এক উর্বর চারণ ভূমি।
এই জনপদের পবিত্র মাটি অসংখ্য শহীদের রক্তে রঞ্জিত। ত্যাগ, কুরবানী আর সংগ্রামের মহিমাময় ভূমি রাজশাহী সদর নিয়ে গঠিত নির্বাচনী আসন রাজশাহী-২।
এক নতুন সোনালি বাংলাদেশ গড়ার দৃপ্ত প্রত্যয়ে বাংলা দেশ জামায়াতে ইসলামী আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে রাজশাহী মহানগর জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত প্রফেসর ডা. মোহা ম্মদ জাহাঙ্গীরকে। মানবতার মহান ব্রতে নিয়োজিত ডাঃ জাহাঙ্গীর মানুষের কল্যাণে আত্মউৎসর্গিত এক মহৎপ্রাণ মানুষ।
চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত প্রচারবিমুখ এই ব্যক্তিত্ব আ লোকিত সমাজ বিনির্মাণের এক মহান কারিগর।
ডাঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সমাজসেবক, উদ্যোক্তা ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৬০ সালে রাজশাহী নগরীর এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রথমে তাঁরা রাজশাহীর দরগাপাড়ায় বসবাস করলেও পরবর্তীতে পরিবারসহ কাদিরগঞ্জে স্থানান্তরিত এবং স্থায়ী হোন। পিতা ডা. লুৎফর রহমান ছিলেন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক এবং মাতা রোকেয়া বেগম ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী গৃহিনী। দশ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে যষ্ঠ।
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রাজশাহী শহরের হেঁতেম খাঁ মহ ল্লার পাঠশালা স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর ভর্তি হন রাজশাহী সরকারি কলেজিয়েট স্কুলে।
তিনি স্কুল ও কলেজ জীবনে একজন সক্রিয় স্কাউট সদ স্য ছিলেন, বিভিন্ন স্কাউট ক্যাম্প ও রোভার মুটে অংশ নিয়েছেন। স্কুল জীবনে একজন দক্ষ ব্যাজধারী ও সিগন্যা লিং-এ পারদর্শী স্কাউট ছিলেন।
অধ্যায়নকালীন তিনি মুক্ত স্কাউট গ্রুপের সদস্য হন।
উল্লেখ্য যে তাঁদের গ্রুপটি রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ স্কাউট দলের স্বীকৃতি লাভ করে।
তিনি স্কাউটের সাংস্কৃতিক দলেরও সদস্য ছিলেন এবং বর্তমানেও বাংলাদেশ স্কাউটের একজন বন্ধু সদস্য।
তিনি ১৯৭৫ সালে কলেজিয়েট স্কুল থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে এসএসসি সম্পন্ন করেন।
মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ১৯৭৭ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন এবং একই বছর তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি হোন। ১৯৮৪ সালে অর্জন করেন এমবিবিএস ডিগ্রী।
পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে ডিএ (ডি প্লোমা ইন অ্যানেসথেসিওলজি) কোর্স সম্পন্ন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যা লয়ের ইন্সটিটিউট অব বায়োলজিকাল সাইন্সেস (আই বিএসসি) থেকে এম-ফিল/পিএইচডি ফেলো হিসেবে গবে ষণা করেন এবং বারডেম ঢাকা থেকে সিসিডি (ডায়াবে টিস ম্যানেজমেন্ট) কোর্স সম্পন্ন করেন।
নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ক ডিগ্রী এম. পি.এইচ অর্জন করেন। কর্ম জীবন ১৯৮৪ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন সার্ভিস ট্রেনিং এর মাধ্যমে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কর্মজীবন শুরু করেন।
তিনি রাজশাহী ও নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কম প্লেক্সে মেডিকেল অফিসার এবং রেসিডেন্সিয়াল মেডি কেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হিসেবে দায়ি ত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৭ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত রাজশাহী মে ডিকেল কলেজে ফার্মাকোলজি বিভাগে শিক্ষক হিসে বে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতা লে সুপারের (অবৈতনিক) দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ রাজশাহীতে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। ২০১১ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৫ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি মালদ্বীপের ইন্দিরা গান্ধি মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং আই কেয়ার হাসা পাতালে কনসাল্টেন্ট অ্যানেসথেসিওলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য ব্যব স্থাপনায় অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
২০১৭ সালের পহেলা আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকার বসুন্ধরা আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলে জে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
একই সঙ্গে ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ঢাকার আদ্-দ্বীন ব্যারিস্টার রফিকুল হক হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে স্বাস্থ্য প্রশাসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
পাশাপাশি ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর থেকে তিনি বসুন্ধরা আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজের অ্যানেস্থেসিওলজি বিভা গের প্রফেসর (CC) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৩-২০২৪ পর্যন্ত নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ প্রোগ্রামের অ্যাডজাংক্ট ফ্যা কাল্টি হিসেবে যুক্ত ছিলেন, যা তাঁর একাডেমিক অব দানের বহুমাত্রিকতাকে প্রকাশ করে।
এভাবে ধাপে ধাপে অর্জিত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ তাঁকে শুধু একজন দক্ষ চিকিৎসকই নয়; বরং জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন ও গবেষণার এক বহুমুখী বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবন ডা. মোহাম্মদ জাহা ঙ্গী রের রয়েছে এক সমৃদ্ধ পারিবারিক ঐতিহ্য। শিক্ষা, চিকিৎ সা ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন পূর্ব পুরুষগণ ছিলেন বি শিষ্ট ব্যবসায়ী এবং বিংশ শতকের শুরুতে রাজশাহীতে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন।
পিতা ডা. লুৎফর রহমান এবং চাচা ডা. গোলাম মোস্তফা কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে এইচএমবি (ক্যাল) ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক ছিলেন এবং রাজ শাহীতে তাদের সুপরিচিত চেম্বার ছিল তৎকালীন রাজ নীতিবিদ, শিক্ষিত সমাজ ও ইসলামি আন্দোলনের কর্মী দের আলোচনার কেন্দ্রস্থল।
এই পরিবেশে বেড়ে ওঠা ডা. জাহাঙ্গীর ছোট বেলা থেকেই ছিলেন রাজনীতি সচেতন। ১৯৮৭ সালে তিনি শিক্ষাবান্ধব পরিবারের মেয়ে সাবরীনা শারমিন বনির সঙ্গে বিবাহ বন্ধ নে আবদ্ধ হন, যিনি বর্তমানে রাজশাহীর বিনোদপুরে অবস্থিত ইসলামিয়া কলেজে ইংরেজি বিভাগে সহকারি অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
তিনিও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডের সাথে। সম্পৃক্ত এবং নারী অধিকার আদায়ের সোচ্চার কন্ঠস্বর ও বাংলাদেশ জামায়াতে। ইসলামী রাজশাহী অঞ্চল, মহিলা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ডা. জাহাঙ্গীরের শ্বশুর আব্দুস সামাদ সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত একজন প্রথিতযশা শিক্ষক এবং শাশুড়ি ছি লেন রাজশাহী কলেজের দর্শন বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর বেগম লুৎফা।
দাম্পত্য জীবনে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর তিন সন্তানের জ নক। তাঁর সন্তানেরা উচ্চশিক্ষিত এবং ইসলামী আন্দেলন ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত।
তার বড় সন্তান সাদিয়া তাবাসসুম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কাউন্সিলিং সাইকোলজিতে এমএসসি সম্পন্ন করে ছেন এবং বড় জামাতা একজন স্বনামধন্য সফটওয়ার ইঞ্জিনি য়ার।
ছোট মেয়ে ডা: তাসনীম তারান্নুম বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার, বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেডিওলজি বিভাগে এমডি কোর্সে অধ্যয়নরত এবং ছোট জামাতা সরকারি কর্মচারী হাসপাতালে স্কিন ভিডি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দ্বায়ীত্ব পালন করছেন।
একমাত্র ছেলে সাদেক জাফরুল্লা নাহিন একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন সন্তান। তবে সে নিজের জগতে উদ্ভাসিত। একমাত্র পুত্রবধূ রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ এবং একজন হোমিও চিকিৎসক।
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরে যোগ দেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পা লন করেন।
তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী মেডি কেল কলেজ ও রাজশাহী মহানগরীর সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচনে ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ মেডি কেল এসেশিয়েশনে কয়েকবার বিভিন্ন পদে নির্বাচিত হন। ছাত্রজীবন শেষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
সাংগঠনিক জীবনে নওগাঁ জেলার শুরা সদস্য, রাজশাহী মহানগরীর সেক্রেটারী এবং কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাংলা দেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর নায়েবে আমীর।
রাজনৈতিক জীবনে জুলুম ও নির্যাতনের শিকার ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রাজনৈতিক জীবনে বারবার রাষ্ট্রীয় জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ছাত্রজীবন থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদে শের প্রতিটি যৌক্তিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দো লনে তিনি সরব অংশগ্রহণ করেছেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব প্রদান করে চলেছেন।
আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠা তান্ডবের বিচার, শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোটাধিকারের দাবিতে অনুষ্ঠিত আন্দোলন, ২০১৮ ও ২০২৪ কোটা আন্দোলনসহ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী রেজিমের পতনের গণ-আন্দোলনে তিনি ছিলেন সক্রিয় ও সোচ্চার এক কন্ঠস্বর।
২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে মিথ্যা মামলায় তাকে গ্রেফতা র করে দীর্ঘ সাড়ে সাত মাস কারাগারে রাখা হয়। এছাড়া ও তিনি তিনবার কারাবন্দী হন।
জুলাই বিপ্লবে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ভূমিকা ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের সময় ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ঢাকার ডাক্তারদের মাঝে একজন গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
ঢাকা ও রাজশা হীতে আহতদের চিকিৎসার জন্য তিনি কন্ট্রোল রুম স্থাপন, ফান্ড রেইজিং এবং ঔষধ সরবরাহে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।আহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষৎ, মতবিনিময় এবং আর্থিক সহায়তার কাজে জড়িত আছেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা নিয়ে তার একাধিক বার বৈঠক হয় এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সঙ্গেও মতবিনিময় হয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বৈষ ম্যের অবসান এবং কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
সমাজকল্যাণে অবদান ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর একজন চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ হবার পাশাপাশি একজন নিবে দিত প্রাণ সমাজসেবক হিসেবেও পরিচিত।
ছাত্র জীবনেই সমাজ সেবাতে তাঁর হাতেখড়ি হয় (দি অ্যা থলেটস) ক্লাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
প্রতিষ্ঠানটি কাদিরগঞ্জ-এর প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের ফ্রি স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করত।
এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জনের পর রাজশাহী নগরীর ডাঁশ মারী এলাকায় দাওয়াতুল ইসলাম ট্রাস্টের মাধ্যমে হতদ রিদ্রদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদানের কর্মসূচি হাতে নেন।
রাবেতা আলমে আল ইসলামির অর্থায়নে পল্লী চিকিৎসক প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন করেন এবং ফ্রি সার্ভিস প্রদানের মাধ্যমে পল্লী চিকিৎসক তৈরিতে ভূমিকা রাখেন।
এই পল্লী চিকিৎসকগণের দ্বারা তিনি প্রত্যন্ত পল্লীর মানু ষেরা সেবা ও স্বাস্থ্য শিক্ষার এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছেন। তাঁর নেতৃত্বে একাধিক গুরুত্বপূর্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে যা স্থানীয় মানুষের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করেছে।
ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল লক্ষীপুর, ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক নার্সিং কলেজ ও ইনিস্টিটিউট, ইসলামী ব্যাংক ইনিস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তিনি প্রতিষ্ঠা কালীন অন্যতম উদ্যেক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা ডিরেক্টর।
এসকল প্রতিষ্ঠান উত্তরবঙ্গের হাজার হাজার মানুষকে কম খরচে উন্নত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করছে এবং শত শত রাজশাহীবাসীর কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শতশত অসহায় মানুষ বিনামূল্যে খৎনা, ছানি অপারেশন, ঠোঁট ঠোঁট কাটা, তালু কাটার মতো জটিল অপারেশন করতে পারছেন।
এখান থেকে প্রচুর সংখ্যক দক্ষ স্বাস্থ্য কর্মী তৈরি হচ্ছে, যারা শুধু দেশের অভ্যন্তরেই সেবা দিচ্ছে না বিদেশেও সুনামের সঙ্গে কাজ করে রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে জাতী য় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএসসি থেকে এম ফিল ও পিএইচডি ডিগ্রীকে বিএমডিসির স্বীকৃতি এনে দিতে কাজ করেন; যার ফলে চিকিৎসকবৃন্দের কর্মজী বনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট সদস্য হিসেবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রী চালু করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ফলে অসংখ্য চিকিৎসকের উচ্চ শিক্ষার পথ প্রশস্ত হয়েছে।
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর অসংখ্য সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ)-এর আজীবন সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় কাউ ন্সিলর পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক এবং জাতীয় অ্যানেস্থেসিওলজিট ফোরামের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
বহরমপুর উত্তরা জামে মসজিদের, রানী বাজার জামে মসজিদের উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় বিভিন্ন সময় ভূমিকা রেখেছেন।
বর্তমানে তিনি সিনিয়র নাগরিক ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রে টারি এবং দাওয়াতুল ইসলাম ট্রাস্ট পরিচালিত এতিম খানার সভাপতি। রাজশাহী উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে।
স্থানীয় উন্নয়ন, দরিদ্রদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক সহয় তা প্রদান, ত্রাণ বিতরণ, অসহায় মানুষের মাঝে খাবার ও শীতবস্ত্র বিতরণ প্রভৃতি সমাজসেবামূলক কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
এলাকার উন্নয়নে মাদক, জুয়া ও ইভটিজিং দূরীকরণ, বৃক্ষরোপন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, টিউবয়েল, মসজিদ, ওযুখানা নির্মাণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
গবেষণা, প্রকাশনা ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং কোভিড-১৯ সহ জনস্বাস্থ্যের বিভিন্ন বিষয়ে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জা র্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৯ সালে মালয়েশিয়াতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সেমিনারে শ্রেষ্ঠ প্রেজেন্টর হিসেবে অ্যাওয়ার্ড পান।
জনকল্যানে ডাঃ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের ভিশন বাংলা দেশের উত্তর জনপদের এক ঐতিহ্যবাহী শহর রাজশাহী। শিক্ষানগরী হিসেবেখ্যাত এই শহরের বুকে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অধিকারী এই শহরের প্রতিটি মানুষ স্বপ্ন দেখে একটি উন্নত নিরাপদ ও মানবিক নগর জীবনের।
এখন সময় এসেছে রাজশাহীকে কেবল একটি বিভাগীয় শহর নয়; বরং একটি আধুনিক, স্মার্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরীতে রূপান্তরের।
সময় এসেছে এমন নেতৃত্বের যিনি বা যারা জনগণের জন্য চিন্তা ও কাজ করেন এবং তাদের পাশে থাকেন। এই ভাবনা থেকেই রাজশাহী-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর উপস্থাপন করেছেন একটি পরিচ্ছন্ন, বাস্তবভিত্তিক ও যুগোপযোগী উন্নয়ন ভিশন যা শিক্ষিত, সচেতন, কর্মক্ষম ও নৈতিক মূল্য বোধসম্পন্ন একটি স্মার্ট রাজশাহী গড়ার অঙ্গীকার।
এদিকে স্থানীয়রা বলছে,মনোনয়ন ও কমিটি নিয়ে মহা নগর বিএনপিতে মতবিরোধ রয়েছে।
এছাড়াও বার বার একই ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে নেতৃত্ব বিকাশের পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে বলে অনেকে মন্তব্য করে ছেন।
যা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছেন না।তারা সভা সমাবেশে প্রকাশ্য দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সরব থাকলেও, গোপণে নিরব ভূমিকা পালন করছে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিপক্ষে কাজ করছে বলেও আলো চনা রয়েছে।
এখানে বিএনপির মতবিরোধ কাজে লাগিয়ে জামায়াত বিজয়ী হবার স্বপ্ন দেখছেন বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।#
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে
রাজশাহী-২ আসনে আলোচনায় জামায়াত প্রার্থী ডাঃ জাহাঙ্গীর