Related Articles
আলিফ হোসেন,তানোরঃ
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে এবার বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে।
নির্বাচন নিয়ে এখন উত্তাপ ছড়াচ্ছে চায়ের দোকানে। চল ছে নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।
বিএনপির একজন কর্মী বলেন, “১৭ বছর যাঁদের আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে দেখেছি, এখন তাঁদের আবার বিএ নপির মিছিলে দেখছি।
নেতারা মনে করছেন, জয় পেতে আওয়ামী লীগের ভোট লাগবে। আওয়ামী লীগের ভোটারগণ বলছে, তারা আগা মিতে দিনেও ভালো থাকতে বিএনপির পক্ষ নিয়েছেন।
তানোর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আখেরুজ্জামান হান্নান দাবি করেন, “আওয়ামী লীগের ভোটারদের ৮০ শতাংশ ভোট বিএনপি পাবে।
একইভাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভো টও আমাদের দিকে যাবে। ফলে এ আসনে বিএনপি বিপু ল ভোটে জয়লাভ করবেন।”
২০০৮ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত রাজশাহী-১ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এবার বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে নামছে।
বিশেষ করে, প্রায় ৭০ হাজার সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভোটারের কারণে ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাং ক’ হিসেবে পরিচিত এই আসন। সব মিলিয়ে প্রার্থীর ভাগ্য এই ভোটেই নির্ধারিত হবে।
চার প্রার্থী এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ভোটের মাঠে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হল বিএনপির মেজর জেনা রেল (অব.) শরীফ উদ্দীন ও জামায়াতের অধ্যাপক মুজি বুর রহমান।
শরীফ উদ্দীন বিএনপির চেয়ারপারসনের সামরিক উপ দেষ্টা ছিলেন। মুজিবুর রহমান জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এবং ১৯৮৬ সালে একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
১৯৯১-২০০১ সালে আসনটি সংসদ সদস্য হিসেবে দখল করেছিলেন শরীফ উদ্দীনের বড় ভাই আমিনুল হক।
২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ওমর ফা রুক চৌধুরী পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৭৮৬ ভোট। বিএনপির এম এনামুল হক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২৯ হা জার ৪৫০ ভোট।
তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীর ইতিমধ্যে দুজন নেতা জামা য়াতের সমর্থনে মঞ্চে উঠেছেন।
দেবানন্দ বর্মন তানোর উপজেলার হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাবেক সভাপতি। তিনি দাঁড়িপাল্লাকে সমর্থন দিয়েছেন। তানোরের দর্শনাথ দাসও একইভাবে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।
গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে অনেকেই এখনও দ্বিধাগ্রস্ত। পাঁ ঠাকাটার মোড়ের কর্মকার সম্প্রদায়ের এক নারী জানা লেন, “আমরা কী করব বুঝতে পারছি না। যে দল হারবে, সে ভোটের পরে এসে অভিযোগ করতে পারে আমরা ভোট দিই নি।”
গোদাগাড়ী উপজেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা তাদের ভোটারদের নাখোশ অবস্থা তুলে ধরেন। “আমাদের নামে হয়রানিমূলক মামলা করা হয়েছে, তবে আমরা জানিই না। এ সব মামলা করার পিছনে বিএনপি নেতাদের হাত রয়েছে। এই ক্ষোভে সাধারণ কর্মীরা জামায়াতকে ভোট দিতে পারে।
গ্রামের অনেক কেন্দ্রে জামায়াত জিতলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।তবে আরেক নেতা বলেন,বিএনপির পরাজয় হলে পরবর্তীতে মামলার সংখ্যা বাড়তে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই আওয়ামী লীগের ভোটারগণ বিএ নপির পক্ষে ঝুকছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, “আওয়ামী লীগের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গেলে বিএনপিকেই ভোট দেবেন।
২০০৮ সালে ডিজিটাল কারচুপির মাধ্যমে আমাদের ভোট কমানো হয়েছিল। এবার সেই ভোটেই জয় হবে।”
গোদাগাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির নুমাউন আলী বলেন, “আমরা কারও নামে হয়রানিমূলক মামলা করি না। নির্বাচনে জিতলেও বা হারলেও কাউকে ক্ষতি করি না। আমরা জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।”
Bartabd24.com সব খবর সবার আগে