Breaking News

রাজশাহী বিভাগ: বিএনপির জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ ১৬ আসনে

আলিফ হোসেনঃ
ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দরজায় কড়া নাড়ছে। আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় সংসদ নির্বা চন।আওয়ামী লীগ না থাকায় এবার মুল প্রতিদন্দিতা হবে জামায়াত-বিএনপির মধ্যে। ইতমধ্যে  প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে সরগরম প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা।
এদিকে এবার বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলের আসনগুলোতে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে মোট ৩৯টি সংসদীয় আসন আছে। মাঠ পর্যায়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬টি আসনে বিএনপির প্রা র্থীরা তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে পারেন।
অন্য ১৭টি আসনে তারা এগিয়ে থাকলেও জামায়াতের প্রার্থীরা ছয়টি আসনে এগিয়ে রয়েছেন। নির্বাচনের মাঠে দলীয় কোন্দল, বিদ্রোহী প্রার্থী এবং জামায়াতের শক্ত অব স্থান এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মূল কারণ।
এবার রাজশাহী বিভাগের নির্বাচনী মাঠে বিএনপি ও জা মায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র, ফলাফল যে কোনো দিকে যেতে পারে।
জানা গেছে,রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলের চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগ ম জিয়ার সাবেক সামরিক সচিব ও উপদেষ্টা পরিষ দের সদস্য মেজর জেনারেল(অব.)শরীফ উদ্দীন।
তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আ মীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
দুজনকেই শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। শরীফ উদ্দীন নতুন মুখ হলেও তিনি প্রয়াত মন্ত্রী ও এই আসনের অপ্রতিদন্দী নেতৃত্ব ব্যারিস্টার আমিনুল হকের ছোট ভাই।
অন্যদিকে, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ১৯৮৬ সালে এ আ সন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং একা ধিকবার নির্বাচন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
তবে এখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রায় এক লাখ ২০ হাজার ভোট,যা আওয়ামী সমর্থক হিসেবে বিবেচিত।অভিজ্ঞ মহলের ভাষ্য, যেহেতু বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একটি দল, তাই আওয়ামী লীগের ভোটররা হয়তো সেদিকেই ঝুঁকতে পারেন।
আদর্শিক জায়গা থেকে আওয়ামী লীগ-জামায়াত পুরো পুরি বিপরীতমুখী। তাই তাদের প্রতি আওয়ামী লীগের সহানুভূতি কমই থাকবে।
আবার যেহেতু ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লী গের পতন হয়েছে, তাই নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি), গণ-অধিকার পরিষদ বিবেচ্য না হওয়ার সম্ভা বনাই বেশি আওয়ামী মতাদর্শী ভোটারদের কাছে। এদিক থেকে শরীফ উদ্দিন অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ডিএমডি জিয়াউর রহমান জিয়া।
তার বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী ডা. আব্দুল বারী সর দার। জিয়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিজ্ঞ হলেও ডা. বারী সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন।
বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং জা মায়াত প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে এ আসনেও জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে পরিস্থিতি আরও জটিল। এখানে বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক নজরুল ইস লামের পাশাপাশি বিদ্রোহী হিসেবে মাঠে আছেন ইসফা খায়রুল হক শিমুল ও প্রবাসী নেতা ব্যারিস্টার রেজাউল করিম।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মনজুর রহমানও সক্রিয় প্রচারণা চালাচ্ছেন। একাধিক প্রভাবশালী প্রার্থীর কারণে এ আসনে চারমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
ফলে এখানে বিএনপিকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।রাজশাহী-২ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু ও জামায়াত প্রার্থী ডাঃ জাহাঙ্গীরের মধ্যে তীব্র প্রতিদন্দীতা হবে।রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এবং রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে আবু সাঈদ চাঁদ তুলনামূলক ভাবে কিছুটা ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
এসব আসনেও জামায়াতের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা কর ছেন রাজশাহী-৩ আসনে অধ্যাপক আবুল কালাম আ জাদ এবং রাজশাহী-৬ আসনে অধ্যক্ষ নাজমুল হক।
এদের মধ্যে ডা: জাহাঙ্গীর ও নাজমুল হক ভোটে মাঠে নতুন। তবে অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল, গোমস্তাপুর, ভোলা হাট)আসনে বিএনপির আমিনুল ইসলাম ও জামায়াতের মু. মিজানুর রহমানের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র।বিশেষ করে একানে মনোনয়ন নিয়ে মতবিরোধ বিএনপির জন্য গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনে বিএনপির হারুনুর রশীদ ও জামায়াতের নুরুল ইসলাম বুলবুলের মধ্যে তীব্র লড়াই হবে।
নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনে বিএনপির ফা রজানা শারমীন, শক্ত বিদ্রোহী প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু এবং জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ ভোটের মাঠে রয়েছেন। এখানে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিএনপি অনেকটা বেকায়দায় রয়েছে।
নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনে বিএনপির রুহুল কুদ্দু স তালুকদার দুলু ও জামায়াতের ইউনুস আলীর মধ্যে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনে বিএনপির আনোয়ারুল ইসলা ম, বিদ্রোহী প্রার্থী দাউদার মাহমুদ ও ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির জার্জিস কাদির হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে নওগাঁ অঞ্চলের নওগাঁ-৩ (মহাদেবপুর-বদল গাছি) আসনে বিএনপির ফজলে হুদা বিদ্রোহী প্রার্থী পার ভেজ আরেফিন সিদ্দিকী এবং জামায়াতের মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু জামায়াতের আবু সাদাত মো. সায়েমের সঙ্গে লড়বেন। নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনে বিএনপির শেখ মো. রেজাউল ইসলাম, বিদ্রোহী প্রার্থী আলমগীর কবির এবং জামায়াতের খবিরুল ইসলামের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
এদিকে বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএন পিকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। বগুড়া-১ (সা রিয়াকান্দি-সোনাতলা) আসনে বিএনপির কাজী রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের মো. শাহাবুদ্দিন, বগুড়া-৩ (আদ মদিঘী-দুপচাঁচিয়া) আসনে আব্দুল মহিত তালুকদার ও জামায়াতের নূর মোহাম্মদ, বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে বিএনপির মোশারফ হোসেন ও জামায়াতের মোস্তফা ফয়সাল লড়াই করবেন।
সিরাজগঞ্জের চার ও পাঁচ নম্বর আসন, পাবনা-১ এবং অ ন্যান্য আসনেও বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহা ড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা দিচ্ছে।
এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াত দু’পক্ষই প্রার্থীর পরি চিতি, স্থানীয় সেবা কার্যক্রম এবং দলীয় শক্তি ব্যবহার করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
এবিষয়ে বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পা দক সৈয়দ শাহীন শওকত জানিয়েছেন, কিছু এলাকা জা মায়াত অধ্যুষিত এবং কিছুতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় চ্যালেঞ্জ থাকবে।
তবে দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে ভোটের মাঠকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিদ্রোহীদের বোঝানো হচ্ছে যাতে তারা ভো টের মাঠ থেকে সরে যান।
সুত্র বলছে, মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯টি আসনের মধ্যে ২৩টিতে বিএনপি প্রার্থী এগিয়ে আছেন।
বাকি আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়ে ছেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তা রেক রহমান ভোটের মাঠে এগিয়ে থাকলেও জামায়াত প্রার্থী এক লাখ থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ভোট পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজশাহী জোনের জামায়াতের পরিচালক মো. শাহাবু দ্দিন বলেন, ‘কিছু কিছু জায়গায় আমাদের সাংগঠনিক অবস্থান দুর্বল হলেও এখন আমরা সক্রিয় প্রচারণা চা লাচ্ছি।
মহিলা ভোটারদের মাঝে দলের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। রাজশাহী জোনে দু’একটি আসন বাদে সব জায়গায় ভা লো অবস্থান রয়েছে।#

About admin

Check Also

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের রান উইথ ম্যারাথন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের ৪৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দুর্নীতিবাজদের লালকার্ড দেখানোর মধ্য দিয়ে …