Breaking News

বাংলাদেশের রাজনীতি ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপট

মোঃ ইয়াকুব আলীঃ একজন খেটে খাওয়া দিন মজুরও জানেন তার মাথায় কোন রোগ হলে তিনি মাথা কেঁটে বাদ দেননা।
বরং তিনি তার মাথার রোগ নিরাময় করতে ভালো একজন  চিকিৎকের দ্বারস্থ হন।
তেমনি ভাবে রাষ্ট্রের উন্নয়ন করতে ক্ষমতার পালাবদ লের পদ্ধতি,নির্বাচন কমিশন,সরকার গঠন,বিচার বিভাগ স্বাধীন,দুর্নীতি দমন কমিশন,বাংলাদেশ সিভিল সার্ভি স কমি শন (পিএসসি)সহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গুলো সংস্কারের জন্য দেশের সকল জনগনকেে ঐক্য বদ্ধ হয়ে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
আমরা দেশ স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও আমরা স্বাধীন হতে পারিনি। আজও আমরা বাংলাদেশী হতে পারি নি।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতীয় আধিপত্যবাদ জেগে বসেছিল।
চলমান ও অতিড দেশের রাজনীতিতে  সমস্যা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়া কেমন ছিল তার ইতিহাস বিভিন্ন পত্র পত্রিকার মাধ্যমে যেটা জানা যায়।
 ২০২৪ সালে ছাত্র জনতা জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গন প্রতিরোধের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়। তিনি  দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।
২০২৪ সর্বশেষ বিতর্কিত নির্বাচন শেখ হাসিনার নেতৃ ত্বে আরেকটি (ডেমি)ভুয়া একতরফা  ভোট করে ক্ষম তায় দখল করেম।
আর জাতীয় পাটি কে জাতীয়  সংসদে গৃহ পালিত বিরোধী দল করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হয়।
যে কারনে ওই  সময়  বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে। আর জামায়াত ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধ করে আওয়া মীলীগ সরকার।
এ বছরের ৭ জানুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন হয়। মাত্র সাত মাসের ব্যবধানেগণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসি নার পতন ঘটে।
শেখ হাসিনার সরকার জুলাই-২৪ কোটা ব্যবস্থা পুনঃ র্বহাল রেখে এ মুক্তি যোদ্ধাদের সন্তানদের এমনকি তাদের নাতী-পুতিদের কোটার অগ্রাধিকার দেয়।
এর ফলে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে দেশজুড়ে গণবি ক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলনই পরে ‘জুলাই বিপ্লব’ নামে পরিচিত হয়।
 আওয়ামী সরকার কঠোর দমন পীড়ন শুরু কর লে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়।
নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতায়  আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ প্রায় ১৪০০ জন শহীদ হন।  
শেখ হাসিনা পালিয়ে যাবার পর (৮ আগষ্ট)গত দেড় বছর ধরে বর্তমান অন্তর্বর্তী কালীন সরকার প্রধান হিসেবে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড.মোহাম্মদ ইউ নুসের নের্তৃত্বে দেশ পরিচালিত হয়ে আসছে।
তিনি দেশকে ঢেলে সাজানোর জন্য  রাষ্ট্র সংস্কার ও অবাধ এবং সুষ্ঠ নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ শুরু করে।
দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচন বর্জন কারচুপিরসহ সহিসতার ঘটনা ঘটে আসছে। নির্বাচন কালীন সময়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে।
যে কারনে তিনি শুরু থেকেই বলে আসছেন এবারা রের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতি হাসের সেরা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশবাসী সেই ভোটের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে প্রায় ১২ কোটির মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ কর বেন।
এবারের ভোটে তিনি চমক দেখিয়েছেন প্রথম বারের মত প্রায় দেড় কোটি (১৫ মিলিয়ন) প্রবাসী বাংলাদেশি ডাক যোগে ভোট দেয়ার সুযোগ পেয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয়পাটির আধিপত্যে ছিল।
তবে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলাম দেশে বেশ প্রভাব বিস্তার করেছে। 
জামায়াতের দলীয় প্রধান মতিউর রহমান নিজামী ,সেক্রেটারী আলী আহসান মুজাহিদ,কামরুজ্জা মান,কাদের মোল্লাসহ বেশকয়েক জনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অপরাধীর অভিযোগ তুলে ফাঁসী দেয় বিগত আও য়ামীলীগ সরকার।
শুধু তাই না  সেই সাথে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী,মাওলানা আযহারীসহ অসংখ্য আলেম উলা মাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে। 
২০২৪ সালের আন্দোলন দমনে সহিংসতা কারণে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হওয়ায় দল টি নিষিদ্ধ করা হয়। 
শেখ হাসিনাকে তরুন ছাত্র সমাজের বিক্ষোভ কারী দের হত্যার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে  আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মাধ্যমে তার শাস্তি হয় মৃত্যুদণ্ড ।
তবে তিনি  ভারতে আশ্রয় নেয়ায়,ভারত সরকার এখনো তার প্রত্যর্পণে সম্মত হয়নি।
দেশে বর্তমানে চালু রয়েছে একক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থা এবং প্রধানমন্ত্রী সাধারণত একজন আনুষ্ঠা নিক রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের জন্য মোট ১ হাজা র ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিএনপিসক কয়েক দল জোট ও জামায়াতে ইসলামী দুটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল ১১ দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।  প্রতি পাঁচ বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত দেশে ১১বার সরকার ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। তবে এর মাঝে মাঝে সামরিক শাসনের সময় কালও ছিল।
১৯৭০ স্বাধীনতার আগের পাকিস্তান নির্বাচন বাংলা দেশ পাকিস্তানের অংশ থাকাকালীন ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে পূর্ব ও পশ্চিম পাকি স্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
দুটি অঞ্চল ভারতের মাধ্যমে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল এবং পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি জন গোষ্ঠী তখন স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করছিল।
শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬২টি আস নের প্রায় সবগুলোতেই জয় লাভ করে।
এর ফলে তারা তৎকালীন ৩১৩ আসনের পাকি স্তান জাতীয় পরিষদেও কার্যত সংখ্যা গরিষ্ঠতা অর্জন করে।
সে অনুযায়ী পুরো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের।
এরপর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে পূর্ব পাকিস্তানজুড়ে। এক পর্যায়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে সহিংস অভিযান চালায়।
পরবর্তীতে এটি রূপ নেয় বিদ্রোহী বাঙালি সেনা ও জনতার সঙ্গে পাক বাহিনীর তীব্র যুদ্ধে।
মার্চ থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের এই মুক্তিযুদ্ধ হয়। এতে লাখ লাখ  নারী পুরুষ  নির্যাতনের শিকার হন।
সংঘাতের শুরুতেই কারাবন্দি করা হয় শেখ মুজিব কে। তার অনুপস্থিতিতে ভারতে কলকাতা থেকে এক টি অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভের পর ১৯৭২ সালের জানু য়ারিতে মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিব স্বাধীন বাংলা দেশের প্রধানম ন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৩ সালের মার্চে বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে ১৪টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। আও য়ামী লীগ ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩০০ আস নের মধ্যে ২৯৩টিতেই জয় লাভ করে।
যদিও দলটি জয়ী হওয়ার সম্ভাবনায় এগিয়ে ছিল,।
তৎকালীন শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে ব্যালট বাক্স ভরা নো, বিরোধী নেতাদের ভয় দেখানো ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা হয়।
বিরোধী দল জাসদ ও জাতীয় লীগ মাত্র একটি করে আসন পায় ওই নির্বাচনে।
এরপর ১৯৭৪ সালে শেখ মুজিব সব বিরোধী দল নিষিদ্ধ করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেন এবং সংসদে সাংবাদিকদের প্রবেশ সী মিত করেন।
১৯৭৯ বহুদলীয় নির্বাচন১৯৭৫ সালের আগস্টে সেনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে সংঘটিত এক রক্ত ক্ষয়ী অভ্যু ত্থানে শেখ মুজিব ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হলে অর্থমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ নিজে কে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।
এরপর পাল্টা অভ্যুত্থান, ক্ষমতার লড়াই এবং সাম রিক প্রভাবের মধ্যে দিয়ে দেশ পরিচা লিত হয়। বিভিন্ন নাটকীয়তর মধ্য দিয়ে ১৯৭৭ সালে সেনাপ্রধান জিয়া৷ উর রহমান রাষ্ট্রপতি হন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মতো বিষয় পাঠ করায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন।
তার জনপ্রিয়তাও ছিল অনেক। নেতা হিসেবে অর্থনী তিকে উদারী করণের মাধ্যমে সংগ্রামরত দেশে অর্থনৈ তিক পুনরুদ্ধার প্রতিষ্ঠার জন্য তার অবদান অনেক।
তিনি বাঙালি পরিচয়ের পরিবর্তে বাংলাদেশি পরিচ য়ের প্রবর্তন করেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তিনি আবার বহুদলীয় নির্বাচনের সূচনা করে ছিলেন।
১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জাতীয় নির্বা চনের আয়োজন করেন জিয়াউর রহমান।
ওই নির্বাচনে তার গঠিত বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পায়। আওয়ামী লীগ ৩৯টি আসন পেয়ে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলা হয়।
১৯৮৬ ও ১৯৮৮ বিতর্কিত নির্বাচন ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর কে হত্যার পর, উপ-রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হন এবং একই বছরের নভে ম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন।
বিএনপি আবার ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে  বিজয় হয়ে ছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৮২ সালের মার্চ মাসে সামরিক আ ইন জারি করে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষম তার মসনদ দখল করে।
এরশাদ পরবর্তী চার বছর শাসন করেন। ১৯৮৬ সালে র মে মাসে যখন তিনি নির্বাচন করেন, তখন তার জা তীয় পার্টি ১৮৩টি আসন জিতে সংসদীয় সংখ্যাগ রিষ্ঠতা অর্জন করে।
বিরোধী দলগুলো ভোট বর্জন করে এটিকে একটি প্রতারণা  ভোট বলে অভিহিত করে।
বিরোধী দলগুলো আবারও ১৯৮৮ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে অন্যায্য এবং কারচুপিপূর্ণ  ভোট বলে সমালোচনা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় এরশাদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় দেশজুড়ে।
১৯৯১ সালে ‘অবাধ সুষ্ট নির্বাচনের দাবীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এবং শেখ হাসিনার নের্তৃত্বে আওয়ামীলীগ ওবং জামায়াতের  জোটগতভাবে  গণবিক্ষোভ করে।
এর ফলে  স্বৈরাচার এরশাদের সরকারের পতন হয়।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে, সেই সরকার পরবর্তী বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি নতুন নির্বাচ নের আয়োজন করে। যেটা ছিল, বাংলাদেশের ইতি হাসে সুষ্ঠু নির্বাচন বলে বিবচিত হয়।
ওই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার বিএনপি ১৪০টি আসন পায়, যেখানে হাসিনার আওয়ামী লীগ পায় ৮৮টি আসন। আর ৩৫টি আসন পায় জাতীয় পার্টি। 
 এবার বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন।
১৯৯৬  শেখ হাসিনার প্রথম জয় মাগুরা-২ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।
উপনির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জেতার পর আও য়ামী লীগ ভোট কারচুপির অভিযোগ তোলে এবং খালেদা জিয়াকে আগামী নির্বাচন আয়ো জনের জন্য কেয়ার টেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চাপ শুরু করে।
 খালেদা জিয়া চাপ উপেক্ষা করে ক্ষমতা সীন অব স্থায় ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন আয়োজন করেন।
 এ নির্বাচন প্রায় সব বিরোধী দল বয়কট করে। সেটি তে মাত্র ২১শতাংশ ভোটার ভোটা ধিকার প্রয়োগ করেন।
অন্য দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় বিএন পি প্রায় সব আসনে জয়ী হয়।
এ সময় অব্যাহত ধর্মঘটের কারণে নির্বাচনের মাত্র ১২ দিনের মাথায় বিএনপি সরকার সংবিধানে পরিবর্তন করে কেয়ারটেকার সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়। এরপর ওই বছরের ১২ জুন নির্বাচন অনু ষ্ঠিত হয়।
এতে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভোটার ভোট দেন। ওই নির্বাচন কেও সুষ্ঠু হিসেবে দেখা হয়।
সেবার শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো প্রধানম ন্ত্রী হন।
ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ১৪৬টি আসনে জয়ী হয়, বিএনপি পায় ১১৬টি আসন।
২০০১ সালের নির্বাচন  বিএনপি পুনরায় ক্ষম তায় ২০০১ সালের অক্টোবরে আরেকটি কেয়া রটেকার সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হয়।
ওই বছর বিএনপির জনপ্রিয়তা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়।
দলটি একাই ১৯৩ আসনে জয় পায়। ভরাডুবি হয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের। তারা মাত্র ৬২টি আসনে পেয়েছিল।
নির্বাচনটি শান্ত পরিবেশেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু ওই সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর নির্যাতনের খবরও পাওয়া যায়।
বিএনপি এত আসনে জেতার পর খালেদা জি য়া দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করেন।
২০০৬ সালে বিএনপি, বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে কেয়া রটেকার সর কারের প্রধান কে হবেন এ নিয়ে ব্যাপক দ্বন্দ্ব শুরু হয়।
একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে প্রধা নমন্ত্রী খালেদা জিয়া কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান হিসে বে সমর্থন দিলে সংঘাতে ছড়িয়ে পড়ে।
দলগুলো কেয়ারটেকার সরকার প্রধান নিয়ে ঐক্যে পৌঁছাতে না পারায় তৎকালীন প্রেসি ডেন্ট ইয়াজ উদ্দিন আহমেদ নিজেকে কেয়ার টেকার সরকার প্রধান হিসেবে ঘোষণা করেন।
এ সময় নির্বাচনে কারচুপির কারনে দেশজুড়ে সংহিং সতা ছড়িড়ে পড়ে।
 এমম পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন আহমেদ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে নিজে দের প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে নির্বাচন নির্ধারিত সময়ে হয়নি।
২০০৮ হাসিনার প্রত্যাবর্তন বিলম্বিত এ নির্বাচন অবশেষে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়।
ওই ভোটে অংশ নেশ ৮০ শতাংশ ভোটার। যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ ছিল।
 ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জোট গঠন করে ২৩০ আসনে জয় পায়। অন্যদিকে ওই বার বিএনপি বিজয় হয় মাত্র ৩০টিতে। 
২০০৯ সালের জানুয়ারিতে নতুন সরকার গঠিত হয়। আবারও ক্ষমতায় ফিরে পায় শেখ হাসিনা।
২০০৭ সালের নির্বাচন বিলম্বের জন্য শেখ হাসি না দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে দোষারোপ কর তেন।
তিনি ক্ষমতায় ফিরে সংবিধান কাটা ছিড়া করে কেয়া রটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেন।
২০১১ সালের জুনে সংসদে কেয়ারটেকার সর কার নিয়ে হওয়া ভোট বর্জন করে বিএনপি।
এটির পক্ষে ২৯১ জন ও বিপক্ষে একজন ভোট পড়ে।
হাসিনা সরকার ওই সময় বিরোধী দলগুলোর ওপর দমন-নিপীড়নসহ নানাভাবে হয়রানি করে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে গৃহবন্দি করা হয়।
বাড়ির প্রবেশের পথে বালি ভর্তি ট্রাক দিয়ে আটকে রাখা হয়।
বিএনপির বর্তমান চেয়ারপার্সন তারেক জিয়াকে মির্থ্যা মামলায় জড়িয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত  করে শেখ হাসিনার সরকার।
ওই সমশ কেয়ারটেকার সরকার বাতিলের কারনে বিএন পি ও তার সমর্থকরা ভোট বর্জন করে।
 আওয়ামীলীগ ওই নির্বাচনে ২৩৪ আসন পায়। যেটি দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে অবৈধ নির্বাচন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
 ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর আবার জাতীয় সংসদ ভোট হয়। ওই বছর প্রথমবার ভোটে ইভিএম ব্যবহার করা হয়।
২০১৪ সালে নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত এই নির্বা চনে অংশ নেয়।
 এ সময় আওয়ামীলীগ কারচুপি করে। বিএনপি ও জামায়াত জোট দলের ওপর ব্যাপক দমন নিপীড়ন চালানো হয়।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করে এবং জামায়াতের একাধিক নেতাকে যুদ্ধাপরাধের অভি যোগে ফাঁসি কার্যকর করা হয়। 
ওই নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে ১৭ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে ভেটে অংশ নিতে দেয়া হয়নি।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনার পতন হলে খালেদা জিয়া রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত  মিথ্যা সকল মামলা থেকে খালাস পান।
আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি আসনে বিজয় হয়।
তবে ওই ভোটটি একটি পাতানো ভোট বলে বিশ্বদর বারে পরিচিতি লাভ করে।
বিগত আওয়ামী সরকার তাদের সুবিধামত সংবিধান ছেড়াকাটা করে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার মসনদ দখলে রাখার চেষ্টা করে আসছিল। তাদের ভীষন ছিল ৪১ বছর। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হলোনা।
 আসুন আমরা সবাই দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে জেঁগে উঠি। পুরাতন ময়লা আবর্জন সব পরিস্কার করি। তাই শুধু মোবাইল ফোন পরির্তন নয়,মোবাইলের সীম কার্ড ও পরিবর্তন করি। নতুন বাংলাদেশ গড়ি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন  হাঁ এর পক্ষে ভোট দেয়ার মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রী সংস্কার করি ।
কারন নাপিতের ছেলেরও তো সখ হয়,যদি তার যোগ্য তা থাকে তাহলে  তিনি কেন রাজা হতে পারবেন না? এ জিজ্ঞাসা শুধু আমার না সমগ্র জাতির ?

About admin

Check Also

দুর্নীতিমুক্ত ও ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিন:ডাঃশফিকুর রহমান

 রাজশাহী প্রতিনিধি: দুর্নীতিমুক্ত, শোষণহীন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে জনগণকে ‘হ্যাঁ’র …

5 comments

  1. বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

  2. двойные рулонные шторы с электроприводом rulonnye-shtory-s-elektroprivodom90.ru .

  3. dorvani.shop – Great variety of stylish items, I’m always finding something new and useful!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *