Breaking News

নির্বাচন ও ইসলামী দৃষ্টি ভঙ্গি

: প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম :
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা।  সেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিমালা সুস্প ষ্টভাবে নির্ধারণ করা রয়েছে।
ঠিক তেমনি নেতৃত্ব নির্বাচন ও শাসনব্যবস্থাও  ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচন হলো নেতৃত্ব নির্ধারণের একটি গ্রহণযোগ্য মাধ্যম, যা ইস লামের মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়; বরং ন্যায় – ইনসা ফ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হলে তা সমর্থনযোগ্য। পবিত্র কুর আনে আল্লাহ তাআলা বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন আমানত তার যোগ্য ব্যক্তির কাছে অর্পণ কর তে এবং মানুষের মধ্যে বিচার করলে ন্যায়বিচার করতে।”
(সূরা নিসা: ৫৮) এই আয়াত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও নেতৃত্ব প্রদা নে যোগ্যতার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, “যখন কোনো দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা কর।” (সহিহ বুখা রি)
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, নেতৃত্বে অযোগ্য ব্যক্তির আ গমন সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।
ইসলামে শাসনকার্য পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো শূরা বা পরামর্শ। কুরআনে বলা হয়েছে, “তাদের কাজসমূহ পরস্পর পরামর্শের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।” (সূরা শূরা: ৩৮)
আধুনিক নির্বাচনী ব্যবস্থা মূলত এই শূরা নীতিরই বাস্তব রূপ, যেখানে জনগণ মত প্রকাশের সুযোগ পায়।
তবে ইসলাম নির্বাচনের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার ওপর কঠোর গুরুত্ব আরোপ করেছে। যেমন সুরা মায়ে দার ২ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন সকল ভালো ও আল্লাহ ভীরু কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো,
আর কোন প্রকার অন্যায়, পাপ ও সীমা লংঘনের কাজে কাউকেই সহোযোগিতা করো না। কিন্তু বর্তমানের অবস্থা হলো – মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, ভোট কেনাবেচা, চাঁদাবাজ, ঋণ খেলাপি, ঘুষ, সন্ত্রাস ও সহিংসতায় জড়িত। যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণরূপে হারাম।
ভোট প্রদান ইসলামের দৃষ্টিতে সাক্ষ্য প্রদানের শামিল। তাই সৎ, যোগ্য, মানবিক ও  সকল প্রকার দুর্নীতি মুক্ত ন্যায়পরায়ণ প্রার্থীকে ভোট দেওয়া একজন মুসলমানের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।
সুতরাং ইসলামী দৃষ্টিতে নির্বাচন নিষিদ্ধ নয়; বরং সকল দলের জন্য সমান অধিকার ভোগের সুযোগ সুবিধা দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে,  ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
তাছাড়া রাসুল স এর মৃত্যুর পরে ৪ খলিফার নির্বাচন পদ্ধতি ছিল ৪ ধরনের।  চার খলিফাই ক্ষমতায় এসেছেন শূরা, যোগ্যতা ও জনগণের বাই‘আত-এর মাধ্যমে—বংশগ ত বা জোরপূর্বক নয়।
আর বাইয়াত মানেই জনগণের রায় তথা গনতান্ত্রিক পদ্ধ তি। হযরত আলী রা: এর নির্বাচণটিও ছিল গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ।
ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্তের উদাহরণ হিসে বে আলোচনা করা হলো :ইসলামের ইতিহাসের দিকে তা কালে আমরা দেখতে পাই যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর ইন্তেকা লের পর চারজন খলিফা মুসলিম উম্মাহর নেতৃত্ব দিয়ে ছেন।
আর এই সময়টাকেই সোনালি যুগ বলা হয়।  তাঁরা পরি চিত ছিলেন খুলাফায়ে রাশেদিন নামে। তাঁদের প্রত্যেকের নির্বাচন পদ্ধতি ছিল ভিন্ন ভিন্ন, তবে সবক্ষেত্রেই শূরা (পরা মর্শ), যোগ্যতা ও জনসমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিচে চার খলিফার নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকা রে আলোচনা করা হলো।
১. হযরত আবু বকর (রা.)রাসূল ﷺ–এর ওফাতের পর আনসার ও মুহাজিরদের মধ্যে আলোচনা হয়। সাকিফা বনু সায়িদা–তে উপস্থিত সাহাবিদের শূরার মাধ্যমে হযরত আবু বকর (রা.)–কে খলিফা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। পরে মসজিদে নববীতে সাধারণ মুসলমানরা তাঁর প্রতি বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) প্রদান করেন।.
সূত্র: সহিহ বুখারি, কিতাবুল আহকাম।
২. হযরত উমর (রা.)
হযরত আবু বকর (রা.) তাঁর জীবদ্দশায় সাহাবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে হযরত উমর (রা.)–কে পরবর্তী খলিফা হি সেবে মনোনীত করেন। তাঁর ইন্তেকালের পর মুসলমানরা এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে উমর (রা.)–এর প্রতি বাইয়াত দেন।
সূত্র: তারিখে তাবারি।
৩. হযরত উসমান (রা.)
হযরত উমর (রা.) মৃত্যুর আগে ৬ জন বিশিষ্ট সাহাবিকে নিয়ে একটি শূরা কমিটি গঠন করেন। এই কমিটির সর্ব সম্মত সিদ্ধান্তে হযরত উসমান (রা.) খলিফা নির্বাচিত হন এবং জনগণের বাইয়াত লাভ করেন।
সূত্র: সহিহ বুখারি, ইতিহাসে ইবনে কাসির।
৪. হযরত আলী (রা.)
হযরত উসমান (রা.) শাহাদাতের পর মদিনার পরিস্থিতি সংকটময় হয়ে ওঠে। সাহাবি ও সাধারণ মুসলমানদের অনুরোধ ও সম্মতিতে হযরত আলী (রা.) খলিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বাইয়াত প্রাপ্ত হন।
অতএব চার খলিফার নির্বাচন পদ্ধতি থেকে স্পষ্ট হয়—ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় নেতৃত্ব বংশানুক্রমিক নয়, বরং যোগ্যতা, শূরা ও জনগণের সম্মতির ভিত্তিতে নির্ধারিত। এই পদ্ধতি আজও ন্যায়ভিত্তিক শাসনের জন্য একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। তথ্য সূত্র: তারিখে তাবারি, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া।

About admin

Check Also

ইসলামের দৃষ্টিতে চুল দাঁড়িতে কলপ লাগানোর বিধান!!

ঃপ্রভাষক জাহাঙ্গীর আলমঃ আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে চুল দাঁড়িতে কালার করা নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছু …